avertisements 2

বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন অস্ট্রেলিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৯ আগস্ট,শনিবার,২০২৬ | আপডেট: ১১:০২ পিএম, ২৯ আগস্ট,শনিবার,২০২৬

Text

২৮ আগস্ট, ২০২৬—বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সুবর্ণজয়ন্তী। পঞ্চাশ বছরে পা রাখা এই ঐতিহাসিক দিনে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন অস্ট্রেলিয়া এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় আহ্বায়ক কমরেড জহির উদ্দিন আহমেদ মাসুদ, কমরেড সাইফুর রহমান, কমরেড মাসুক আহমেদ, কমরেড এমডি নুরুজ্জামান, কমরেড ফাইয়াজ ইসলাম, কমরেড ইমতিয়াজ হোসাইন রাফি, কমরেড ফারজানা ইসলাম ও কমরেড জান্নাতুল আলম লিমা-সহ নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

সভার শুরুতে বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, প্রবীণ নেতা-কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। কমরেড জহির উদ্দিন আহমেদ মাসুদ বলেন, যুব ইউনিয়নের এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় যাঁদের আত্মত্যাগ, নিষ্ঠা ও বুদ্ধিদীপ্ততা সংগঠনকে গৌরবময় সংগ্রাম ও শক্তিশালী যুব আন্দোলনের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে, তাঁদের প্রত্যেকের অবদান ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে।

কমরেড মাসুক আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন এদেশের প্রতিটি জনআন্দোলনে আপসহীনভাবে অংশগ্রহণ করেছে। সংগঠনটি কখনো সরকারি দৃষ্টিভঙ্গিতে আবদ্ধ ছিল না; বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে আরও গণমুখী ও প্রগতিশীল কর্মসূচি বাস্তবায়নের পক্ষে সোচ্চার ছিল, যা আজ সময়ের অপরিহার্য দাবি।

কমরেড সাইফুর রহমান যুব ইউনিয়নের কর্মীদের আরও বৈচিত্র্যপূর্ণ চিন্তা, সাহসিকতা ও আত্মনিবেদনের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাধারণ তরুণের স্বপ্নকে ধারণ করা এই সংগঠনকে আরও মজবুত ভিত্তিতে দাঁড় করাতে হবে। তরুণ প্রজন্মের নিরাপদ কর্মসংস্থান, কল্যাণ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে যুব ইউনিয়নের লড়াই অব্যাহত থাকবে। সাপ্তাহিক 'সপ্তজয় বাণী' যুবসমাজের জন্য চিরপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে এবং সাম্প্রদায়িকতা ও জলদস্যুতার বিরুদ্ধে সংগ্রামে যুব ইউনিয়ন সর্বদা অগ্রভাগে থাকবে—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।

বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সুবর্ণজয়ন্তী দেশের যুবসমাজের জন্য এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭৬ সালের ২৮ আগস্ট যুবসমাজের স্বকীয় সত্তা ও দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আত্মপ্রকাশ করে এই সংগঠন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই যুব ইউনিয়ন বেকারত্ব মোকাবিলা, বেকার ভাতা, শূন্যপদে নিয়োগ, স্বল্পসুদে ঋণ প্রদানের জন্য পৃথক ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, ব্যাংক জামানত প্রথা বন্ধকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবি আদায়ে একক নেতৃত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ধর্মনিরপেক্ষতা, দেশপ্রেম ও মানবতাবোধ যুবসমাজে ছড়িয়ে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।

যুগ্ম আহ্বায়ক কমরেড এমডি নুরুজ্জামান বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, সামরিক শাসন ও সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্রে দেশ তখন জর্জরিত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এই অপশক্তিগুলো সংবিধানের মূলনীতি—গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ—বিলোপের চেষ্টা চালায়। ঠিক সেই প্রেক্ষাপটেই ১৯৭৬ সালের ২৮ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন।

বিজ্ঞপ্তিতে স্মরণ করা হয়, ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর নবাবপুর মাহবুব আলী ইনস্টিটিউটে সংগঠনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাংগঠনিক সনদপত্র পাঠ করেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। ওই দিনই প্রথম আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়, যার আহ্বায়ক হন প্রকৌশলী আবুল কাশেম। ১৯৭৭ সালের ৯-১০ জানুয়ারি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে প্রথম জাতীয় সম্মেলনে সংগঠনের নাম 'বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন' চূড়ান্ত হয় এবং সভাপতি হন নূরুল ইসলাম নাহিদ, সাধারণ সম্পাদক হন আবুল কাশেম। ১৯৮১ সালের দ্বিতীয় সম্মেলনে সভাপতি হন আবুল কাশেম ও সাধারণ সম্পাদক হন মাহবুর জামান।

বিজ্ঞপ্তিতে যুব ইউনিয়নের ঐতিহাসিক বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরা হয়—১৯৮৭ সালে মস্কোয় কমিউনিস্ট নেতা মোহাম্মদ ফরহাদের লেখা চিরকুট যুবকর্মীদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে; ১৯৮৯ সালে সিলেটে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জালিয়াতি রুখতে পদযাত্রা ও তদন্ত কমিশন গঠন; ১৯৮৯ সালের ৪ জুন রাঙামাটিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশিদের ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি প্রক্রিয়ায় ভূমিকা; শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস নিয়ে আন্দোলন; ব্যাংক জামানত প্রথা বিলোপের আন্দোলন; ২০০৯ সালে ভারতের টিপাইমুখ বাঁধের প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট রোডমার্চ; ২০১০ সালে সাভার মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত পদযাত্রা; এবং ২০১৬ সালের ২৭ আগস্ট ঢাকায় আয়োজিত জলদস্যুতাবিরোধী জাতীয় যুব কনভেনশন—সর্বত্রই যুব ইউনিয়ন ছিল নেতৃত্বের ভূমিকায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কোভিড-১৯ মহামারি, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন দুর্যোগে ঢাকা, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, নোয়াখালী ও উপকূলীয় অঞ্চলে যুব ইউনিয়নের রেড ভলান্টিয়াররা স্যানিটাইজার, খাদ্য, চিকিৎসা ও উদ্ধারকাজে জীবনপণ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ায়ও সংগঠনটি প্রবাসী তরুণদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীল আদর্শে উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করে চলেছে।

কমরেড জহির উদ্দিন আহমেদ মাসুদ বলেন, 'অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি তরুণদের সংগঠিত করা, জাতীয় মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং মাতৃভূমি ও এ দেশ—উভয় স্থানেই ইতিবাচক অবদান রাখাই আমাদের প্রত্যয়। আমরা প্রতিটি প্রগতিশীল যুবককে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।'

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৯৮২ সাল থেকে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন বিশ্ব গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন (ডব্লিউএফডিওয়াই)-এর সদস্য। বিশ্বের ১২৩টি দেশের ১৯৫টি সদস্য সংগঠনের এই ফেডারেশনে যুব ইউনিয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৬ সালে আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সম্মেলনে সংগঠনটি সমন্বয়ক নির্বাচিত হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ শেষে বলেন, 'আমাদের লড়াই এখনও শেষ হয়নি। যুব বেকারত্ব, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় দেশে ও প্রবাসে আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। পঞ্চাশ পেরিয়ে আমরা আরও শক্তিশালী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।'

প্রকাশক:
বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন অস্ট্রেলিয়া
আহ্বায়ক: জহির উদ্দিন আহমেদ মাসুদ
যোগাযোগ: bangladeshyouthunionaustralia@gmail.com
তারিখ: ২৭ আগস্ট ২০২৬ 

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2