avertisements 2

ঢাবি শিক্ষার্থী মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শিক্ষক গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৬ এপ্রিল,রবিবার,২০২৬ | আপডেট: ০২:২৭ এএম, ২৭ এপ্রিল,সোমবার,২০২৬

Text

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় নিজের বাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ওই বিভাগেরই এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মুনিরা মাহজাবিন মিমো ছিলেন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পরিবারের সঙ্গে বাড্ডার বাসায় থাকতেন মিমো।

রোববার সকালে নিজের ঘর থেকে ওই শিক্ষার্থীকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীর বাবা তার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন বলে পুলিশের বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমরা শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী ও তার এক ঘনিষ্ঠ সহপাঠীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে এসেছিলাম। পরে শিক্ষার্থীর বাবা ওই শিক্ষকের নামে মামলা করলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।”

আর সহপাঠীকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

ওই শিক্ষার্থীর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর কথা বলেছেন বাড্ডা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল ইমরান।

পরিবারের সদস্যদের বরাতে তিনি বলেন, “শনিবার রাত ১১ টার দিকে ওই শিক্ষার্থী তার বাবার সঙ্গে কথা বলেছেন। এরপর সে নিজের কক্ষে চলে যায়।

“রোববার ভোরে ফজরের নামাজের সময় বাবা ওঠে মেয়ের কক্ষের দরজায় ডাকাডাকি করে কোন সাড়াশব্দ পাননি। এরপর পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই দরজা ভেঙে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।”

র্পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “পরিবারের সদস্যদের বয়ান ও পারিপার্শ্বিক আলামত দেখে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

ওই শিক্ষার্থীর কক্ষ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধারের তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “সেখানে ৫০ হাজার টাকা তার এক শিক্ষককে দেওয়ার কথা বলেছেন, এটা সম্ভবত বিভাগের বিভিন্ন খরচ বাবদ হতে পারে।”

এজন্য ওই শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী ও তার এক সহপাঠীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। পরে বাবার মামলার প্রেক্ষিতে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখানো হল।

এর আগে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমো মৃত্যুর সংবাদ রোববার সকালে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ওই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী তামান্না হক।

তিনি গণমাধ্যমতকে বলেন, “আমি সকাল ৮ টায় খবর পেয়েছি। আমরা শুনতে পেয়েছি, একটা সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। সেখানে লেখা ছিল—‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দেওয়া হোক।’ আরেকজন সহপাঠীর নামও ছিল সেখানে। বলা ছিল ‘তোমরা দুইজন ভালো থেক’।”

এদিকে মিমোর মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ।

বিভাগের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আমাদের বিভাগের এমএ দ্বিতীয় সেমিস্টারের মেধাবী শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে আমাদের সকলকে শোকে স্তব্ধ করে দিয়ে চলে গেছেন। অনেক উৎফুল্ল আর বলিষ্ঠ স্বভাবের মাহজাবিন এমন সিদ্ধান্ত নিবে, আমরা কেউ বিশ্বাস করতে পারছি না। এমন মৃত্যু আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। বিভাগের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ শোকে আচ্ছন্ন। আমরা চাই, সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘটনায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠত হোক।

“আমরা বিভাগের পক্ষ থেকে মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। আশা করি, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ধৈর্যের সাথে সবাই মিলে এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সক্ষম হবো।”

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2