জালাল উদ্দিন আহমেদ
গোমাতা - গোহত্যা - গোমাংস এবং কোরবানী
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ৩১ মে,রবিবার,২০২৬ | আপডেট: ১২:০২ এএম, ১০ জুন, বুধবার,২০২৬
বিষয়টি স্পর্শকাতর বটে। তবে ধর্মীয় আবেগের কিছু ছোঁয়া এখানে আছে বলেই হয়তো এতশত কথা বার্তায় বাজারে শোরগোল উঠেছে। একদিকে গোমাতা অন্যদিকে ইদ উল আজহার পশু চাহিদা। আর মধ্যখানে মানব জাতির গোমাংস ভক্ষনের আদ্যান্ত। এই গরুকে নিয়ে দু'দিকে দুটি ধর্মীয় আবেগ জড়িত। কোনটা মান্য করা হবে, কোনটা এড়িয়ে যাওয়ার পর্যায়ে সেটা বিচার বিশ্লেষন করার ক্ষমতা লেখকের নেই। কারন এখানে দু'টি ধর্মীয় পক্ষের আবেগ জড়িত। এক্ষেত্রে একজন মওলানার বক্তব্য বেশ ওজদার বলেই মনে হোল। তিনি বলছেন, গরুকে জাতীয় পশু করা হোক। তাহলেই ভেজাল চুকে যাবে। কি অদ্ভুত কথা। অদ্ভুত বলছি এই কারনে যে, যদি সেটাই করা হোত তাহলে তো আগামী শতবর্ষ পর ভারতে কি আর মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে! আসলেই সমস্যা। ধর্মীয় রাষ্ট্র আর ধর্ম নিয়ে দাঙ্গা ফ্যাসাদ করে সৃষ্টি হওয়া রাষ্ট্রের মধ্যে ফারক এখানেই। মারামারি কাটাকাটির ধর্মযুদ্ধ করে সৃষ্টি হওয়া রাষ্ট্রের মধ্যে কিছু আলাদা বৈশিষ্ট থাকে। যে বিষাক্ত বিষ ঢেলে ধর্মকে সামনে রেখে একটি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিনির্মিত হয় সেখানে ধর্ম পালনের চেয়ে ধর্মকে শো-আপ করানোর বিষয়টি মুখ্য হয়ে যায়। সেখানে ধর্মকে মানুষের অন্তরে প্রবেশ করানোর চেয়ে বিপক্ষ ধর্মের দোষ ত্রুটি আচার বিচারের বিষয়গুলিকে সামনে রেখে মানুষজনের মধ্যে বিভ্রান্তি ও হিংসা বিদ্বেষ ছড়ানো হয়। যারা ধর্ম নিয়ে নিজেদের রুটি রুজির মাপজোক করে সেই শ্রেণীর মানুষেরা এসব নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি ক’রে একটি সুন্দর ও সুস্থ্য সমাজকে অসুস্থ্য করে তোলে। অবশ্য ইদানীং রাজনীতির কদাচার চেহারায় এজাতীয় ধর্মীয় টানাটানি একটু বেশীই হচ্ছে বলে মনে হয়।
ভারতীয় উপমহাদেশে এই ধর্মকে নিয়ে সমাজে বেশ হিংসা প্রতিহিংসার জোয়ার দেখা যায়। অথচ এই বৃহত্তর ভারতকে একসময় মুসলিম শাসনের যোগফলে শান্তি সম্প্রীতি ও সৌহার্দের মহান রাষ্ট্র হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। লক্ষ্য করুন মোঘল বা মুসলিম শাসন পুর্ববর্তী ভারতের আর্থ সামাজিক ও রাজনীতি এবং শাসন নীতির কথা। কিংবা আর্য আগমনের পুর্বের ভারত রাষ্ট্রের কথা। কি ভয়ানক বিশৃংখলা ও অরাজকতার কথা ও কাহিনী। সম্রাট অশোককে নিয়ে একদল হিন্দু বিদ্বান ও বুদ্ধিজীবির দল মোটা মোটা গ্রন্থ রচনা করে, মৌর্য সাম্রাজ্যের মাহাত্ম্য গেয়ে ধন্য হতে চেয়েছেন এবং হয়েছেনও হয়তো। কিন্তু অশোক যে তার শেষ জীবনে মহান স্রষ্ঠার মান্যতা নিয়ে গৌতম বুদ্ধের শান্তি ও সহমর্মিতার আঁচলে সমর্পিত হয়েছিলেন সেটার কৃতজ্ঞতায় আপনাদের হাওয়া পাল্টালোনা কেন? অথচ প্রাচীন ভারতে সে সময় শান্তি প্রগতি ও সৌহার্দের যে বৌদ্ধ ও জৈন কালচার ছিল তা কি মুর্তিপুজক অশোকের তরবারির ধারে খন্ড বিখন্ড হয়নি? আপনারা কেউ বানর পুজা করবেন, কেউ সাপ ব্যাঙ কেউবা হাতি বাঘ গাছ মাছ গরু ছাগল নদী জল এমনকি মনুষ্য অংগ প্রত্যঙ্গও নিয়েও গড়বেন বড় বড় উপাসনালয়। আর এসবের সমন্বয় করে গড়বেন হিন্দু ধর্ম। এই অত্যাধুনিক যুগেও সেই আদিম আচরনের ছলাকলা। ওসব নিয়ে ধর্ম পুজা পার্বন হয়না। বরং ওসব নিয়ে সামাজিক ক্রিয়াকর্ম হতে পারে। ধর্ম নয়। কেন খামোখা নিজেদের পাপের বোঝা বাড়াচ্ছেন। গীতা বেদের শিব ব্রহ্মাদের নিয়ে সামনে আসুন। যেটা সত্য সেটাকে মান্য করুন। না করুন, ভাল কথা। তবে আদিমতা নিয়েই থাকুন। কিন্তু এই ধর্ম নিয়ে কর্মকে জুড়ে দিয়ে সামাজিক বিপর্যয় সৃষ্টি করার মানে কি? ক্ষতিটা কার হচ্ছে জানেন? ক্ষতি হচ্ছে রাষ্ট্রের, সমাজের, অর্থনীতির, উন্নতি প্রগতির। আজকে যে মেধা ও শ্রমের সক্ষমতা এই ভারতীয় উপমহাদেশ ভিত্তিক অঞ্চলগুলির ছিল তা শুধুমাত্র ধর্মের কচকচানির যাঁতাকলে পড়ে এতদাঞ্চলের সেই মেধা শ্রমের অপচয় হচ্ছে। হচ্ছে অবচয়। এসব ধর্মীয় আবেগ অনাচার না থাকলে ভারত আজ সত্যিকার অর্থেই জগত শ্রেষ্ঠের আসনে বসে ছড়ি ঘুরাতো।
আসি মূল প্রসঙ্গে। গোটা ভারতে মুসলিম কমিউনিটি বাদেও একটা মাইনর অংশ আছে যারা গোমাংস ভক্ষন করে। আবার জানামতে হিন্দু সমাজের কিছু অংশও এই আমিষ খাদ্যটির প্রতি আসক্ত। অবশ্য হিন্দু সমাজের ওই বৃহৎ অংশটি ধর্মীয় অছ্যুত বলেও ঘোষিত বলে জানা যায়। আর এই হিন্দু ধর্মে (যেটা আদৌও কোন ধর্ম নয়) এত এত বর্ণ বৈষম্য যে এই একবিংশের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এখনো তাদের সেই ভাগাভাগির যুপকাষ্টে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অধিকারগুলো আদায় করে নেয়ার জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই করে বাঁচতে হয়। এ এক আজব দুনিয়া। শুনেছি আমাজন আল্পাস বা বনে বাদাড়ের আরো সব গহীন অরন্যে এখনো কিছু আদিম মানুষ আছে। কিন্তু আদিম মানুষ না থাকলেও এ কোন্ আদিমতার আচার আচরন যা বিশ্ব সভ্যতায় শ্রেষ্ট হওয়ার লাইনে দাঁড়ানো প্রতিবেশী ভারত নামের রাষ্ট্রে এখনও তা বিদ্যমান। জানিনা কেন এতসব বলছি। আর ভারত পাকিস্তান বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা করতে গেলে কেনইবা এতসব ধর্মীয় কথাবার্তা কলমের নিব বেয়ে উগরে আসে। কোথায় যেন লিখেছিলাম সৃষ্ঠার শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে মানুষের দুটি কাজের প্রাধান্যেই এই জীবন জগতের যতসব আঁকিবুকি। শব্দগুলি ইসলামী ইসলামী মনে হবে হয়তো। কিন্তু মাইরি বলছি, এসব কথা আপনাদের বেদ পুরানেও আছে। হক্কুল এবাদ বা দুনিয়া দারি। স্রেফ বেঁচে থাকার, বড় হওয়ার, শিখরে উঠার, আরো যত দুনিয়ার প্রয়োজনীয় কাজগুলি সঠিক পথে করুন। আর নিজের সংসার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং মানব কল্যানের স্বার্থ সংরক্ষনের হক বা অর্পিত দায়িত্বগুলি যথাযত পালন করুন। আর হক্কুলাহ অর্থাৎ আল্লাহ বা স্রষ্ঠার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন, তার প্রতি অনুগত থাকুন। কারন আমরা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নিয়ে এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে আসিনি। জন্মেছি যখন তখন মরতে আমাকে হবেই। এটাই আমার জন্য বন্দোবস্ত। সুতরাং কে কি খাবে, কে কি পরবে কে কোন মতামত বা মতবাদের অনুসারী হবে এমনকি কে কার সঙ্গী হবে - এসব ব্যক্তি স্বাধীনতায় রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে লাভের থেকে ক্ষতিই বেশী। আগেই বলেছি হক্কুল এবাদ বা দুনিয়াদারি আগে। সুষ্ঠভাবে দুনিয়াদারি করার পরেই আসে হক্কুলহ বা দীনদারি বা ধর্ম পালন। প্রথমটি ব্যক্তি সম্পৃক্ততায় সমাজ ও রাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট আর পরেরটি একান্তই ব্যক্তিগত।
ইতোমধ্যে এই গরু জবেহ বা slaughtering নিয়ে বহুজন বহুভাবে এর ব্যাখ্যা বিশ্লেষন দিয়ে ফেলেছেন। তবে ভারতীয় আঙ্গিকে কুরবানীর SWOT analysis করতে গিয়ে “পদাতিক’’ নামক একটি সামাজিক চ্যানেলের অধ্যাপক আব্দুল হালিম, যিনি অবস্থানগত কারনে একজন ভারতীয়, তার ব্যাখাগুলি শুনলে তো ভারতীয় সমাজবিদ অর্থনীতিবিদদের ঘাম ছুটে যাওয়ার কথা। জানিনা কবে না শুনবো এই অধ্যাপক সাহেব একজন বাংলাদেশী ঘুসপেটিয়া। ওদের ভাষাতেই এই ঘুসপেটিয়া শব্দটি লিপিবদ্ধ করলাম এই কারনে যে একজন দিল্লি শাসনের মাড়োয়ারীর মুখ থেকে বেরিয়েছে বলেই হয়তো অনুপ্রবেশকারী শব্দটি পশ্চিমের বাঙালীদের মুখেও এখন এই ‘ঘুসপেটিয়া’’ শব্দটি স্বতঃসিদ্ধতা পেয়েছে। ধর্ম মিশ্রিত রাজনীতির এই দূরাচারে কি একটি সভ্য রাষ্ট্রের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যায়! মনে রাখতে হবে ১৯৪৭ পরবর্তী বিগত আশি বছর ধরে সর্বধর্ম সমন্বয়ের ভারত রাষ্ট্র এখনো তার সুমহান ধর্ম নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মর্যাদায় বিশ্ব মঞ্চে সমাদৃত।
দেশে ১০ শতাংশ নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন
ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি বাতিল করলেন আদালত
সেই উপদেষ্টারা কে কোথায়
পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যায় সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ
যে কথা হয়নি বলা: শেষ হইয়াও হইলো না শেষ
আজ থেকে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে, কোন পথে কত
সাবেক মেয়র মনজুর আলম ও সনিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
মালয়েশিয়ায় পাচারকালে ৫০ জন উদ্ধার, আটক ৯
বিজিবির তৎপরতায়, বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, ১৭ জন ফিরলো ভারতে
ব্রিটিশ তরুণ নওয়াক হত্যাকাণ্ড, উত্তপ্ত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক
জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় নীল অর্থনীতি
মন্ত্রীত্ব ছেড়ে দিয়ে নতুন সোস্যাল মিডিয়া বার্তা দিলেন দীপেন দেওয়ান
ইউএনওকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
আইসিইউতে পিতা, হোটেলে ওঠেন ছেলে, সেখানেই এক পরিবারের ৮ সদস্যের মৃত্যু
দুনিয়ার সবচেয়ে আজব সেতু বাংলাদেশে!
গাছের সঙ্গে বাঁধা সাত শিশু কাওছারের জীবন!
কারাগারে পরিকল্পনা, তিন মাসেই কোটিপতি ২ যুবক
সিডনিতে দুই বাংলাদেশীর আকস্মিক মৃত্যু
সিডনিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুনী খুন
অক্সফোর্ডের করোনার ভ্যাকসিন বিরোধীতায় অস্ট্রেলিয়ার ইমাম ও আর্চবিশপ
অস্ট্রেলিয়ার কারাগারেই আরেক বন্দিকে কোপালেন সেই বাংলাদেশি ছাত্রী সোমা
কিশোরীর সাথে যৌন সম্পর্কের চেষ্টাঃ সিডনিতে বাংলাদেশী ছাত্র গ্রেপ্তার
মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার সেরা ৪-এ বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কিশোয়ার
হুইপপুত্রের গোপন ব্যবসার বলি তরুণ ব্যাংকার
খোলা চুলে সিগারেট হাতে এবার নতুন বার্তা দিলেন পরীমণি
কুইন্সল্যান্ডে বারবিকিউ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককের আকস্মিক মৃত্যু
মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে পড়ে সিডনির দুই বাংলাদেশীর মৃত্যু
হাটে কচুর লতি বিক্রি নিয়ে মুখ খুললেন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক



