‘কুরবানির হাটে গান নয়, বাজুক তাকবির’— নতুন আহ্বানে আলোচনায় শায়খ আহমাদুল্লাহ
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমে উঠেছে কুরবানির পশুর হাট। তবে পশু কেনাবেচার এই ব্যস্ততার মাঝেই মাইকে উচ্চস্বরে গান বাজানোর সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কুরবানির হাটে গানের পরিবর্তে তাকবির প্রচারের আহ্বান জানান। তার মতে, কুরবানির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদতকে ঘিরে আয়োজিত হাটে গান বাজানো এবং আগত মানুষদের অনিচ্ছাকৃতভাবে তা শুনতে বাধ্য করা অত্যন্ত দুঃখজনক।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘কুরবানির মত একটি মৌলিক ইবাদতকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা হাটে গান বাজানো এবং কুরবানির পশু কিনতে আসা মানুষদের জোরপূর্বক গান শুনতে বাধ্য করা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।’
তিনি এ বিষয়টিকে এক ধরনের ‘অনধিকার চর্চা’ বলেও উল্লেখ করেন।
জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের ফজিলতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন— ‘ইসলামের দৃষ্টিতে এই দিনগুলো অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং এ সময় তাকবির পাঠ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল। সাহাবায়ে কেরামের আমলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, অনেক সাহাবি বাজারে গিয়ে উচ্চস্বরে তাকবির পাঠ করতেন, যাতে অন্যরাও উদ্বুদ্ধ হন।
এই সুন্নাহ পুনরুজ্জীবনের আহ্বান জানিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কুরবানির হাটের মাইকে গানের পরিবর্তে মাঝারি আওয়াজে বিরতি দিয়ে তাকবির প্রচার করা হলে তা হতে পারে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ।
তিনি হাট কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মুসলমানদের এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, যার যার অবস্থান থেকে হাট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া উচিত। এতে হারিয়ে যাওয়া একটি সুন্নাহ পুনরুজ্জীবিত হবে এবং সবাই সওয়াবের অংশীদার হতে পারবেন।
সৌদি আরবের উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, সেখানে বিভিন্ন মসজিদ ও বাসাবাড়িতে ডিভাইসের মাধ্যমে তাকবির প্রচার করা হয়। সাহাবিদের আমলের অনুসরণে জিলহজের প্রথম দশকে আমাদের দেশেও বাসা, দোকান কিংবা পাবলিক ট্রান্সপোর্টে মাঝারি শব্দে তাকবির বাজানো যেতে পারে। এতে মানুষ তাকবির পাঠে আরও উদ্বুদ্ধ হবে।
শায়খ আহমাদুল্লাহর এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই তার প্রস্তাবকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে মন্তব্য করেছেন।
কুরবানির হাট শুধু কেনাবেচার স্থান নয়; এটি ধর্মীয় আবহ, ইসলামী সংস্কৃতি ও ইবাদতের অনুভূতিরও অংশ। তাই এই পরিবেশকে আরও আধ্যাত্মিক ও অর্থবহ করে তুলতে তাকবির প্রচারের মতো উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কুরবানির মৌসুমকে আরও সুন্দর, শালীন ও সুন্নাহসম্মত করে তোলা সম্ভব।





