avertisements 2

সেই রিয়াদই এখন এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নযাত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১০ জুন,সোমবার,২০২৪ | আপডেট: ০৯:৩১ পিএম, ২২ জুলাই,সোমবার,২০২৪

Text

সমঅধিকার আদায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে চিরকালীন লড়াই, সেই লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেওয়া কিংবদন্তি মার্টিন লুথার কিংয়ের কালজয়ী বক্তব্যের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে। নর্থ ক্যারোলিনায় হাজারো মানুষের সামনে প্রবল আত্মবিশ্বাস নিয়ে যেদিন বলেছিলেন– আমার একটি স্বপ্ন আছে (আই হ্যাভ এ ড্রিম)। সেদিন থেকে স্বপ্ন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গেছে দেশটিতে। 

লুথার কিংয়ের দেশে দাঁড়িয়ে মাহমুদউল্লাহও আজ বলতে পারেন– ‘আমার একটি স্বপ্ন আছে। একটি সফল বিশ্বকাপ শেষ করার স্বপ্ন। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর স্বপ্ন।’ 

আসলে তিনি একজন স্বপ্নবাজ, লড়াকু ক্রিকেট সৈনিক। বাদ পড়েও বারবার ফিরে এসেছেন ভালো খেলে। ২০২২ সালের টি২০ বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়া রিয়াদ ২০২৪-এ খেলবেন, কে জানত? সেই অনিশ্চয়তাকে জয় করেই মাহমুদউল্লাহর এই পর্যায়ে আসা। তাই তিনি স্বপ্ন দেখতেই পারেন। আর তাঁকে ঘিরে স্বপ্ন বুনতে পারে পুরো দল।

২০১৪ সালে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের প্রথম বিদেশ সফর ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজে। ওই সফরটা একেবারেই ভালো না গেলেও অলরাউন্ডার হওয়ায় সে যাত্রায় টিকে গিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ১০ বছর পরেও সেই একই সংগ্রাম করে চলতে হচ্ছে তাঁকে। পরিশ্রম আর তপস্যায় সাফল্য-ব্যর্থতার গল্প লিখছেন মিডল অর্ডার এ ব্যাটার। তিন দিন আগেই ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে নিঃসঙ্গ শেরপার হয়ে উঠেছিলেন। শ্রীলঙ্কান বোলারদের তোপের মুখে উইকেট পতনের মিছিল যেভাবে বড় হচ্ছিল, তাতে মাহমুদউল্লাহ গা ভাসালে অলআউট হয়ে ললাটে পরাজয়ের তিলক পরতে হতো। 

৩৮ বছর বয়সী ক্রিকেটার দেখালেন বুড়ো হাড়ের ভেল্কি। ম্যাচ শেষ করে ফিরলেন ড্রেসিংরুমে। খুব যে বড় রানের লক্ষ্য ছিল, তা নয়। তিনি অ্যাঙ্কার রোল নিয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে, দলকে জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন। তাই তো হাথুরুসিংহে খুশি হয়ে জড়িয়ে ধরলেন দলের সবচেয়ে বর্ষীয়ান ক্রিকেটারকে। যে ছবি ভাইরাল নেট দুনিয়ায়। কোচের এই আলিঙ্গনে যেমন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, তেমনি খেলোয়াড়ের দায়িত্ব বাড়িয়ে দেওয়া।

এই বিশ্বকাপ সম্ভবত মাহমুদউল্লাহর শেষের স্বপ্ন। অর্থাৎ শেষ বিশ্বকাপ খেলে ফেলছেন তিনি, যার শুরুটা ভালো হয়েছে। অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ধারাবাহিকতা দেখাতে পারলে শেষটাও ভালো হতে পারে। হাথুরুসিংহে তো বিশ্বকাপের আগেই জানিয়েছেন, মাহমুদউল্লাহর কাছে কতটা প্রত্যাশা করেন। কোচের এই প্রত্যাশার কারণও আছে। গত দুই মাস ধরে ভালো ক্রিকেট খেলছেন তিনি। জিম্বাবুয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সিরিজে ধারাবাহিক ছিলেন। টপঅর্ডার ফ্লপ করলে কাণ্ডারি হয়ে ইনিংস মেরামত করার কঠিন দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন এ ব্যাটার। কখনও কখনও ফিনিশারের ভূমিকায় ম্যাচ শেষ করে আসেন। বাংলাদেশের মতো দলে এই দায়িত্ব পালন করাও খুবই কঠিন চ্যালেঞ্জ। এত বছর ধরে যিনি এই গুরু দায়িত্ব পালন করে গেছেন, শেষের কবিতায় তিনি লিখতেই পারেন ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ (আমার একটা স্বপ্ন আছে)।
 

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2