জালাল উদ্দিন আহমেদ
অরুন বরুন কিরনমালা
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৩ মার্চ,সোমবার,২০২৬ | আপডেট: ০৭:৩৫ এএম, ২৫ আগস্ট,মঙ্গলবার,২০২৬
ব্যাপারটা তো তাইই মনে হচ্ছে। সর্ষের মধ্যে ভুত তো ঢুকে আছে। সেই ভুতকে না তাড়ালে সবই তো ভুতুড়ে হয়ে থাকবে। আর কত! আমিনুলকে দোষ দিয়ে লাভ কি? উনিতো সঠিক পথেই চলতে চাচ্ছেন। খেলোয়াড় থেকে রাজনীবিদ হয়েছেন। এখন রাজনীতির আশীর্বাদে তিনি প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন। সুতরাং জীবন যুদ্ধের আলোকে যতটুকু হেঁটে শিখেছেন, দেখে শিখেছেন কিংবা ঠেকে শিখেছেন - সবকিছু নিয়েই তো তিনি তার প্রশাসনের পথ চলায় কাজে লাগাবেন। আমরা আশাবাদী হতে পারি এই কারনে যে একজন মাঠ দাপিয়ে রাজ করা মানুষ আজ মাঠ মেরামতের দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অভিভাবক হয়ে সামনে এসেছেন। তবে আশা রাখি, যা কিছু হবে ধীরে সুস্থ্যে হওয়ায় ভাল। কথায় আছে না “চট কাম শয়তান”। সুতরাং ধীরে ধীরে উইপোকার ঢিপিগুলোকে বিনাশ করার দায়িত্ব নিয়েই এগোতে হবে।
পঞ্চান্ন বছর হোল দেশটা স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে আমরা দেখেছি ট্রায়াল এন্ড এররের (trial and error) মধ্য দিয়েই সবকিছু চালানোর ট্রাডিশন। ফলে দেশের কাঠামো উন্নয়নে কোনদিনই কোন শক্ত ভিত গড়ে উঠেনি। দুর্মুখেরা বলেন গড়ে উঠতে দেয়া হয়নি। হয়তোবা তাই। কেননা যে কাঠামোর ভিত তৈরী করে দেশের বুনিয়াদ বিনির্মানের সূচনা হওয়ার কথা সেই কাঠামোই তো এখনো শক্ত পায়ে দাঁড়াতে পারে নি। বলছি রাজনীতির কথা। যে দেশে রাজনৈতিক শিষ্ঠাচারে দেশ দল এবং ব্যক্তির অবস্থানটিই এখনো নড়বড়ে সেখানে কোন্ সুত্র ধরে আপনি আপনার দেশ ও জাতির এই মহাযজ্ঞকে বিশ্বমঞ্চে দাঁড় করাবেন! ফলে বিগত পঞ্চাশ পঞ্চান্ন বছর ধরে এ জাতি শুধু নেতা প্রশাসক আর প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী এমপি কিংবা মেয়র চেয়্যারম্যান মেম্বার দেখেছে। দেখেছে সিভিল প্রশাসনের এসি ডিসি সহকারী সচিব থেকে সচিব এবং ইদানীংকার সিনিয়র সচিব। আর আইন শৃংখলায় মেজর থেকে চার তারকা জেনারেলদের চাকচিক্য। সঙ্গে র্যাব ডিজিএফআই থেকে শুরু করে হিরোইক বেনজির ও হাউন আংকেলদেরও তারা দেখেছে। এই দেখার কি আর শেষ আছে! নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ভেবেছিলাম, যাক একটা গতি হয়তো হোল। এবার হয়তো রাজনীতির স্থিতিশীলতায় দেশে রাজনীতির সুষম বাতাবরন তৈরী হবে। কিন্তু উত্তরাধিকারী রাজনীতির আনকোরা নেতৃত্ব যখন ক্ষমতার শীর্ষবিন্দু হয়ে দেখলেন, অগাধ সমুদ্র রাজনীতির এই চরাচরে ‘ব্যক্তির চেয়ে দল, দলের চেয়ে দেশ বড়’ নামক আপ্ত বাক্যের এই দেশে ঠিক উলটোটা ঘটে। তখন তারাও যেন ক্ষমতার দন্ডের শিরোমনি থেকে রাজদন্ডের উত্তরাধিকারী হয়ে বসলেন। আর এভাবেই দেশের গণতন্ত্রায়নে অশনির সূত্রপাত হোল। ফলশ্রুতিতে রাজনীতির অশুভ বার্তাগুলি সাধারন জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি ঘটালো। দেশ গড়ার গতানুগতিক বিষয়গুলিতে জনগনের আশা আকাঙ্খার প্রাধান্যে ভাটা পড়লো বা বলা যেতে পারে জনগনকে গৌণ পর্যায়ে ফেলা হোল।
অনুজ আমিনুল হক আমার প্রিয় খেলোয়াড়। হবেইবা না কেন। দেশের জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা ঘরে তোলার ক্যাপ্টেন তো সেইই। তাকে দেখেছিলাম খেলার মাঠে নেতৃত্বের সফলতম অধিনায়ক হিসাবে। একসময় দেখলাম একাডেমিক ফিল্ডে। আমার মেয়েটা একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ায়। সেখানকার শিক্ষকের তালিকায় তার নামটা দেখে অভিভূত হয়েছিলাম। তারপর অবসরের পর দেখলাম তার রাজনীতির মাঠ কাঁপানো কারিশমা। অর্থাৎ সব মাঠেই সমান দাপুটে এই ছেলেটি এখন আমাদের দেশের ক্রীড়া জগতের অভিভাবক। একটু ভাবুন তো - সেকি আশীর্বাদ নিতে এসেছে না তার আশীর্বাদেই আমাদের ক্রীড়াক্ষেত্র আরও উজ্জ্বল হোল বা হবে! আমিনুল হক এখন ‘সে’’নয় তিনি। তিনি এখন মাননীয়। তবে যে চড়াই উৎরাইয়ের পথ বেয়ে তিনি এদেশের ক্রীড়াক্ষেত্রের অভিভাবক হয়েছেন, সেই পথ ঘাটের ঘোলাজলে সাঁতার কেটেই তিনি বড় হয়েছেন। আমজাদ হোসেনের ‘'জন্ম থেকে জ্বলছি’র এই কাদা মাটির ছেলে , তিনি নিজস্ব মেধা ও মনন দিয়ে আজ ক্রীড়া জগতের আলোক বর্তিকা হয়েছেন। তাকে নিয়ে আমরা গর্ব করতেই পারি।
তবে ঐ যে বলেছি trial and error এর কথা! সেসব নিয়ে কি ভাববার সময় এখনো আসে নি? দেশের খেলাধুলার মূল অংশীদার বা focussed point হচ্ছে ফুটবল ও ক্রিকেট। তবে ক্রিকেটের খাই খরচা বেশী বলে এই খেলেটির শিকড় অতটা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। সেক্ষেত্রে ফুটবলের সার্বজনীনতা আকাশছোঁয়া। তাইতো এই একবিংশের বটতলায় এশিয়া কাপ দাপিয়ে আসা ছোটখাট গ্রামীন মেয়েটির মুখে এখনো শুনতে হয়, কাপড়ের পুঁটলা বানিয়ে বা কচুর এঁঠা(গোঁড়া)কে বল বানিয়ে খেলতে খেলতেই এ পর্যায়ে এসেছি। অবাক করার কথা নয় কি? সেই মেধার অফুরন্ত সম্ভাবনার অবজেক্টগুলো যখন জাতীয় পর্যায়ে এসে অসুস্থ রাজনীতির পঙ্কিলতায় পড়ে দিশাহীন হয়ে খাবি খায় তখন দেশের খেলা জগতের সর্বক্ষেত্রেই একটা অসহায়ত্বের ছাপ পড়ে। বলছি ফুটবল ক্রিকেট হকি ভলি সাঁতার ইত্যাদির সব ফেরিফেরিতে এই সিন্ডিকেট বা কোটা ইজম এর সর্বগ্রাসী রাহুর প্রকোপের কথা। অসুস্থ রাজনীতির আশীর্বাদপুষ্ট অরুন বরুন কিরনমালারা যেভাবে খেলাধুলার সংগঠনগুলিতে হট সীট অলঙ্কৃত করে গত অর্ধ শতাব্দী ধরে পরম্পরার ট্র্যাডিশন সৃষ্টি করে রেখেছেন সেখানে মাঠ থেকে উঠে আসা আমিনুল বা আমানুলরা কতদূর কি করবেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আমরা সব সময় জেনেছি এবং শুনেছি যে বাংলাদেশের প্রতিটি ক্রীড়া সংগঠনে একটা প্রচ্ছন্ন রাজনীতির সংঘর্ষ চলমান। এবং এতে রাজনীতির শাসক পক্ষেরও প্রত্যক্ষ মদদ বা আশীর্বাদ বিদ্যমান। সেক্ষেত্রে মাছের মাথায় যদি পচন ধরে তবে তার অঙ্গ প্রতঙ্গেও যে ধীরে ধীরে সেসবের আসর পড়বে তাতে কোন সন্দেহ আছে কি? যেখানে রাজনীতি রাষ্ট্রনীতি ও সমাজনীতির দূরাচারী ডামাডোলে একটি রাষ্ট্র কাঠামো ‘'চলতে কে নাম গাড়ি'র আদলে নিজের চলার পথ তৈরী করে সেখানে দেশপ্রেমের সর্বোচ্চ পরীক্ষায় রাষ্ট্র তার বুনিয়াদ কিভাবে সমুজ্জ্বল করবে সেটাই তো ভাববার বিষয়। তবে আমরা আশাবাদী হতে চাই। দেশে একটি বৈষম্য বিরোধী গণ অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক চেতনার গোঁড়াপত্তন হয়েছে। তরুন প্রজন্মের নেতৃত্বে আজ দেশের গণতান্ত্রিক গতিশীলতা তার সম্মানের জায়গায় ফিরে এসেছে। তারুন্যের নেতৃত্বে দেশ তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে ইনশা আল্লাহ! শুধু ক্রীড়া ক্ষেত্রে কেন দেশের প্রতিটি সেক্টরে প্রকৃত সংগঠকরা তাদের পেশাদারিত্বে দেশকে এগিয়ে নেবেন এই আশা করাই যায়। সেক্ষেত্রে রাজনীতির পছন্দ অপছন্দের বিবেচনার উর্ধে থেকে আসুন আমরা দেশ গড়ার ব্রতে একট্টা হয়ে তরুন প্রজন্মের বর্তমান সরকার ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে শপথবদ্ধ হই। পাশাপাশি ক্ষমতার উৎসে থাকা পক্ষকে বিনীত অনুরোধ করতে চাই, অনুশোচনাহীন দাম্ভিক পতিত শক্তির জন্য সময় খরচ না করে বরঞ্চ জেন-জি চেতনার তরুন শক্তিকে দেশ গড়ার কাজে সামিল করিয়ে শক্তিশালী ‘'প্রথম বাংলাদেশ’” গড়ার মন্ত্রে এগিয়ে যাই।
নেপালে ভয়াবহ বন্যা: ভূমিধসে নিহত বেড়ে ৯৫, নিখোঁজ ৫ শতাধিক
স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ ‘নিখোঁজ’ স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস
মুখোশধারী অনেকে এখনো ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনে ষড়যন্ত্র করছে: আইনমন্ত্রী
বিড়ালের পায়ে ২৯ আঙুল, ভাঙল ২৪ বছরের রেকর্ড
বিশ্বজুড়ে সব ধরনের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করলো যুক্তরাষ্ট্র
মাঝ আকাশে বিমানে যাত্রীর ল্যাপটপ বিস্ফোরণে আগুন, আহত ৫
বিস্মৃত পরম্পরায় বিমূঢ় এক জাতি - ১
ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত, রাজপুত্র হলেন বেলজিয়ামের গাড়ি বিক্রেতা
ভারতের বিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশকে দিতে হবে নতুন চার্জ
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে: আইনমন্ত্রী
রংপুরে শিক্ষক পরিবারের ৪ জনকে খুনের মূল রহস্য উদঘাটন, আটক ২
বাতিল হলো বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশে আরোপ করা ট্রাম্পের ভিসানীতি
টাঙ্গাইলে ৪ কোটি টাকায় ব্যয়ে নির্মিত সেতুর নেই সড়ক সংযোগ
সিজারের অপারেশনে পেটে গজ রেখে সেলাই, প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৬ এমপি ভোট দেননি, যা জানা গেলো
দুনিয়ার সবচেয়ে আজব সেতু বাংলাদেশে!
গাছের সঙ্গে বাঁধা সাত শিশু কাওছারের জীবন!
কারাগারে পরিকল্পনা, তিন মাসেই কোটিপতি ২ যুবক
সিডনিতে দুই বাংলাদেশীর আকস্মিক মৃত্যু
অক্সফোর্ডের করোনার ভ্যাকসিন বিরোধীতায় অস্ট্রেলিয়ার ইমাম ও আর্চবিশপ
সিডনিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুনী খুন
অস্ট্রেলিয়ার কারাগারেই আরেক বন্দিকে কোপালেন সেই বাংলাদেশি ছাত্রী সোমা
কিশোরীর সাথে যৌন সম্পর্কের চেষ্টাঃ সিডনিতে বাংলাদেশী ছাত্র গ্রেপ্তার
মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার সেরা ৪-এ বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কিশোয়ার
হুইপপুত্রের গোপন ব্যবসার বলি তরুণ ব্যাংকার
খোলা চুলে সিগারেট হাতে এবার নতুন বার্তা দিলেন পরীমণি
কুইন্সল্যান্ডে বারবিকিউ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককের আকস্মিক মৃত্যু
নাতিদের জন্য মহানবী (সা.) যে দোয়া করেছেন
মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে পড়ে সিডনির দুই বাংলাদেশীর মৃত্যু



