জালাল উদ্দিন আহমেদ
যে কথা হয়নি বলা -২
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১৬ মে,শনিবার,২০২৬ | আপডেট: ০২:০৭ পিএম, ১৬ মে,শনিবার,২০২৬
বাঙালীয়ানার সামগ্রিকতা রাজনৈতিক সংজ্ঞায় দ্বিখন্ডিত হোল। এখন তারা ধর্ম পরিচয়ে দুটি জাতীয়তায় আত্মীকরন হোল। সাতচল্লিশের বাংলা বিভাজনে তারা দুটি বুলন্দ আওয়াজে ‘জয় হিন্দ’ আর ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ ধ্বনিতে আকাশ বাতাস বিদীর্ণ ক'রে নতুন স্বত্ত্বায় আত্মীকরন হোল। কিন্তু বাঙালী তো বাঙালীই। বার ভুঁইয়ার কাদামাটির বঙ্গ বাঙালীর ধাতই আলাদা। হাজার বছরের নিপীড়িত এবং পদে পদে হোঁচট খাওয়া বাঙালী, নদী ভাঙনের বানভাসি বাঙালী কিংবা জন্ম থেকে জ্বলছির বাঙালী, গৌড় কলিঙ্গের বাঙালী থেকে একটু ভিন্ন ধাঁচের। এ বঙ্গের বাঙালী কখনো নিজের অস্মিতা বিসর্জন দিয়ে নিজেকে মাপতে শিখেনি। দিল্লি পিন্ডির জৌলুশের মোহজালে আচ্ছন্ন হয়ে এই কাদামাটির বাঙালী কখনো তাদের আপন অস্তিত্ত্বের শিকড়কে ভুলে যায় নি। ফলে পশ্চিমের বাঙালীরা যখন তাদের বাল্য ও কৈশরে ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ বা ‘বন্দে - মা তুঝে সালাম’ বলে দিল্লিময় হওয়ার স্বপ্ন বুনছে তখন বানভাসি কাদামাটির বাঙালী কেতাবী কায়দা ছেড়ে মনের সুখে ‘ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা’ কিংবা ‘'এই পদ্মা এই মেঘনা এই যমুনা সুরমা নদী তটে’ গেয়ে আপন অস্মিতা বিনির্মানে নিজেদেরকে তৈরী করেছে। বায়ান্নর ভাষা অন্দোলন কিংবা চুয়ান্নর বাঙালীর বাংলা শাসনের যুক্তফ্রন্ট সরকার তার জলজ্যান্ত উদাহারন। ঊনসত্তরের গণ অভ্যুত্থান পাড়ি দিয়ে সত্তরের নির্বাচনোত্তর স্টিগমা পেরিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ বাঙালীকে তার আপন অস্ত্বিত্বে দাঁড় করিয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করা কাদামাটির ম্লেচ্ছ বাঙালী আজ কোমর শক্ত করে দাঁড়িয়ে থাকা স্বাধীন স্বত্ত্বার বাংলাদেশী বাঙ্গালী। ভাঙ্গাগড়া পেরিয়ে স্বাধীন বাঙালী আজ যৌবন পেরিয়ে পরিণত প্রঢ়ৌত্বের শিরদাঁড়া উঁচু করা সার্বভৌম বাংলাদেশী।
১৯৪৭ এ যে ব্রাহ্মন্য অস্মিতায় নাক সিটকিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মাত্র ৮ থেকে ১০% উচ্চবর্ণের হিন্দু রাজনীতিকের ষড়যন্ত্রে পশ্চিম বাংলাকে দিল্লি বলয়ের ভিনভাষী আর্যরক্তের হাতে তুলে দেয়া হোল তা সত্যিই ছিল এক অমার্জনীয় অপরাধ। তবে এসব সাধুবাদ বা অপবাদের কথামালা সাজাতে গেলে তো তীরের ফলাটা নিজেদের কপালে এসে সর্বাগ্রে বিঁধতে চায়। সাধে তো আর সমাজ সংস্কারক মহামতি গোপাল কৃষ্ণ গোখলে “What Bengal thinks today India thinks tomorrow” কথাটি উচ্চারণ করেন নি। এই কথাটি তখনকার সময়ে ভারত আন্দোলনের মাপকাঠিতে বেশ ওজনদার ছিল বৈকি! জ্ঞানে বিজ্ঞানে সাহিত্য সংস্কৃতিতে কিংবা রাজনৈতিক চিন্তা চেতনায় সেসময় বাঙালীরা ছিল সর্বভারতীয় ভ্যানগার্ড। সুতরাং ভালোটা যেমন এসেছে মন্দটাও তেমনি এই বাংলার মাটি থেকে ফুঁড়ে বেরিয়েছে। সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার চালিকা শক্তিই হোল রাজনীতি। এই রাজনীতি অনুশীলনের মাধ্যমে সমাজবদ্ধ মানুষ তাদের রাজনৈতিক পরিপক্কতায় রাষ্ট্র চিন্তার খোরাক পেয়ে থাকে। আর রাজনীতির পরিপক্কতা নিয়েই গোখলে সাহেবের bengal thinks todayর বাঙালীরা ভারত ভূখন্ডে ধর্মীয় রাজনীতির হালখাতা খুলেছিলেন বলে আমরা জেনেছি। হতে পারে রাজনীতির চিন্তা চেতনায় আরও অনেক ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতির গোড়াপত্তন এর আগে হয়েছিল এই ভারতীয় উপমহাদেশে। কিন্তু সর্ব ভারতীয় আঙ্গিকে দু'টি প্রধান ধর্মের মৌলিকতা নিয়ে যে দুটি রাজনৈতিক প্লাটফরম ভারতের মাটিতে উত্থান ঘটেছিল তা কালের বহমানতায় সহস্র বর্ষীয় দূটি বিষফোঁড় বলে মনে করার যথেষ্ট কারন রয়েছে। আর বাঙালীর হেসেল থেকেই গ্রেটার ভারতে রাজনৈতিক বীর্য প্রসূত ধর্মীয় দল তৈরী হয়েছিল।
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ ও তৎপরবর্তী চড়াই উৎরাইয়ে বৃটিশ বেনিয়ারা ভারত শাসক হয়ে হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে ধর্মভিত্তিক বিভাজনের একটা লক্ষ্মনরেখা টানায় বেশ সফলকাম হয়েছিলেন বলে মনে করা হয়। তাছাড়া মুসলমানদের সাম্রাজ্য হারানোর আক্ষেপে তাদের অস্ত্র হাতে মাঠে নামার সুযোগে সব হারানোর কয়েক'শ বছরের হতাশায় ভুগতে থাকা হিন্দু রাজা মহাধিরাজ জমিদার ও ভূস্বামীর দল গোল বেঁধে বৃটিশদের পক্ষভুক্ত হয়ে বৃটিশ ভারতে এক প্রচ্ছন্ন হিন্দু-মুসলিম লক্ষ্মন রেখা তৈরী করে। আর এসবের চলমান ধারাবাহিকতায় গোটা ভারতীয় আঙ্গিকে সংখ্যালঘু মুসলিমরা তাদের আপন অস্তিত্বের স্থায়িত্ব রক্ষার্থে একটি শক্তিশালী রাজনীতির প্লাটফরম গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। এটা ঘটেছিল বৃটিশ অধিকৃত ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়। আবার মুক্ত ভারতের প্রারম্ভিক সময়ে খন্ডিত স্বাধীন ভারতের মাটিতে তৈরী হয়েছিল একটি হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির দল যারা হিন্দুদের অস্তিত্ব ও ঐতিহ্য পুনরুত্থানের স্বপ্নে ভারতকে মনু সংহিতার এক নিখাদ হিন্দু রাষ্ট্র বানানোর স্বপ্নে বিভোর হয়েছিলেন। প্রথমটি হয়েছিল নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে আর স্বাধীন ভারত ভূমিতে যে ধর্মীয় রাজনীতির গোড়াপত্তন হয়েছিল তা স্রেফ হিন্দু সাম্রাজ্যের পসার ও ঐশ্বর্য্য বাড়ানোর তাগিদে। দু'টিই ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের দল। কাকতালীয়ভাবে এই সরভারতীয় রাজনৈতিক দল দু'টির সুতিকাগার হচ্ছে ঢাকা এবং কলকাতা।
উপরের অনুচ্ছেদে যতগুলি কথা বলা হোল তার নাড়ির খবর খুঁজতে গেলে একটি স্থানেই তা থমকে যায়। অর্থৎ নাটের গুরু বাঙালীর উঠান থেকেই এসব ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের কথাগুলি উচ্চারিত হয়েছে। এই বাঙালীর হেঁসেল থেকেই যাত্রা শুরু হয়েছিল মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগের ১৯০৫-০৬ এর দিকে। আবার বাংলা নেতৃত্ব থেকে উত্থাপিত হয়েছিল সেই বিখ্যাত ভারত ভাগের লাহোর প্রস্তাব। ১৯৪০ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের জাতীয় সম্মেলনে বৃহত্তর বাংলার প্রধানমন্ত্রী শের ই বাংলা একে ফজলুল হক মুসলমনদের জন্য আলাদা পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রস্তাব করেছিলেন। সুতরাং এটা না বুঝার কোন কারন নেই যে, কেন নেহেরু জিন্নাহদের রাজনৈতিক দীক্ষাগুরু গোখলে সাহেব what bengal thinks tadayর কথাটি উচ্চারণ করেছিলেন। তবে আমরা জেনেছি সিপাহী বিদ্রোহে মুসলিমদের চুড়ান্ত পরাজয়ের পর যখন মুসলমানরা দখলদার ইংরেজদের প্রকাশ্য শত্রু হিসাবে চিহ্নিত হোল তখন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন তাদের বহুদিনের স্বপ্ন পুরনের একটি মসৃন পথ হয়তো খুঁজে পেয়েছিল। এটাকে খুঁজে পাওয়া না বলে, তৈরী করে নেয়া বলাটাই শ্রেয় হবে হয়তো। তখনকার সময়ে কলকাতা কেন্দ্রিকতার ভারতে বাস্তবে বাঙালী প্রভাবের বিষয়টি বেশ প্রছন্ন ছিল। এই হিন্দু-মুসলিম ইস্যুটিও বোধকরি বাঙালী মাথা থেকেই এসেছে। কেননা এরপর হিন্দু স্বার্থ রক্ষার্থে যেসব পদক্ষেপগুলি বৃটিশদের মাধ্যমে নেয়া হয় তা রীতিমত বিভাজনের চুড়ান্ত রূপরেখা বলেই মনে হয়েছে।
মধ্য ভারতের একজন ডাক্তার কেশব বলিরাম হেজগেওয়ারের নেতৃত্বে ১৯২৫ সালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ বা আর এস এস এর জন্ম হয়। এটি একটি উগ্র ডানপন্থী, হিন্দু জাতীয়তাবাদী একটি স্বেচ্ছাসেবক আধাসামরিক সংগঠন। এটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন (NGO) হিসাবে গন্য করা হয়, যার মূল লক্ষ্য ভারতকে একটি হিন্দুরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। সম্পুর্ণ অরাজনৈতিক উপায়ে হিন্দু সমাজকে ইহজাগতিক ও পলৌকিক ধ্যান ধারনায় সুসংগঠিত করে সামাজিক বিন্যাসে শৃঙ্খলা মজবুত করার লক্ষ্যেই এই প্রতিষ্ঠানের উত্থান হয়েছিল। কিন্তু এর ঠিক ছাব্বিশ বছর পর (১৯৫১ সাল) রাজনীতির ছায়াতলে সামাজিক প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি সামনে আনা হয়। সেক্ষেত্রে রাজনীতির সম্পৃক্ততায় ভারত রাষ্ট্রকে হিন্দু রাষ্ট্র বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে একজন বিখ্যাত বা কুখ্যাত (যাই বলুন না কেন) বাঙালীর মস্তিষ্ক প্রসূত বীর্য থেকে সৃষ্টি হয় জনসংঘ নামক হিন্দু ধর্মীয় এক সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল যা এই মূহুর্তে ভারত শাসনের ক্ষমতাশীল বিজেপি বা ভারতীয় জনতা পার্টি নামে পরিচিত। সুতরাং ইংরেজদের কবল থেকে ভারত মুক্ত করার মাস্টার প্লান যেমন এই বাংলার মাটি থেকে তৈরী হোত তেমনি সাম্প্রদায়িক মেরুকরনে জাতি বিভাজনের বিষয়টিরও পথ-নির্দেশিকা এই বাঙাল মুলক থেকে সৃষ্টি হয়েছিল। সাধুবাদ ও অপবাদের ঝুড়িভরা জঞ্জাল নিয়ে তাইতো বাঙালীর সমগ্রতাকে আজও স্বগোক্তি করতে হয় ‘জন্ম থেকে জ্বলছি'র মত বিষাদময় বাক্য।
-চলমান……
‘আড়াই কোটি টাকায় নিয়োগ’: ৭ দিনের মাথায় প্রত্যাহার মৌলভীবাজারের এসপি
লন্ডনে চিকিৎসার জন্য গিয়ে শপিংয়ে ব্যস্ত ‘অসুস্থ’ রাষ্ট্রপতি
শহরের পরিবারে নীরব ভাঙন
যে কথা হয়নি বলা -২
ফিলিস্তিনিদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান মার্কিন কংগ্রেসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার মারা গেছেন
ওমান উপকূলে ড্রোন হামলায় ডুবে গেছে ভারতীয় জাহাজ
শাপলা গণহত্যার মূল পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বাবু-ফারজানা : চিফ প্রসিকিউটর
দেশে তৈরি হবে ডেঙ্গু ও হামের টিকা,
লেবাননে ইসরাইলি হামলায় সাতক্ষীরার দুই প্রবাসী নিহত
দেশবরেণ্য অভিনেতা আতাউর রহমান আর নেই
যে কথা হয়নি বলা-১
হরমুজ সংকটে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ
লাইফ সাপোর্টে থাকা কারিনা এখন কেমন আছেন
গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা প্রকাশ করা যাবে না
দুনিয়ার সবচেয়ে আজব সেতু বাংলাদেশে!
গাছের সঙ্গে বাঁধা সাত শিশু কাওছারের জীবন!
কারাগারে পরিকল্পনা, তিন মাসেই কোটিপতি ২ যুবক
সিডনিতে দুই বাংলাদেশীর আকস্মিক মৃত্যু
সিডনিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুনী খুন
অক্সফোর্ডের করোনার ভ্যাকসিন বিরোধীতায় অস্ট্রেলিয়ার ইমাম ও আর্চবিশপ
অস্ট্রেলিয়ার কারাগারেই আরেক বন্দিকে কোপালেন সেই বাংলাদেশি ছাত্রী সোমা
কিশোরীর সাথে যৌন সম্পর্কের চেষ্টাঃ সিডনিতে বাংলাদেশী ছাত্র গ্রেপ্তার
মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার সেরা ৪-এ বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কিশোয়ার
হুইপপুত্রের গোপন ব্যবসার বলি তরুণ ব্যাংকার
খোলা চুলে সিগারেট হাতে এবার নতুন বার্তা দিলেন পরীমণি
কুইন্সল্যান্ডে বারবিকিউ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককের আকস্মিক মৃত্যু
মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে পড়ে সিডনির দুই বাংলাদেশীর মৃত্যু
হাটে কচুর লতি বিক্রি নিয়ে মুখ খুললেন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক



