avertisements 2

জামিন না নিয়ে পৌরসভার মেয়র পদে শপথ নিলেন বিস্ফোরক মামলার আসামি মুক্তার আলী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০২:৪২ পিএম, ৯ ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,২০২১ | আপডেট: ০৭:৪৬ পিএম, ১৭ মে,সোমবার,২০২১

Text

জামিন না নিয়ে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভায় মেয়র পদে শপথ নিলেন বিস্ফোরক মামলার আসামি মুক্তার আলী। পুলিশের খাতায় মুক্তার পলাতক আসামি হলেও সোমবার দুপুর ১২টায় রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মেয়র হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো শপথ নেন তিনি।

এদিন মুক্তার আলীসহ রাজশাহী বিভাগের ছয়টি জেলার ১৯ পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়ররা শপথ গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে এসব পৌরসভার ১৭১ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ৫৭ জন শপথ নেন।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. হুমায়ুন কবীর তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণের পর শিল্পকলা একাডেমির বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই মুক্তার আলীকে নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন তার সমর্থকরা।

তবে এ ব্যাপারে বাঘা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল বারী বলেন, মুক্তার আলী পলাতক আসামি কিনা- সেটি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই  আশরাফ আলী জানেন।

ফৌজদারি মামলার আসামি হয়েও মুক্তার আলী কীভাবে শপথ নিলেন- এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে এসআই আশরাফ আলী বলেন, মুক্তার আলীকে আমরা গ্রেফতারের চেষ্টা করেও ধরতে পারিনি। তিনি পুলিশের চোখ এড়িয়ে শপথ নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আড়ানী পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত ১৬ জানুয়ারি। এর দুই দিন আগে আড়ানী বাজারজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন মেয়র মুক্তার আলী এবং তার সহযোগীরা। মুক্তার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৪ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে মুক্তারের নেতৃত্বে তার সশস্ত্র সহযোগীরা আড়ানি বাজার সংলগ্ন তালতলায় আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী শহিদুজ্জামান শহিদের পথসভায় হামলা চালায়। এ সময় গুলিবর্ষণ করে মুক্তারের সমর্থকরা। হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।

এ সময় আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী শহিদের নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাংচুরের পর অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া তালতলা বাজারে কমপক্ষে ২৫টি দোকানপাটে লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগ করেন মুক্তারের সমর্থকরা। এ সময় আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ব্যাপক বোমাবাজি করা হয়।

এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনার পরের দিন ১৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর সমর্থক আড়ানী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান (৪৫) এবং তার ভাগ্নে আরিফ হোসেনের (৩০) ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় মুক্তারের সমর্থকরা।

এদিকে এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী শহিদের ভাই কামরুজামান বাদী হয়ে মুক্তার আলীসহ ৫৫ জনের নাম উল্লেখসহ চারশ’ থেকে সাড়ে চারশ’জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় মিলন নামে মুক্তার আলীর একজন সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অপরদিকে ১৬ জানুয়ারির নির্বাচনে মুক্তার আলী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শহিদকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। তবে ১৫ জানুয়ারি মামলা দায়েরের পর থেকেই মুক্তার আলী আড়ানি পৌর এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

মুক্তার আলী আগে থেকেই মেয়রের দায়িত্বে থাকায় তিনি নিয়মিত তার কার্যালয়ে অফিস করছেন। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং অসন্তোষ থাকলেও পুলিশ বিষয়টিকে আমলে নেয়নি।

বাঘা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান নিপ্পন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মুক্তার আলীর এলাকায় সশস্ত্র বাহিনী আছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ বহু পুরাতন। মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর মুক্তার ও তার সহযোগীরা গুলি ও বোমা হামলা চালিয়েছে। মুক্তার বিস্ফোরক মামলার আসামি। কিন্তু তিনি কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলতে পারব না। এটা পুলিশই ভালো জানে।

জানতে চাইলে বাঘা থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, মেয়র মুক্তার বিস্ফোরক মামলার অন্যতম আসামি। এ মামলায় কয়েকজন আসামি জামিনে আছেন। তবে মেয়রের কোনো জামিনের কাগজ আমরা পাইনি। কাজেই তিনি পুলিশের চোখে পলাতক আসামি। তাকে ধরার জন্য চেষ্টা করছি কিন্তু এখনও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। গ্রেফতার এড়িয়েই তিনি শপথ নিয়েছেন।

সম্প্রতি করোনাকালীন সংকটে চাল বিতরণ করতে গিয়ে মুক্তার আলী চাল চাওয়ায় এক বৃদ্ধকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন। তার ওই ভিডিও ওই সময় ভাইরাল হয়ে পড়ে। এছাড়াও পৌরসভা নির্বাচনের সময় সাংবাদিক এবং যুব মহিলা লীগ নেতাদের ওপরও হামলা চালায় মুক্তারের সহযোগীরা। এছাড়া তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ।

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2