avertisements 2

মোস্তাফিজ বিতর্কে বিসিসিআইকে শশী থারুরের তোপ

‘বাংলাদেশ পাকিস্তান নয়, তারা সন্ত্রাসী পাঠায় না’

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ৫ জানুয়ারী,সোমবার,২০২৬ | আপডেট: ০৪:২৯ এএম, ৭ জানুয়ারী, বুধবার,২০২৬

Text

আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কড়া সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস এমপি শশী থারুর। খেলাধুলাকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর সঙ্গে আলাপকালে থারুর বলেন, বিসিসিআইয়ের এই পদক্ষেপ ক্রিকেটের অহেতুক রাজনৈতিকীকরণ। বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কেকেআর মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এরপরই নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন থারুর।

উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের দাবির মুখে মোস্তাফিজুকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে বাংলাদেশ দল ভারতে যাবে বলে আইসিসিকে জানিয়ে দিয়েছে বিসিবি। ভারতে নির্ধারিত বাংলাদেশের চারটি গ্রুপ ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শশী থারুর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন: 'আমি মনে করি বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এটি ক্রীড়া-সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্তে অহেতুক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। এর পেছনে থাকা বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আমার আপত্তি রয়েছে। প্রথমত, ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই সিদ্ধান্তের কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারণ বিসিসিআই নিজেই নিবন্ধিত খেলোয়াড়দের একটি পোল তৈরি করেছিল এবং সেখান থেকেই দলগুলোকে খেলোয়াড় বেছে নিতে বলা হয়েছিল। মোস্তাফিজুর যদি সেই তালিকায় থেকে থাকেন, তবে তাকে নেওয়ার জন্য কেকেআরকে কেন দোষারোপ করা হচ্ছে? সুতরাং, যাকে বিসিসিআই নিজেই যোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে সব দলের সামনে উপস্থাপন করেছে, তাকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে আপত্তি তোলা একেবারেই অর্থহীন।'

থারুর আরও বলেন, 'বাংলাদেশ পাকিস্তান নয়। বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে সন্ত্রাসী পাঠায় না। এই দুই দেশের পরিস্থিতি কোনোভাবেই এক নয়। তাছাড়া এই দুই দেশের সাথে আমাদের সম্পর্কও ভিন্ন রকম। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক আলোচনা বা সম্পর্কের পর্যায় পাকিস্তানের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। আপনি এই দুই দেশকে একটি সাধারণ সমীকরণে মেলাতে পারেন না।'

এই কংগ্রেস এমপি বলেন, 'আমার একটি নৈতিক আপত্তিও আছে। কেন শুধু খেলাধুলা বা ক্রিকেটকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষোভের দায়ভার বহন করতে হবে? বাংলাদেশের সাথে আমাদের বিভিন্ন পর্যায়ে আরও অনেক ধরনের দ্বিপাক্ষিক কর্মকাণ্ড সচল রয়েছে। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে ক্রিকেটকেই সব সইতে হচ্ছে। বিশেষ করে একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড়—যিনি কখনো উসকানিমূলক বক্তব্য দেননি, ভারত কিংবা বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধেও কিছু বলেননি; তিনি কেবল একজন ক্রীড়াবিদ। আমরা এখানে আসলে কাকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছি?'

এই সিদ্ধান্তের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য নিয়ে থারুর প্রশ্ন তুলে বলেন, 'আমরা যদি এখন সিদ্ধান্ত নেই যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষোভের কারণে সব বাংলাদেশি ক্রিকেটার ভারতে খেলার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, তবে লিটন দাস বা সৌম্য সরকারের মতো কোনো হিন্দু বাংলাদেশি ক্রিকেটার—যারা বাংলাদেশের ভালো খেলোয়াড় এবং অতীতে আইপিএলে খেলেছেন—যদি এ বছর দলে থাকতেন, তবে কি তাদেরও বের করে দেওয়া হতো? যদি তা না করা হতো, তবে আমরা কী বার্তা দিচ্ছি? আমরা কি এতটাই অসহিষ্ণু দেশে পরিণত হয়েছি যে আমরা কেবল মুসলিম বাংলাদেশিদের বিপক্ষে এবং হিন্দু বাংলাদেশিদের পক্ষে?

'সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়ায় যারা এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা বিষয়টি মোটেও গভীরভাবে চিন্তা করেননি। আমি একে চরম অযৌক্তিক বলে মনে করি। আমার মতে, এটি জাতি হিসেবে আমাদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে। এটি আমাদের কূটনীতি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আমাদের সংস্কৃতিকে ছোট করে।'
 

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2