avertisements 2

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন কমাতে বড় পরিকল্পনা, চার বছরে অস্থায়ী ভিসা কমবে সাড়ে ৬ লাখ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ৮ অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,২০২৬ | আপডেট: ১১:১১ পিএম, ৮ অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,২০২৬

Text

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশটির প্রধান বিরোধী জোট লিবারেল-ন্যাশনাল কোয়ালিশন। জোটের দাবি, প্রস্তাবিত পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে এটি হবে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে অভিবাসন কমানোর সবচেয়ে বড় উদ্যোগ।

মঙ্গলবার ঘোষণা করা পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, আগামী চার বছরে অস্থায়ী ভিসাধারীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার কমানো হবে। পাশাপাশি পরপর দুই বছর নিট বিদেশি অভিবাসন বছরে ১ লাখে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমান মাত্রার তুলনায় এটি হবে বড় ধরনের হ্রাস।

বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর বলেন, অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় স্বার্থ, আবাসন ও অবকাঠামোর ওপর চাপ বিবেচনায় নিয়েই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অভিবাসনের সংখ্যা কমানো হলে সড়ক, স্কুল, আবাসন ও অন্যান্য অবকাঠামোর ওপর চাপ কমবে এবং দেশটি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য সময় পাবে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েট ভিসায় বড় পরিবর্তন

কোয়ালিশনের পরিকল্পনায় মানবিক ভিসার সংখ্যা অর্ধেক কমিয়ে বছরে ১০ হাজারে নামিয়ে আনার প্রস্তাব রয়েছে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির সংখ্যা কমিয়ে বছরে ২ লাখ ৪০ হাজার করার কথা বলা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হলো অস্থায়ী গ্র্যাজুয়েট ভিসা কর্মসূচি বাতিলের প্রস্তাব। বর্তমানে এই ভিসার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পর নির্দিষ্ট সময় অস্ট্রেলিয়ায় থেকে কাজ ও বসবাসের সুযোগ পান।

তবে দক্ষ কর্মীদের জন্য অস্থায়ী ভিসার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। কোয়ালিশন বলছে, প্রয়োজনীয় দক্ষতা রয়েছে এমন কর্মীদের জন্য অস্থায়ী ভিসার সংখ্যা আরও ১ লাখ বাড়ানো হবে।

নির্মাণ খাতে দক্ষ কর্মীদের ভিসা আবেদনের যে জট তৈরি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তিরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিরোধী জোট।

‘গণহারে অভিবাসনের’ নীতি পরিবর্তনের দাবি

অ্যাঙ্গাস টেইলরের দাবি, লেবার সরকারের সময়ে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থা প্রয়োজনের তুলনায় বড় আকার ধারণ করেছে।

তাঁর ভাষায়, দক্ষ কর্মীভিত্তিক অভিবাসনের পরিবর্তে দেশটি ‘গণহারে অভিবাসনের’ দিকে চলে গেছে। ক্ষমতায় গেলে কোয়ালিশন সেই প্রবণতা পরিবর্তন করবে।

তবে অভিবাসন কমানোর এই পরিকল্পনা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে। কারণ দেশটির অর্থনীতি, শ্রমবাজার ও বিভিন্ন শিল্পে অস্থায়ী ভিসাধারী কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ওয়ান নেশনের চাপ

অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবাসনসংকটের মধ্যে অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও জোরালো হয়েছে। একই সময়ে কট্টর অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ওয়ান নেশন পার্টির চাপও কোয়ালিশনের ওপর বাড়ছে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি জরিপে ওয়ান নেশন কোয়ালিশনের চেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছে। দলটি তিন বছরের মধ্যে অস্থায়ী অভিবাসীর সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

কোয়ালিশনের নতুন পরিকল্পনা গত মাসে লেবার সরকারের ঘোষিত লক্ষ্যের তুলনায় আরও কঠোর। লেবার সরকার ২০২৮ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক নিট বিদেশি অভিবাসন ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য জানিয়েছে।

করোনা-পরবর্তী সময়ে অভিবাসনে বড় উত্থান

করোনা মহামারির সময় প্রায় দুই বছর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক সীমান্ত পুনরায় খুলে দেয়। এরপর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, ব্যাকপ্যাকার ও অস্থায়ী কর্মীদের আগমন বাড়তে থাকায় দেশটির অভিবাসনের হার দ্রুত বেড়ে যায়।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা গতি কমেছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া ১২ মাসে অস্ট্রেলিয়ার নিট বিদেশি অভিবাসন ছিল প্রায় ৩ লাখ ৬ হাজার।

অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৮ সালের আগে হওয়ার কথা নয়। ফলে অভিবাসন নীতি, আবাসনসংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং শ্রমবাজারকে ঘিরে এই বিতর্ক আগামী দিনগুলোতে দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2