মাধবী-৮০
২০ নভেম্বর ২০২২
মাধবী,
আজ কাতারে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা , বাংলাদেশী মূদ্রায় হিসাব করলে এই বিশ্বকাপের বাজেট ধরা হয়েছে ছাব্বিশ লক্ষ কোটি টাকা । এই আসর বিভিন্ন কারনে অনন্য, বিতর্কিত, সমালোচিত। এটাই একমাত্র বিশ্বকাপের আসর যেটা একটি মাত্র শহরে অনুষ্ঠিত হবে, প্রায় চল্লিশ হাজার দর্শকের থাকার ব্যাবস্থা করা হয়েছে বিলাসবহুল জাহাজে, অসংখ্য দর্শক থাকবে তাঁবুতে, নতুন বিল্ডিং-এ্যাপার্টমেন্ট তৈরী করা হয়েছে ফুটবল প্রেমীদের জন্য আবাসন সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে। এছাড়াও, পার্শ্ববর্তী আরব দেশসমূহ থেকে অনেক দর্শক সকালের ফ্লাইটে এসে খেলা দেখে সন্ধ্যার ফ্লাইটে ফিরে যাবে! কাতার বিশ্বকাপে জনসন্মুখে ওয়াইন সেবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে যার বিরুদ্ধে পশ্চিমা মিডিয়া সরব হয়েছে ! আমি আগাগোড়া আর্জেন্টিনার সমর্থক, তুমি নিশ্চয়ই আর্জেন্টিনা ছাড়া অন্য যে কোন দলের সমর্থক !! তোমার আমার মতের এই বিপরীতমূখী অবস্থান শ্বাসতঃ সুন্দর, ভালোলাগার অনন্য, অকৃত্রিম নিবেদন !!
মাধবী,
আজ সাবেক জাতীয় অধ্যাপক, ভাষা সৈনিক,বিদূষী পন্ডিত সুফিয়া আহমেদের জন্মদিন । আজ আরও একজনের জন্মদিন যিনি ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের কোটি জাতীয়তাবাদী জনতার রাখাল রাজা হয়ে গেছেন, তিনি তারেক রহমান, তাঁরও জন্মদিন বাংলাদেশের কেন্দ্র থেকে প্রান্ত অন্চলে পালিত হচ্ছে ! তাঁদেরকে জন্মদিনের নিরন্তর শুভেচ্ছা । আজ ফুরফুরে মেজাজে ডাক্তারের কাছে গেলাম,বয়সের সাথে সাথে শরীরে বসবাসরত রোগজীবানু সঙ্গী হতে চাইছে, অপ্রতিরোধ্য, তুমি ভালো না বাসলে কি হবে, রোগজীবানু ভালোবেসে ফেলেছে, একটু বেআড়া প্রকৃতির প্রেমিক হতে চায়, আমাকে আস্ত গিলে খেতে চায়, তাই গেলাম ! আজই ডাক্তার সতর্ক করে দিলেন, রিপোর্ট ভালো না বলে নিজ তত্বাবধানে ঔষুধের ডোজ বাড়িয়ে দিলেন। ডাক্তারকে বললাম, গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে বিজয়ীদের সাথে এক কাপ চা, একটা সিঙ্গাড়া অথবা সমুচা টিএসসির সড়কদ্বীপ কিংবা হাকিম চত্বর বা মধুর কেন্টিনে বসে খেয়ে যাওয়ার বড় সাধ আমার, সে সময়টুকু পাবো তো ? ডাক্তার হাসলেন। আমার কাছে এখন মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার মানষিক প্রস্তুতি আছে, সেটা রোগে অথবা স্বৈরাচারের বুলেটে, যেভাবেই হোক ॥ তোমার উপেক্ষা, দহন, বিশ্বাসহীনতী আর অবহেলায় প্রতিদিনের মৃত্যুর চেয়ে ঐ মৃত্যু আমার কাছে সুধাসম।
মাধবী,
জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদকে, আমাদের সুফিয়া চাচী, প্রয়াত ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমদের সহ-ধর্মিনী-অর্ধাঙ্গিনী-জীবনসঙ্গীনীকে কেন যেন খুব মনে পড়ছে, তাঁর জন্মদিনগুলির কিছু স্মৃতি মনে পড়ছে। তাঁর জন্মদিনে অন্ততপক্ষে একটা ফোন করে শুভেচ্ছা জানাতাম, ধন্য হতাম, আনন্দিত হতাম । হঠাৎ মনে হলো, আজ থেকে ঠিক ৭০ বছর বা সাত দশক আগে ১৯৫২ সালের নভেম্বরে কবি জসিম উদ্দীন,বেগম শামসুন্নাহার মাহমুদ এবং ততকালীন এক কুড়ি বছরের সুফিয়া ইব্রাহিম, যিনি পরবর্তীতে সুফিয়া আহমেদ বা আমাদের সুফিয়া চাচী হয়েছিলেন, তুরস্ক ভ্রমন করেছিলেন। আমার প্রিয় কবি নাজিম হিকমতের তুরস্ক সব সময়ই আমার আকর্ষনের কেন্দ্রে থাকে ! তোমার পছন্দ নাও হতে পারে। সে যাইহোক, সুফিয়া ইব্রাহিমের সেই ভ্রমনের ইতিকথা বেগম শামসুন্নাহার মাহমুদের ‘আমার দেখা তুরস্ক’ গ্রন্থে পাওয়া যাবে ! তখনকার তুরস্কের শিল্প-কলা, সংস্কৃতি, সুফিয়া চাচীর কথা, ইত্যাদি ইত্যাদি পাওয়া যাবে ঐ বইতে !
মাধবী,
সুফিয়া আহমেদ সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নেওয়া এক নির্মোহ-নিভৃতচারীনি পন্ডিত ছিলেন। বাবা বিচারপতি ইব্রাহিম ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের বিচারপতি, পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী, বাংলাদেশের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা । স্বামী বাংলাদেশের কিংবদন্তী আইনজীবি, বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে যিনি দু’বার তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ।পুত্র সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, কন্যা লন্ডনে ডাক্তার ! তিনি নিজেও ভাষা সৈনিক ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতেন ! একজন মানুষের জীবনে সফলতার জন্য, একজন নারীর মহিয়সী হয়ে উঠার জন্য আর কি প্রয়োজন মাধবী ? সুফিয়া আহমেদকে বিনম্র শ্রদ্ধা ।
মাধবী,
গতকাল ১৯ নভেম্বর ২০২২,
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মোঃ নয়ন মিয়া কুমিল্লায় বিএনপির গণ সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করছিলো, সোস্যাল মিডিয়ায় দেখলাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে তাকে, অনেককে আহতও করেছে । গনতান্ত্রিক সংগ্রামের সকল শহীদদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা, প্রগাঢ় ভালোবাসা ! আমি বিশ্বাস করি, গনতান্ত্রিক সংগ্রামকে প্রতিহত করতে এভাবে গুলি করে লাভ হয় না! লাঠি-গুলি- টিয়ারগ্যাস, জবাব দেবে বাংলাদেশ !! আগেও লিখেছি, ‘৫২’র ভাষা আন্দোলনের বিজয় এসেছিলো সালাম রফিক, শফিক, জব্বারদের রক্তের ঋণে, ‘৬৯ এর গনঅভ্যূথ্যান এসেছিলো মতিউর রহমান আসাদের রক্তের প্রতিশোধে, ‘৭১এর স্বাধীনতা এসেছিলো লাখো শহীদের রক্তগঙ্গা আর লাখো মা-বোনের সম্ভ্রম পেরিয়ে, ‘৯০ এর বিজয় এসেছিলো জাফর, জয়নাল, দীপালি সাহা, কান্চন, রাউফুন বসুনিয়া, শাহজাহান সিরাজ, আসাদ আহমেদ মুন্না, নূর হোসেন, জিহাদ, ডাঃ মিলনসহ অসংখ্য সহযোদ্ধাদের রক্তের আখরে । আমি বিশ্বাস করি গনতন্ত্রিক সংগ্রামের বিজয় হবেই, নয়নের রক্ত বৃথা যাবে না !
মাধবী,
যতটা উপেক্ষা দাও, ততটা জ্বালাও, ততটা প্রেমানুভূতি ছোঁয়াও এই পুড়ে যাওয়া মনের দেওয়ালে। নজরুলের মত মনে হয়-
তুমি যাহা দাও প্রিয়তমা মোর
তাহা কি ফেলিতে পারি,
তাই দিয়ে তব অভিষেক করি
নয়নে দিলে যে বারি…. !!!
শুভ সন্ধ্যা !
মোঃ আসাদুজ্জামান
আইনজীবি ও মানবাধিকার কর্মী





