মালয়েশিয়ায় পাসপোর্ট অফিসে অভিযান, সেবা নিতে এসে বিপাকে প্রবাসীরা
মালয়েশিয়ায় পাসপোর্ট ও ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের অভিযানে কয়েকজন বাংলাদেশি আটক হয়েছেন। দেশটির বাংলাদেশ হাইকমিশন অনুমোদিত পাসপোর্ট ও ই-পাসপোর্ট সেবা প্রদানকারী আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান এক্সপ্যাট সার্ভিসেস কুয়ালালামপুর সেন্টারে এ অভিযান চালানো হয়।
বৈধ কাগজপত্র ঠিকঠাক করতে এবং পাসপোর্ট সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সেবা নিতে আসা প্রবাসীদের এমন একটি অনুমোদিত সেবাকেন্দ্র থেকে আটকের ঘটনায় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, মালয়েশিয়া সরকারের চলমান ইমিগ্রেশন অভিযানের অংশ হিসেবে আকস্মিকভাবে সেবাকেন্দ্রটিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় পাসপোর্ট নবায়ন, ই-পাসপোর্টের আবেদন এবং ট্রাভেল পাসসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা নিতে আসা কয়েকজন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। তবে অভিযানে মোট কতজন আটক হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বৈধ ভিসা রয়েছে বলেও জানা গেছে। তারা মূলত পাসপোর্ট নবায়নের জন্য সেবাকেন্দ্রে এসেছিলেন।
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা বলছেন, অনেক সময় নিয়োগকর্তার অবহেলা, প্রশাসনিক জটিলতা কিংবা অন্যান্য কারণে কর্মীদের ভিসা ও পাসপোর্ট সময়মতো নবায়ন করা সম্ভব হয় না। এ কারণে বৈধতা নিশ্চিত করতে তারা হাইকমিশন নির্ধারিত সেবাকেন্দ্রে গিয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। কিন্তু সেখানেও যদি ইমিগ্রেশন অভিযানের আশঙ্কা থাকে, তাহলে প্রবাসীরা নিরাপদে সরকারি সেবা নেবেন কোথায়, সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রবাসীরা বলছেন, হাইকমিশনের নিজস্ব কিংবা অনুমোদিত সেবাকেন্দ্রে সাধারণ প্রবাসীদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এসব স্থানে ইমিগ্রেশন অভিযানের বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়া সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তাদের দাবি, আইনি জটিলতায় থাকা প্রবাসীরা যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা আতঙ্ক ছাড়াই পাসপোর্ট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী জানান, কতজনকে আটক করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। আমরা মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করছি। বিস্তারিত তথ্য পেলেই জানানো হবে।





