avertisements 2

পাকিস্তানের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুরের ইউরেনিয়াম চালান আসেনি 

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৮ সেপ্টেম্বর,সোমবার,২০২৬ | আপডেট: ০৩:২৭ এএম, ২৯ সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,২০২৬

Text

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম জ্বালানি বাংলাদেশে আনা সম্ভব হয়নি। ২৪ সেপ্টেম্বর জ্বালানিবাহী কার্গো বিমানটি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেটি আসেনি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর ইউরেনিয়ামবাহী বিমানটি বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। তবে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি পরিবহন করা সম্ভব হয়নি।

তবে পাকিস্তান কেন আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, সে বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানতে পারেনি বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইউরেনিয়াম পরিবহনের নতুন সময়সূচি নির্ধারণে কাজ চলছে। রাশিয়া জানিয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এএনআইকে জানান, ইউরেনিয়ামবাহী বিমান আসার কথা থাকায় ঢাকার বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। কর্মকর্তারাও বিমানটির জন্য অপেক্ষায় ছিলেন।

পরে রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা বাংলাদেশকে জানান, বিমানটির চলাচলের জন্য আকাশসীমা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বিমানটি পাঠানো হয়নি।

তবে ঠিক কোন দেশ বা কর্তৃপক্ষ আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এ বিষয়ে রোসাটমের বক্তব্য জানতে এএনআই যোগাযোগ করলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামে পদ্মা নদীর তীরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। রাশিয়ার রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির দুটি চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে। দুই ইউনিটে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

প্রথম ইউনিটের জন্য কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে পৌঁছায়। ওই চালানে ১৬৪টি নতুন জ্বালানি সমাবেশ ছিল।

রাশিয়ার নভোসিবির্স্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে উৎপাদিত জ্বালানি বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় কার্গো বিমানে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। পরে তেজস্ক্রিয়তা প্রতিরোধী বিশেষ কনটেইনারে করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তায় ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়।

এ জন্য ঢাকা থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত বিশেষ ‘গ্রিন করিডর’ও তৈরি করা হয়েছিল।

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2