avertisements 2

বন্যা ও পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, লাখো মানুষের জীবন দুর্বিষহ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১১ জুলাই,শনিবার,২০২৬ | আপডেট: ০৪:৩৯ পিএম, ১১ জুলাই,শনিবার,২০২৬

Text

কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারের জনজীবন বিপর্যস্ত। পাহাড়ধসে কক্সবাজারে গত সাত দিনে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত ৫ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত পানিতে ডুবে ও পাহাড়ধসে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।


সর্বশেষ গত শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে বসতবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় নৌকাডুবিতে রসুলাবাদ এলাকার আবদুল মালেকের মেয়ে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা (১২) মারা যায়। এ ঘটনায় তার দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায় সোলতান আহমদের দুই বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম। একই দিন সকালে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকায় পানিতে ভেসে গিয়ে মারা যায় আরিফুল ইসলামের তিন বছর বয়সী ছেলে পুষ্প। এছাড়া ভোরে চকরিয়ার মছনিয়াকাটা এলাকায় পাহাড়ধসে বসতঘর চাপা পড়ে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু হয়।


জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চকরিয়া ও পেকুয়ার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার, যিনি মাতামুহুরী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন, বলেন, দুই উপজেলায় এক লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি। ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া দুর্গতদের শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কাজ করছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ রহমান জানান, সরকারি হিসাবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা এক লাখ ৫০ হাজার ৬৬২। এর মধ্যে ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ১৪ হাজার ৬১ জন।

তিনি আরও জানান, দুর্গতদের সহায়তায় সরকারিভাবে ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ে জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম চালু রয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, গত ছয় দিনে জেলায় ৭০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিনও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি জানান, এ পরিস্থিতিতে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার জন্য স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর-৩ বহাল রাখা হয়েছে।

avertisements 2