avertisements 2

কূটনীতির পথ খোলা, তবে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে যুদ্ধের জন্যও ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ আমরা: ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৮ সেপ্টেম্বর,সোমবার,২০২৬ | আপডেট: ০৫:২৪ এএম, ২৯ সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,২০২৬

Text

আব্বাস আরাগচি। ফাইল ছবি

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় বসতে রাজি, তবে নতুন করে কোনো সামরিক হামলা হলে তার কড়া জবাবও দিতে 'সম্পূর্ণ প্রস্তুত' বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি-র 'মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে একটি সাত দিনের প্রস্তাবের বিশদ রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি।

আরাগচি বলেন, 'আমরা কূটনীতির জন্য প্রস্তুত। আবার একই সাথে আমরা যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত।'

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিলেও তেহরান এখনো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানান ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের দাবি অনুযায়ী যুদ্ধ বন্ধ করা, জব্দ করা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা, নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়ার মতো প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো নেয়, তবেই কেবল ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে।

আরাগচি বলেন, 'আমাদের প্রস্তাব অত্যন্ত স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র যদি নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করে, তবে আমরা প্রণালিটি উন্মুক্ত করতে প্রস্তুত।' তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো নিতে পারে। প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী, ষষ্ঠ দিনে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে এবং সপ্তম দিনে উভয় পক্ষ চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং পরবর্তী সময়ে দেশটির ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে গভীর অনাস্থা প্রকাশ করেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে আলোচনা চলাকালীন সময়েই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছিল এবং চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই তা লঙ্ঘন করেছে। ট্রাম্পকে বিশ্বাস করেন কি না—এমন সরাসরি প্রশ্নের জবাবে আরাগচি বলেন, 'আমরা কেবল নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখি।'

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগের লড়াইগুলো থেকে ইরান শিক্ষা নিয়েছে এবং নিজেদের সামরিক কৌশল পুরোপুরি বদলে ফেলেছে। আরাগচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'যুদ্ধ আবার শুরু হলে তার জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। যেকোনো নতুন আগ্রাসনের মুখে আমরা অবিচল থাকব, এমনকি তা যদি মহাপ্রলয়ের যুদ্ধও (ডুমসডে ওয়ার) হয়। তবে একই সাথে আমরা কূটনীতির পথও খোলা রাখছি।' তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সামরিক হামলা নাকি আলোচনা—সেই সিদ্ধান্ত এখন পুরোপুরি ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেবল চিকিৎসা এবং অন্যান্য 'শান্তিপূর্ণ' উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এমনকি ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা পারমাণবিক জ্বালানি নিয়ে আলোচনা করতেও তেহরান প্রস্তুত। আস্থা তৈরির স্বার্থেই প্রাথমিক সাত দিনের প্রস্তাব থেকে পারমাণবিক বিষয়টি আলাদা রেখে পরবর্তী ধাপের জন্য রাখা হয়েছে বলে তিনি ব্যাখ্যা দেন।

এদিকে গত মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কেন কোনো ভিডিও বার্তায় জনসমক্ষে আসেননি—এমন প্রশ্নের জবাবে আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রাণনাশের সুনির্দিষ্ট হুমকি থাকার কারণে কঠোর নিরাপত্তা সতর্কতা মেনে চলা হচ্ছে। তবে সর্বোচ্চ নেতার নিয়মিত নির্দেশনা ও মতামত মেনেই সরকার, রেভল্যুশনারি গার্ড ও সংসদ সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে তিনি দাবি করেন।
 

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2