avertisements 2

গরম থেকে বাঁচতে গিয়ে পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৩ জুন,মঙ্গলবার,২০২৬ | আপডেট: ০৪:১৭ এএম, ২৪ জুন, বুধবার,২০২৬

Text

প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ফ্রান্সে গরম থেকে স্বস্তি পেতে পানিতে নামার পর অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশই অননুমোদিত ও তদারকিবিহীন জলাশয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে ডুবে মারা গেছেন। মৃতদের বড় অংশই তরুণ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠকের পর ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা যে সংকটের মুখোমুখি হয়েছি, তার প্রথম শিকার হচ্ছে তরুণরা। এ ঘটনাকে তিনি একটি মর্মান্তিক বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি সতর্ক করে বলেন, তাপপ্রবাহের সময় অনুমোদনহীন স্থানে সাঁতার কাটাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

তাপপ্রবাহে আরও প্রাণহানি
এদিকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কারপঁত্রা শহরে একটি গাড়ির ভেতর অচেতন অবস্থায় পাওয়া দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুর মৃত্যুর পেছনেও তীব্র গরমকে দায়ী করছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে বোর্দো অঞ্চলে ৮০ থেকে ৯৫ বছর বয়সী আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে তাপজনিত স্বাস্থ্য জটিলতায়।

ইতিহাসের উষ্ণতম রাত
দেশটির আবহাওয়া সংস্থা মেতেও-ফ্রান্স জানিয়েছে, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত ফ্রান্সে রেকর্ড করা হয়েছে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ রাত।

দেশজুড়ে ৩০টি আবহাওয়া কেন্দ্রের গড় তাপমাত্রা দাঁড়ায় ২১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২০১৯ সালের ২৫ জুলাইয়ের ২১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চলমান তাপপ্রবাহে বোর্দো ও পোয়তিয়েরসহ বিভিন্ন শহরে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ও জনসেবাও চাপে পড়েছে।

লাল সতর্কতা জারি

ফ্রান্সের ৫৪টি অঞ্চলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। যেহেতু দেশটিতে অধিকাংশ ভবনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই, তাই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

অনেক স্কুল নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দিয়েছে বা ক্লাসের সময়সূচি পরিবর্তন করেছে, যাতে শিক্ষার্থীরা তীব্র গরমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পায়।


ইউরোপজুড়েও তাপপ্রবাহ

শুধু ফ্রান্স নয়, ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশও তীব্র গরমে ভুগছে।

ব্রিটেনের আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করেছে, চলমান চার দিনের তাপপ্রবাহে দেশটির কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে জুন মাসের দীর্ঘদিনের তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে।

স্পেনেও পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। সাধারণত শীতল আবহাওয়ার জন্য পরিচিত সান সেবাস্তিয়ান শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা জুন মাসের স্বাভাবিক গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি।

কেন বাড়ছে তাপমাত্রা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত একটি আবহাওয়াগত অবস্থার কারণে ইউরোপের ওপর দীর্ঘ সময় ধরে গরম বাতাস আটকে রয়েছে।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষক ক্লেয়ার বার্নস বলেন, সাহারা মরুভূমি থেকে উত্তপ্ত বাতাস উত্তর দিকে উঠে আসছে। একই সঙ্গে বাতাসের গতি কম থাকায় তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ ও ঝড়ের মতো চরম আবহাওয়া ক্রমেই বেশি তীব্র ও ঘন ঘন দেখা যাচ্ছে। ফলে তাপমাত্রা যেমন বাড়ছে, তেমনি চরম বৃষ্টিপাতের ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপজুড়ে এই অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের পেছনে রয়েছে ‘ওমেগা ব্লক’ নামের একটি আবহাওয়াগত ব্যবস্থা, যা উষ্ণ বাতাসকে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখছে। এতে উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা অঞ্চল থেকে গরম বাতাস ইউরোপে প্রবেশ করছে। 

avertisements 2