কন্যাসন্তান বোঝা নয়, আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের অনেক সমাজে একসময় কন্যা সন্তানকে অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। বিশেষ করে প্রাচীন আরবের জাহেলি সমাজে কন্যার জন্মকে দুর্ভাগ্য হিসেবে দেখা হতো। ইসলাম এসে সেই ধারণার পরিবর্তন ঘটিয়ে কন্যাসন্তানের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে।
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, কন্যাসন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নিয়ামত। তার সঠিক লালন-পালন, শিক্ষা ও সুন্দর চরিত্র গঠনের দায়িত্ব পালন করলে তা পিতা-মাতার জন্য বড় সওয়াবের কারণ হতে পারে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এ আয়াত কন্যাসন্তানের মর্যাদার গুরুত্বও তুলে ধরে।
হাদিসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কন্যাসন্তানের প্রতি যত্নশীল হওয়ার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি কন্যাসন্তানদের উত্তমভাবে লালন-পালন করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তান শুধু ভরণ-পোষণের বিষয় নয়, বরং তাদের শিক্ষা, নিরাপত্তা, নৈতিকতা ও আত্মমর্যাদা গড়ে তোলাও পিতা-মাতার দায়িত্ব।
বর্তমান সমাজেও কোথাও কোথাও কন্যাসন্তানের জন্মকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়, শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয় কিংবা অধিকার থেকে দূরে রাখা হয়। এসব আচরণ ইসলামের আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মহানবী (সা.) নিজের কন্যাদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মানের মাধ্যমে উম্মতের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কন্যাসন্তানের প্রতি সম্মান, স্নেহ ও দায়িত্বশীল আচরণ একটি সুন্দর পরিবার ও সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাই কন্যাসন্তানকে বোঝা নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া আমানত ও নিয়ামত হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। ভালোবাসা, শিক্ষা ও মর্যাদার সঙ্গে তাকে বড় করে তোলাই পিতা-মাতার অন্যতম দায়িত্ব।





