আমতলী উপজেলা চেয়ারম্যানকে পদ থেকে অব্যাহতি ও নতুন করে নির্বাচনের নির্দেশ
ঋণ খেলাপীর দায়ে বরগুনার আমতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম ছরোয়ার ফোরকানকে পদ থেকে অব্যাহতি এবং নির্বাচন কমিশনারকে তফসিল ঘোষণা করে পুনঃনির্বাচনের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) এই আদেশ দিয়েছেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ এবং নির্বাচন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাসানুল ইসলাম। এ রায়ে বাদী ও বিবাদী উভয়ই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, আমরা ন্যায় বিচার পাইনি।
২০১৩ সালে রূপালী ব্যাংকের পটুয়াখালী শাখা থেকে নিজ নামে এক বছর মেয়াদী ১৬ লাখ টাকা ঋণ নেন আমতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকান। যা সুদে-আসলে ২৪ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া তার মালিকানাধীন মেসার্স বনানী ট্রেডার্সের নামেও এক বছর মেয়াদী ঋণ তোলেন গোলাম ছরোয়ার। যা সুদে আসলে ২৭ লাখ টাকা হয়।
ওই ঋণ পরিশোধ না করায় ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ খেলাপীর তালিকায় তার নাম ওঠে। ঋণ খেলাপীর তথ্য গোপান করে ২০১৯ সালের ৩১ মার্চে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ওই নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। এতে সংক্ষুব্ধ হন প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী সামসুদ্দিন আহম্মেদ ছজু।
ওই বছরের ২১ এপ্রিল ঋণখেলাপির তথ্য সংযোজন করে তার প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী সামসুদ্দিন আহম্মেদ ছজু বরগুনা যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালত ও নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তিনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম ছরোয়ার ফোরকানকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাকে বিজয়ী ঘোষণার আবেদন করেন।
বরগুনা যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালত ও নির্বাচন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আল মামুন সকল তথ্য যাচাই-বাছাই ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ফোরকানকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী সামসুদ্দিন আহম্মেদ ছজুকে আমতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিজয়ী ঘোষণার আদেশ দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন ফোরকান।
উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের রায় স্থগিত করে পুনরায় বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারের জন্য পাঠিয়ে দেন। দীর্ঘদিন শুনানী শেষে বুধবার আদালতের বিচারক মোঃ হাসানুল ইসলাম গোলাম ছরোয়ার ফোরকানকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যহতি দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তফসিল ঘোষণা করে পুনঃনির্বাচনের আদেশ দেন।
মামলার বাদী ও প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী সামসুদ্দিন আহম্মেদ ছজু রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমি ন্যায়বিচার পাইনি।
অপরদিকে আলহাজ্ব গোলাম ছরোয়ার ফোরকান বলেন, আমি ন্যায়বিচার পাইনি। এ রায়ের বিরুদ্ধে আমি উচ্চ আদালতে আপিল করবো।
বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট জগদীশ চন্দ্র শীল বলেন, আদালতের বিচারক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম ছরোয়ার ফোরকানকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তফসিল ঘোষণা করে পুনঃনির্বাচনের আদেশ দিয়েছেন।
বিবাদীর আইনজীবী মো. আনিছুর রহমান বলেন, আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। এ আদেশের বিরুদ্ধে আমার মক্কেল উচ্চআদালতে আপিল করবেন।
বরগুনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার হাওলাদার বলেন, এখনও আদেশ পাইনি। আদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





