জালাল উদ্দিন আহমেদ
একি কথা শুনি আজ মন্থরার মুখে
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৮ মার্চ,শনিবার,২০২৬ | আপডেট: ০৬:৫৮ পিএম, ২৮ মার্চ,শনিবার,২০২৬
একজন সালাহউদ্দিন আহমেদ। দাদা ঠাকুরদের উচ্চারনে তিনি আবার সালাহুদ্দিন আওমদ। কি জানি, কোনটা ঠিক। তবে ঠিক হোক বা বেঠিক হোক, উনি সালাহউদ্দিন আহমেদ। আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একজন দক্ষ এবং জাঁদরেল পার্লামেন্টেরিয়ান। সত্যি কথা বলতে কি, এই মূহুর্তে বাংলাদেশে অমুন জ্ঞান গরিমা ও আইন জানা মানুষের খুব অভাব। তবে মুস্কিল হয়েছে এখানেই। সবকিছু ট্যাকেল বা সামলাতে গিয়ে একসময় দেখা যাবে বাবাজি ফুস হয়ে গেছেন। এই তো হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতির উঠান ঘিরে। জানি না এটা আমাদের দুর্ভাগ্য কিনা! হয়তো তাইই হবে। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও তৃতীয় ধারার রাজনীতি বা রাজনৈতিক চরিত্র বিনির্মানে আমরা এখনও যোজন যোজন দূরে পড়ে আছি। স্বাধীনতার পর থেকে এপর্যন্ত বংশ পরম্পরার বাইরে গিয়ে আমরা কি কোন তৃতীয় ধারা তৈরীতে এগোতে পেরেছি? একজনকে পেয়েছিলাম বটে তবে সেটা বন্দুকের নলকে সূত্র বানিয়ে ক্ষমতার দন্ডে ছড়ি ঘুরানোর কেচ্ছা। লক্ষ্য করুন, তিনি নিজের পরম্পরা তৈরী করতে গিয়ে শেষমেশ ভাই স্ত্রীদের ফাঁদে পড়ে একটা আঞ্চলিক দলে থিতু হলেন। অবশেষে বৃহৎ পরম্পরার চাপে পড়ে চিড়েচ্যাপ্টা হয়ে খাবি খেতে খেতে ইহলোক ত্যাগ করলেন। একজন স্বঘোষিত গামছাওয়ালাকে পেলাম। তবে তার ফালনামায় এত এত জং ধরে আছে যে সেসব জং ছাড়াতে সেই কাহাবতের 'ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়ে’র অবস্থা আর কি! আর লাল ঝাডার ইনকিলাবের দল! তারা তো সারা জীবন পরজীবি স্বর্ণলতার ন্যায় জীবনটাকে একটা ছকেই বেঁধে রাখলো! গুটিকয় ক্যারাম বোর্ডের খেলোয়াড় যাকে বলে।
দুর্ভাগ্য তো সেদিনই আমাদের পিছু ধরেছিল যেদিন লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তানের হ্যাসাক জ্বালিয়ে আমরা শেরওয়ানি ও জিন্নাহ ক্যাপ মস্তকে লাগিয়ে নারায়ে তাকবিরের গগন বিদারি উচ্চারনে এই বাঙাল ভূখন্ডকে তথাকথিত পাকভূমি বানিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছিলাম। জানিনা জন্মের সেই শুভক্ষনে এই ভুখা আধাপেটা বাঙালদের কানে আযানের ধ্বনিটা সমস্বরে প্রবেশ করেছিল কিনা! আমাদের ‘ঢাকা গেট’ বলে একটা ঐতিহাসিক স্থাপনা আছে। তার পাশেই রয়েছে আরেকটি ঐতিহাসিক ঐতিহ্য। নিশ্চয় তিন নেতার মাজারের অস্তিত্ব সম্পর্কে আপনাদের ধারনা আছে। লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তানের বিখ্যাত তিন নেতার সমাধিস্থলই হচ্ছে ঢাকা গেটের পাশে থাকা এই তিন নেতার মাজার। যুগ সন্ধিক্ষনের এই তিন কিংবদন্তি ছিলেন পুর্ব বাংলার বাঙালদের বাঙালী হয়ে আত্মপ্রকাশের হেমিলিয়ন। ধর্মীয় জোশ বা সুড়সুড়ি থাকলেও বৃহত্তর চিন্তাধারায় সেখানে বাঙালীয়ানার মিশেল অনুভূতিটাই মুখ্য ছিল। খাজা নাজিমুদ্দিন, একজন চোস্ত উর্দু স্পিকিং ঢাকাইয়া বাঙাল। তবে পূর্ব পুরুষের সূত্রে তিনি ছিলেন সূদুর কশ্মীরের বনেদি নবাবী বংশের রক্তধারার মানুষ। হাসান শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তিনি কি বাঙালী ছিলেন! আরব বংশদ্ভুত সূদুর পারস্য হতে আসা এই সোহরাওয়ার্দী পরিবারের ঠাঁই হয়েছিল পশ্চিম বাংলার মেদনীপুর জেলায়। পিতা স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন কোলকাতা হাইকোর্টের বিচারক। সেই পরম্পরায় লন্ডনের ব্যারিস্টার হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলকাতা ও লাহোর হাইকোর্টের বিখ্যাত আইনজীবি। তবে জন্মসূত্রে বাঙালীই বটে। পারিবারিক আবহ ছিল উর্দু এবং আরবিয়ান। মাতা খুজিস্তা আখতার বানু একজন বিখ্যাত উর্দু সাহিত্যিক। তৃতীয়জন আবুল কাশেম ফজলুল হক যিনি শেরে ই বাঙলা খেতাবধারী একজন রাজনৈতিক বটবৃক্ষ। বরিশালের মানুষ। পিতা বরিশাল জেলা জজ কোর্টের একজন স্বনামধন্য উকিল। সর্বভারতীয় প্রেক্ষিতে একে ফজলুল ছিলেন একজন বিখ্যাত বাঙালী রাজনৈতিক নেতা। এজন্য সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ লক্ষনৌ সম্মেলনে তাকে শের ই বাংলা উপাধি দেয়া হয়। তিনি বৃটিশ ভারতের বৃহত্তর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এবং বৃটিশ ইন্ডিয়া এক্ট এর আওতায় বৃহত্তর বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কোলকাতা কেন্দ্রিক বৃহত্তর বাঙালী নেতৃত্বে তিনি ছিলেন ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে একজন সর্বজন গ্রাহ্য রাজনৈতিক নেতা।
আরো হয়তো অনেকেই ছিলেন এই বাঙাল ভূখন্ডের রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতির মূলকেন্দ্রে। তবে এই যে এত এত মিশেল চরিত্রের মহামহিমদের হাত ধরে আমাদের রাজনীতি গণতন্ত্র ও দেশ শাসনের সূত্র তৈরী হোল এতে করে কখনো কি আমরা ভেবেছিলাম, আমাদের নাড়ির টানে কোনদিন অস্তিত্ব বিনাসী দো-টানার রাহু চোখ রাঙাবে! শত শত বছরের বিবর্তনের পথ পরিক্রমায় আমরা এই ভূখন্ডের মানুষেরা বাঙালীয়ানার অমিত আকাঙ্খায় নিজেদের আপন স্বত্ত্বা গঠন করে আজ মুক্ত ভূখন্ডের মালিক। তারপরেও কেন আজ অস্তিত্ব সংকটে আতংকে থাকতে হয়! কেন আজ বাঙালীয়ানার অমিত তেজ যতসব দুষ্টমিষ্ট প্রতিবেশীর মাড়োয়ারী থাবায় পিষ্ট হয়ে নিজেদের অস্তিত্ব বিনাশী কুমিরকে প্রশ্রয় দিয়ে নিজের বুকে কোদাল চালিয়ে খাল কাটার এন্তেজামে আমরা ব্যাকুল হয়ে পড়ি! ক্ষমতা! সিংহাসন! নাকি ভোগ বিলাসী রংচটা জিন্সের সাথে রঙিন চশমায় নিজেদের রাঙিয়ে নেয়া কিংবা আরো যতসব আত্মবিনাশী মীরজাফরীয় বা সাম্প্রতিক সময়ের লেন্দুপ দর্জি আয়োজনের ষড়যন্ত্র! এসব নিয়ে ইদানীং খুব বেশী বেশী সোচ্চার হতে দেখি আমাদের নতুন প্রজন্মের কচি কাঁচাদের। আর ‘ঘর পোড়া গরুর রক্তসন্ধ্যার ভয়ে’ থাকা মাঝবয়সী ও প্রবীনরা তো এসব সইতে সইতে ঘেঁটে ঘ হয়ে পোড় খাওয়া স্ট্যাচু হয়ে গেছেন।
কথা শুরু করেছিলাম একজন মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে নিয়ে। তবে এটা মোটেই ব্যক্তিগত নয়। তিনি যেদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রের শপথ নিলেন সেদিন থেকে তিনি বাংলাদেশের। তিনি কোন দলের মুখপাত্র নন। তাকে নিয়ে ব্যক্তি ঈর্ষায় অনেকে অনেক কিছু বলতে পারেন। কিন্তু তার কথাবার্তা ও কর্মধারা নিয়ে যা কিছু বলা হবে সেটা অবশ্যই বর্তমান সরকার ব্যবস্থার উপরেই বর্তাবে। আমাদের এখনকার সময়ে সবচাইতে আলোচিত বিষয় হচ্ছে স্বৈরতন্ত্র উচ্ছেদ পরবর্তী গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা। আর গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার এই সূত্রটিই তৈরী হয়েছে দীর্ঘদিনের স্বৈর শাসনের নিষ্পেষনে জর্জরিত জনমানুষের জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পথ বেয়ে। সুতরাং জুলাই আকাঙ্খার নির্যাসে গড়ে উঠা বর্তমানের চলমান গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থা যে জুলাইয়ের আকাঙ্খার সম্মানেই সমর্পিত হবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা। সেরকমই তো কথা ছিল। কিন্তু কি এমন হোল যে, আমাদের শপথ নেয়া সর্বজ্ঞান সম্পন্ন চৌকস স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয় মহামান্য রাষ্ট্রপতির একই আদেশের (ক) অংশের সংসদ নির্বাচনকে সংবিধান সম্মত ঘোষনা দিয়ে এমপি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন আর (খ) অংশের গণভোটকে অসাংবিধানিক সংজ্ঞায় ফেলে জুলাই সনদের অঙ্গীকারকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন! আর ট্রেজারী বেঞ্চের নির্বাচিত সাংসদরা তা মাথা নুইয়ে মেনে নিলেন। ভাষ্যমতে বর্তমান সংসদ, সাংসদদের শপথ, মন্ত্রীত্বের শপথ, ক্যাবিনেট সবকিছুই তো তাহলে অবৈধ বেআইনি!
রাজনীতির পঙ্কিল হিসেবের এই অঙ্ক মেলানো বড়ই দুস্কর। ট্রেজারী বেঞ্চে এমন কোন আইন প্রণেতা কি নেই যার দূরদর্শী ব্যাখ্যা বিশ্লেষনে জন আকাঙ্খার এই জট খুলে দেশে গণতন্ত্র অনুশীলনের পথ সুগম করে দিতে সাহায্য করবে। আবারও বলছি, ঘরের চালে কাল কাকের কর্কশ শব্দ শোনা যাচ্ছে। ওদিকে পশ্চিমাকাশে শকুনের আনাগোনা শুরু হয়েছে। সালাহুদ্দিন আওমদদের থামান। নইলে ঘরের চালে বসতে দেয়া কাকেদের কর্কশ ধ্বনি আর সীমান্তের ওপারে ঠাঁই নেয়া শকুনীর যুগলবন্দি মঞ্চায়নে দেশ আবারো সেই ‘'যেই শান কি তেই শান শুটকি বা বেইগুন” এর পুরনো চেয়ারায় ফিরে আসতে বেশী সময় নেবে না। পথ এখন চেনা হয়ে গেছে। বর্তমানের বাস্তবতায় পঞ্চাশ বছরের ঘুনে ধরা রাজনীতির কালচার আর তেলচুয়ানী ক্ষমতার কর্তাবাবু হওয়া বড়ই কন্টকাকীর্ণ। হাদি হাসনাতদের কোন ছকে বাঁধা রাজনীতির নেতা ক্যাডার লাগেনা। ওরা মাটি থেকে উঠে আসা আমাদেরই সন্তান। এই বাঙলা মায়ের জ্বেন জি। ওদেরকে ঠেকানো বড়ই মুস্কিল। মন্থরা! তুমি যতই আওড়াবে ইন্দ্রচক্রের ধার ততই শাণিত হবে। সেক্ষেত্রে মন্থরা নয়, দশরথের মুখ থেকেই জাতি শেষ কথাটি শুনতে চায়।
ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের নতুন যে বার্তা দিল ঢাকার মার্কিন দূতাবাস
মা আমাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিল, নিজে আর পারল না: শিশু আলিফ
অবৈধভাবে মজুদ ৮০০ লিটার পেট্রল জব্দ, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা
১ এপ্রিল থেকে পেট্রল রপ্তানি বন্ধ করতে যাচ্ছে রাশিয়া
একি কথা শুনি আজ মন্থরার মুখে
কুমিল্লায় বাস ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৪ জনসহ নিহত ৫
ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ১০ দিন স্থগিত করেছেন ট্রাম্প
ইরান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতায় পাকিস্তানকে ‘দালাল রাষ্ট্র’ বলল ভারত
বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি বার্তা দিল সৌদি আরব
মানহানি মামলায় জামিন পেলেন ইনু, মেনন ও বিচারপতি মানিক
‘সিন্ডিকেটের গুলিতে সন্তানদের এতিম করতে চাই না’
দৌলতদিয়ায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে ৪০ যাত্রীবাহী বাস পদ্মায়
দুদকের মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন
আমি আর আয়াতুল্লাহ মিলে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করব: ট্রাম্প
সাবেক এমপি জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আটক করেছে ডিবি
দুনিয়ার সবচেয়ে আজব সেতু বাংলাদেশে!
গাছের সঙ্গে বাঁধা সাত শিশু কাওছারের জীবন!
কারাগারে পরিকল্পনা, তিন মাসেই কোটিপতি ২ যুবক
সিডনিতে দুই বাংলাদেশীর আকস্মিক মৃত্যু
সিডনিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুনী খুন
অক্সফোর্ডের করোনার ভ্যাকসিন বিরোধীতায় অস্ট্রেলিয়ার ইমাম ও আর্চবিশপ
অস্ট্রেলিয়ার কারাগারেই আরেক বন্দিকে কোপালেন সেই বাংলাদেশি ছাত্রী সোমা
কিশোরীর সাথে যৌন সম্পর্কের চেষ্টাঃ সিডনিতে বাংলাদেশী ছাত্র গ্রেপ্তার
মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার সেরা ৪-এ বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কিশোয়ার
হুইপপুত্রের গোপন ব্যবসার বলি তরুণ ব্যাংকার
খোলা চুলে সিগারেট হাতে এবার নতুন বার্তা দিলেন পরীমণি
কুইন্সল্যান্ডে বারবিকিউ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককের আকস্মিক মৃত্যু
মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে পড়ে সিডনির দুই বাংলাদেশীর মৃত্যু
হাটে কচুর লতি বিক্রি নিয়ে মুখ খুললেন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক



