avertisements 2

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, দেশজুড়ে বন্ধ হাইস্কুলের ক্লাস

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ৭ অক্টোবর, বুধবার,২০২৬ | আপডেট: ০৪:৪৭ এএম, ৮ অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,২০২৬

Text

শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। দেশটির বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। কোথাও কোথাও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং রাস্তায় আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে দেশজুড়ে সব হাইস্কুলের ক্লাস স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির দাবিতে লাখো মানুষ বিক্ষোভ করেন। আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত নিয়োগ, দুপুরের খাবারের বিরতি বাড়ানো এবং স্কুলে দৈনিক ক্লাসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা।

এ সময় কয়েকটি হাইস্কুল অবরোধ করে রাখা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। তবে আন্দোলনের আয়োজকদের দাবি, শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। হাইস্কুল শিক্ষার্থী ইউনিয়নের তথ্যমতে, প্রায় ২ হাজার হাইস্কুলে অবরোধ করা হয়েছে অথবা ক্লাস বন্ধ ছিল।

মার্সেই, নঁত ও লিওঁ শহরে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় নামেন বিক্ষোভকারীরা। এসব প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘তারা আসলে আমাদের নিয়ে ভাবে না’ এবং ‘বাঁচো অথবা পড়াশোনা করো’।


স্ট্রাসবুর্গ, লিওঁ ও রেনে শহরে বিক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংস রূপ নেয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় আগুন জ্বালানোর পাশাপাশি পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন।

স্ট্রাসবুর্গের সাম্প্রতিক হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েট ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নেওয়া হুগো ভেটজেল বলেন, জবাব যখন সহিংসতা দিয়ে দেওয়া হয়, তখন বুঝতে হবে গণতন্ত্র আর কাজ করছে না। অভিজাত শ্রেণি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশাল দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দুই সপ্তাহ আগে প্যারিসের সবচেয়ে দরিদ্র শহরতলিগুলোতে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর তা দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সরকার বলছে, এই আন্দোলন এখন শহুরে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এ কারণে কয়েকটি সমাবেশে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে সব হাইস্কুলের ক্লাস স্থগিতের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু।

তিনি বলেন, একটি হাইস্কুল পুড়িয়ে দিলে ওই স্কুলের ভবনের অবস্থা ভালো হয় না। শিক্ষার্থীদের স্কুলের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধানে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ‘অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের’ মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ করে দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগের বয়স ১৮ বছরের নিচে।

দেশটির বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৩ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

প্রধানমন্ত্রী লেকর্নুর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ চলাকালে অন্তত ২১৫ জন কিশোর এবং ৭১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2