avertisements 2

পল্লবীতে ৮ বছরের শিশুকে গলাকেটে হত্যা, সন্দেহভাজন সোহেল গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১৯ মে,মঙ্গলবার,২০২৬ | আপডেট: ০৫:৫৬ এএম, ২০ মে, বুধবার,২০২৬

Text

রাজধানীর পল্লবীতে রামিসা আক্তার নামে আট বছরের এক শিশুকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর শিশুটির শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাসার খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ এ খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

পুলিশের ধারণা, হত্যার আগে শিশুটি পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিবেশী সোহেল রানা পালিয়ে যান। পরে সন্ধ্যায় তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক করে পুলিশ। তবে এর আগেই তার স্ত্রী সম্পাকে বাসা থেকে আটক করা হয়। সোহেল-সম্পা দম্পতির ঘরে মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে। সোহেল একটি রিকশার গ্যারেজে কাজ করেন। প্রতিবেশী হওয়ায় রামিসা ও তার বাবা-মায়ের সঙ্গে সোহেলের পরিচয় ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ট্রাভেল এজেন্সির কর্মচারী আব্দুল হান্নান পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার একটি ফ্লাটে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন। এর পাশের ফ্লাটের তিনটি কক্ষে আলাদা তিন পরিবার বাস করে। একটি ঘরে বাস করে সোহেল-সম্পা দম্পতি। সকালে লামিসাকে বাসায় না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বাইরে কোথাও খুঁজে না পেয়ে প্রতিবেশী সোহেলের বাসার বন্ধ দরজায় টোকা দেন। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। ডাকাডাকি করে ভেতর থেকে কারও সাড়া না পেয়ে ৯৯৯ এ বিষয়টি জানানো হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বন্ধ দরজা ভেঙে পুলিশ বাসায় ঢুকে সোহেলের ঘরে রক্ত দেখতে পায়। এর পর প্রথমে খাটের নিচ থেকে শিশুটির মাথাবিহীন মরদেহ পাওয়া যায়। শরীর বিববস্ত্র ছিল। খাটের নিচে এক কোণায় রঙয়ের খালি প্লাস্টিক বালতির মধ্যে কাটা মাথার সন্ধান মেলে। সোহেলের স্ত্রী সম্পা রান্না ঘরে লুকিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগেই সোহেল পালিয়ে যান। অপর দুটি কক্ষ তালাবদ্ধ ছিল। 


পল্লবী থানা পুলিশ ছাড়াও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে।

পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক বলেন, শিশুটির শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। প্রথমে শরীরের অংশ পাওয়া যায়। পরে বাসার ভেতরে একটি বালতির মধ্যে মাথাটি পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, সোহেল শিশুটিকে কৌশলে নিজের ঘরে ডেকে হত্যা করেছে। এর আগে তাকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছিল কিনা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

এমদাদুল হক বলেন, হত্যার পেছনের কারণ, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি এবং অন্য কেউ জড়িত ছিল কিনা-সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার  রাত ৮টায় সমকালকে বলেন, লাশ উদ্ধারের পরপরই পলাতক সোহেলকে আটক জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করে। সন্ধ্যার পর তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে আটক করা হয়।

 

বিষয়: শিশু হত্যা
avertisements 2