avertisements 2

মসজিদে দানের টাকার হিসাব নিয়ে সংঘর্ষ, নিহত ১

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১৫ এপ্রিল,শনিবার,২০২৩ | আপডেট: ০৬:৩৪ পিএম, ১৮ জুলাই,বৃহস্পতিবার,২০২৪

Text

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে জমি ও মসজিদে দানের টাকার হিসাব নিয়ে সৃষ্ট হামলা পাল্টা হামলায় একজন নিহত ও উভয় পক্ষের কমপক্ষে ছয়জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ চাটেরা গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তির নাম জলিল মিয়া (৬০)। তিনি দক্ষিণ চাটেরা গ্রামের সখাদ মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাকির হোসেন ও জলিল মিয়ার ফুফাতো বোন রিনা বেগম জানান, জায়ফরনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ চাটেরা গ্রামে ৪-৫ বছর আগে একটি মসজিদ স্থাপন করা হয়। মৃত মজহর আলীর মেয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী জোসনা বেগম মসজিদের ভূমি দান করেন। জোসনা বেগমরা ৮ বোন। তাদের কোনো ভাই না থাকায় মামাতো ভাই জলিল মিয়া তাদের সম্পদ দেখাশোনা করেন। তিনি মসজিদের মুতাওয়াল্লিও। জোসনা বেগমের চাচাতো বোনের ছেলে তারা মিয়া মসজিদের ক্যাশিয়ার। অনেকদিন থেকে মজহর আলীর জমি নিয়ে জলিল মিয়া ও তারা মিয়ার মধ্যে বিরোধ চলছিল। কিছু দিন পূর্বে উপজেলা চেয়ারম্যান মসজিদে বিশ হাজার টাকা দান করেন। শুক্রবার জুমার সময় জলিল মিয়া ওই টাকার হিসাব চান। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। সন্ধ্যায় ইফতার শেষে মসজিদে নামাজ পড়ে নিজ বাড়িতে যেতে চাইলে তারা মিয়া ও ইয়াছিনের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন লোক জলিল মিয়ার ওপর হামলা চালায়। জলিল মিয়া প্রাণ রক্ষার্থে দৌড়ে বাড়িতে যাওয়ার পর বাড়ির উঠানে গিয়ে হামলাকারীরা লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে। এ সময় জলিল মিয়ার ছেলেরাও পাল্টা হামলা চালালে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জলিল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় আহতরা হলেন- জলিল মিয়ার ছেলে আব্দুল কাদির রনি (২৬), সাহিদ (২৪), জলিল মিয়ার আত্মীয় আলীপুর গ্রামের তাহির আলীর ছেলে সাহেদ আহমদ (১৮), অপর পক্ষে ছিনু মিয়ার ছেলে তারেকুল ইসলাম (৩৫), মজহর আলীর ছেলে ইয়াছিন (৪৫), ইয়াছিন এর ছেলে সৌরভ আহমেদ (১০)।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর কর্তব্যরত চিকিৎসক অসিত দেবনাথ জানান, রাত ৮টার দিকে তারা হাসপাতালে আসেন। জলিল মিয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহতের মাথায় গুরুতর জখম রয়েছে। আহত ৬ জনের মধ্যে ইয়াছিন ও আব্দুল কাদির রনিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট পাঠানো হয়েছে এবং ৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

জুড়ী থানার এসআই অঞ্জন কুমার দাস বলেন, মরদেহের সুরতহাল রেকর্ড করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ হেফাজতে দুই জনের চিকিৎসা চলছে। মামলা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2