avertisements 2

অস্ট্রেলিয়ায় অধিকাংশ বিদেশি শিক্ষার্থীর পরিবার আনার সুযোগ সীমিত করার ঘোষণা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১৮ সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,২০২৬ | আপডেট: ০২:১৮ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,২০২৬

Text

ভিসা হপিং ঠেকাতে নতুন পদক্ষেপ, অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে বাড়বে নজরদারি
সিডনি, ১৮ সেপ্টেম্বর: অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন পরিকল্পনায় অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে পরিবারের সদস্য বা ডিপেনডেন্ট ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় আসতে হবে। একই সঙ্গে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা দেশটিতে অবস্থান করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নজরদারি ও ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
বৃহস্পতিবার ক্যানবেরায় ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক সরকারের নতুন অভিবাসন পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে একা আসতে হবে
সরকারের ঘোষিত পরিবর্তনের আওতায় অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় আনার সুযোগ সীমিত করা হবে।
গত বছর অস্ট্রেলিয়া ৩ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিসা দিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ হাজার ভিসা দেওয়া হয়েছিল শিক্ষার্থীদের ডিপেনডেন্ট বা পরিবারের সদস্যদের।
তবে কোন ধরনের শিক্ষার্থী বা কোন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের আনার সুযোগ থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বাস্তবায়নকারী নিয়ম এখনো স্পষ্ট নয়।
ভিসা পরিবর্তন করে দীর্ঘদিন থাকার সুযোগ কমবে

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এক ভিসা থেকে অন্য ভিসায় পরিবর্তন করে অস্ট্রেলিয়ায় দীর্ঘদিন থাকার প্রবণতা, যাকে সরকার ‘ভিসা হপিং’ হিসেবে উল্লেখ করেছে, তা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ভিজিটর ভিসায় নতুন করে ‘No Further Stay’ শর্ত যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ভিজিটর ভিসাকে মূলত স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
বৈধ ভিসা ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকারীদের দেশ ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কমপ্লায়েন্স কার্যক্রম বাড়ানো হবে।
এ জন্য অতিরিক্ত ১০০ জন কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। মেলবোর্নের একটি সাবেক কোয়ারেন্টাইন স্থাপনাকে ডিটেনশন সেন্টার হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

চাহিদাসম্পন্ন পেশায় অগ্রাধিকার
নতুন অভিবাসন ব্যবস্থায় অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, শিক্ষা ও আইন প্রয়োগকারী খাতসহ বিভিন্ন পেশাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্যারামেডিক, ইলেকট্রিশিয়ান ও শিক্ষকসহ শত শত পেশা এই ব্যবস্থার আওতায় থাকতে পারে।
প্রতিরক্ষা, সম্পদ, কৃষি, অ্যাকুয়াকালচার ও মৎস্য খাতের আবেদনকারীরাও বাড়তি বিবেচনা পেতে পারেন।

অভিবাসন কমানোর লক্ষ্য
সরকার চলতি অর্থবছরে নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন (NOM) কমিয়ে ২ লাখ ৪৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০২৭–২৮ অর্থবছরের জন্য এই লক্ষ্য ২ লাখ ২৫ হাজার।
অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের হিসাবে, মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত এক বছরে দেশটির NOM ছিল ২ লাখ ৯২ হাজার।

ব্যাকপ্যাকার ভিসাতেও পরিবর্তনের পরিকল্পনা
Working Holiday Maker ভিসার দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরের জন্য ব্যালট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করেছে সরকার। এর সঙ্গে আঞ্চলিক এলাকায় কাজ করার শর্তও থাকবে।
তবে অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কারণে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত প্রযোজ্য হবে না।

সব নিয়ম এখনই কার্যকর নয়
সরকারের ঘোষণায় বেশ কিছু পরিবর্তনের নীতিগত দিক তুলে ধরা হলেও সব ক্ষেত্রে বিস্তারিত বাস্তবায়নকারী নিয়ম প্রকাশিত হয়নি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের ভিসার ক্ষেত্রে কারা ব্যতিক্রম হিসেবে পরিবার আনতে পারবেন, সেটি পরবর্তী নিয়মে আরও পরিষ্কার হওয়ার কথা।
তাই বর্তমান ঘোষণাকে ‘সব শিক্ষার্থীর পরিবার আনা সম্পূর্ণ বন্ধ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা সঠিক হবে না। বরং সরকারের ঘোষিত নীতি অনুযায়ী, অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য আনার সুযোগ সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2