avertisements 2

ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৩৫ ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৯ এপ্রিল, বুধবার,২০২৬ | আপডেট: ০৩:৩৬ পিএম, ২৯ এপ্রিল, বুধবার,২০২৬

Text

ইরানের তথাকথিত ‘ছায়া ব্যাংকিং’ ব্যবস্থার মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগে ৩৫টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ।

যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় দেখা দেওয়া অচলাবস্থার মধ্যে নতুন করে এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।


ট্রুথ স্যোসালে এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জানান, ইরান হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ তুলে নিতে অনুরোধ করেছে। আর তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়াতে এবার দেশটিকে সহায়তাকারী কিম্বা ইরানের শ্যাডো ব্যাংকিং খাতে জড়িত আছে, এমন ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে চীনের টিপট রিফাইনারিগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করা ব্যাংকগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব রিফাইনারি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য টোল দিচ্ছে। 

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে লেনদেন এবং ইরানের সন্ত্রাসে পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে জড়িত থেকে অর্থ স্থানান্তরে সহায়তা করেছে। 

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি ডলারের অবৈধ তহবিল স্থানাস্তর হয়েছে। আর এসব অর্থ ইরানের ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে’ সহায়তা করেছে।


তিনি উল্লেখ করেন, এই ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থাটি তেহরানকে তাদের আঞ্চলিক লক্ষ্যপূরণ এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিয়ে আসছিল। 

ওয়াশিংটন মনে করছে, এই অর্থপ্রবাহ বন্ধ করার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রমকে দুর্বল করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের এই উত্তাল সময়ে ইরানের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডে আঘাত করাকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন।


এই নতুন নিষেধাজ্ঞা এমন এক সময়ে কার্যকর করা হলো যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। একদিকে তেহরান যখন যুদ্ধের অবসানে বিভিন্ন প্রস্তাব দিচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি অব্যাহত রেখেছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার টেবিলে ইরানকে নমনীয় হতে বাধ্য করতেই এই ধরনের অর্থনৈতিক অবরোধের পথ বেছে নিয়েছে মার্কিন অর্থ বিভাগ। 


এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানানো হয়েছে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কোনো নতুন বিষয় নয় এবং তারা তাদের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক নীতি থেকে বিচ্যুত হবে না।

সামগ্রিকভাবে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ ও পাল্টাপাল্টি জাহাজ জব্দের ঘটনা ঘটছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক স্তরেও শুরু হয়েছে নতুন স্নায়ুযুদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের তেল রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।


যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে দিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত তেহরান তাদের কর্মকাণ্ডের আমূল পরিবর্তন না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ধরনের অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে। এখন দেখার বিষয় হলো, ১ মে’র সময়সীমার আগে এই নতুন নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের সম্ভাব্য সমঝোতার পথে কতটা বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

সূত্র: আল জাজিরা

আরও পড়ুন

avertisements 2