avertisements 2

ট্রাম্পের শুল্কনীতি বাতিলের পেছনে কে এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত?

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২২ ফেব্রুয়ারী,রবিবার,২০২৬ | আপডেট: ০৯:২৫ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারী,রবিবার,২০২৬

Text

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক নীতি বাতিলে পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন আইনজীবী নীল কাটিয়াল। সাবেক ভারপ্রাপ্ত সলিসিটর জেনারেল কাটিয়ালই আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের নেতৃত্ব দেন।

এই রায়কে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালত স্পষ্ট করেছে, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার অজুহাতে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ব্যাপক শুল্ক আরোপ করা যাবে না। খবর দ্য স্টেটসম্যানের।

ট্রাম্প ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) আইনের অধীনে প্রায় সব বাণিজ্য অংশীদারের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন। কাটিয়াল আদালতে যুক্তি দেন, এই আইন প্রেসিডেন্টকে এমন বিস্তৃত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না এবং এটি ‘অসাংবিধানিক কর’।


ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পক্ষে লিবার্টি জাস্টিস সেন্টারের সহায়তায় মামলা করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসন বাণিজ্য ঘাটতি ও মাদক ফেন্টানিল সংকটকে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করে শুল্কের পক্ষে যুক্তি দেয়।

রায়ের পর কাটিয়াল বলেন, আজ সুপ্রিম কোর্ট আইনের শাসনের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। বার্তাটি স্পষ্ট—প্রেসিডেন্ট শক্তিশালী হতে পারেন, কিন্তু সংবিধান আরও শক্তিশালী। আমেরিকায় কেবল কংগ্রেসই জনগণের ওপর কর আরোপ করতে পারে।


কাটিয়ালের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত তাদের উত্থাপিত যুক্তিগুলো সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, এই মামলা কখনও ব্যক্তিকে ঘিরে ছিল না, এটি ছিল ক্ষমতার বিভাজন ও সাংবিধানিক সীমা নিয়ে।

প্রধান বিচারপতির লিখিত রায়ে বলা হয়, শুল্ক আরোপ মূলত করের সমান, আর তা আরোপের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের হাতে।

শিকাগোতে ভারতীয় অভিবাসী পরিবারে জন্ম নেওয়া নীল কাটিয়ালের মা ছিলেন চিকিৎসক ও বাবা প্রকৌশলী। ডার্টমাউথ কলেজ ও ইয়েল ল স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি স্টিফেন ব্রেয়ারের সহকারী হিসেবে কাজ করেন।


২০১০ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাকে ভারপ্রাপ্ত সলিসিটর জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টে ৫০টিরও বেশি মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন—যা সংখ্যালঘু আইনজীবীদের মধ্যে এক রেকর্ড।

বর্তমানে তিনি মিলব্যাংক এলএলপির অংশীদার ও জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ল’ সেন্টারের অধ্যাপক। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ট্রাম্পের ২০১৭ সালের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ, ভোটাধিকার আইন রক্ষা এবং পরিবেশ ও জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট মামলায় জয়।

তিনি জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বিশেষ কৌঁসুলিও ছিলেন এবং ‘ইমপিচ: দ্যা কেস এগিনেস্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প’ বইয়ের লেখক।

রায়ের তাৎপর্য নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে কাটিয়াল বলেন, একজন অভিবাসীর সন্তান হিসেবে আমি আদালতে দাঁড়িয়ে বলতে পেরেছি যে প্রেসিডেন্ট বেআইনি কাজ করছেন। কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা জিতেছি।


তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগত স্থিতিশীলতার প্রমাণ হিসেবে দেখেন। আমাদের একটি ব্যবস্থা আছে যা নিজেই সংশোধন করতে পারে। আপনি পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হলেও সংবিধান ভাঙতে পারবেন না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় শুধু বাণিজ্য নীতিতেই নয়, বরং ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2