avertisements 2

ওসি মাহবুব যে থানায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন: দাবি কথিত ষষ্ঠ স্ত্রীর

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১৯ সেপ্টেম্বর,শনিবার,২০২৬ | আপডেট: ০৬:৪১ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর,শনিবার,২০২৬

Text

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাট থেকে মাহবুব আলম নামে এক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এক নারীসহ আটক করেছে পুলিশ। ওই কর্মকর্তা যে থানায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন নিজেকে মাহবুবের ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করা আন্নি আক্তার।

শুক্রবার নগরীর নাদের হাজির মোড় এলাকার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। সকাল ৭টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা দরজায় ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানানো হয়।

পরে পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলম ও ওই নারীকে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় নিয়ে যায়।

জানা গেছে, ২০২৪ সালে মাহবুব আলম চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। সে সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এরপর তাকে সিরাজগঞ্জ ইন সার্ভিস প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সংযুক্ত করা হয়।

তবে প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কমান্ড্যান্ট জানিয়েছেন, কোনো ছুটি বা অনুমতি না নিয়েই মাহবুব আলম রাজশাহীতে এসেছিলেন।

নাদের হাজির মোড়ের ফ্ল্যাটটি মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেওয়া। সেখানে তার মেয়ে ও জামাই থাকেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ওই ফ্ল্যাটে মাহবুব আলম ও এক নারী অবস্থান করছিলেন। আটক হওয়া ওই নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

মাহবুব আলম দাবি করেছেন, ওই নারী তার স্ত্রী। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে ফ্ল্যাটের বাইরে থাকা আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুবের ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করেন। তার দাবি, চারদিন আগে মাহবুব তাকে তালাক দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে তিনি তালাকের কোনো কাগজ হাতে পাননি।

নওগাঁর বাসিন্দা আন্নি আক্তার একজন নারী উদ্যোক্তা ও বিষয়বস্তু নির্মাতা। তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, মাহবুব যে জেলায় যান, সেখানেই বিয়ে করেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত।

আন্নি আরও অভিযোগ করেন, রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের নিজস্ব একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর আগে সেখানে ওই নারীকে মাহবুবের সঙ্গে দুদিন দেখেছিলেন তিনি। তখন সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি প্রকাশ করেননি।

তার ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব তার কথিত পালিত মেয়ের ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটে গেছেন এবং সেখানে ওই নারীও রয়েছেন। খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে তিনি সেখানে যান। দীর্ঘ সময় দরজায় কড়া নাড়ার পরও কোনো সাড়া না পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও ভেতরে মাহবুব রয়েছেন জানতে পেরে তারা দরজা ভাঙেনি বলে অভিযোগ করেন আন্নি। এরপর তিনি ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

আন্নির দাবি, দুই ঘণ্টারও বেশি সময় মাহবুব ও ওই নারী ভেতর থেকে দরজায় ছিটকিনি লাগিয়ে ছিলেন। পুলিশ ফোন করে দরজা খুলতে বললেও মাহবুব দরজা খোলেননি। পরে দরজা খোলার পর ওই নারীকে নিজের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন তিনি।


থানায় নেওয়ার সময় মাহবুব সাংবাদিকদের বলেন, আন্নিকে তিনি তালাক দিয়েছেন। পুলিশের কাছে তালাকের একটি কাগজও জমা দিয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে ওই নারীর সঙ্গে বিয়ের কাবিননামা দেখাতে পারেননি।

পুলিশ জানিয়েছে, চারদিন আগে আন্নিকে তালাক দেওয়ার একটি কাগজ মাহবুব আলম জমা দিয়েছেন। তবে আন্নির দাবি, তিনি তালাকের কোনো কাগজ পাননি।

এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন আন্নি। শুক্রবার দুপুরে অভিযোগ লেখার কাজ শুরু হয়। এ সময় মাহবুব আলম ও ওই নারীকে থানার পৃথক দুটি কক্ষে রাখা হয়। মাহবুবের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন আন্নি।

চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও ওই নারীর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা থানায় আসার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


সিরাজগঞ্জ ইন সার্ভিস প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ বলেন, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি নেই এবং কাউকে জানিয়েও তিনি রাজশিয়াহীতে যাননি। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করাও অপরাধ।

তিনি আরও বলেন, মাহবুব আলম প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সংযুক্ত থাকলেও নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2