চরম সংকটে এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো
জ্বালানি সংকটে বন্ধের মুখে ভারতীয় বিমান পরিষেবা
ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় আকাশছোঁয়া জ্বালানির দাম ও ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয়ের চাপে ভারতের বিমান শিল্প চরম সংকটের মুখে পড়েছে।
ভারতের এভিয়েশন মার্কেটের ৯৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণকারী তিন বৃহৎ সংস্থা-এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো এবং স্পাইসজেট সরকারকে জানিয়েছে, দেশটির বিমান শিল্প এখন ‘কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার’ উপক্রম হয়েছে।
প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া’র বরাত দিয়ে মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম এভিয়েশন বাজার ভারতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
পাশাপাশি, আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধের কারণে এয়ারলাইনগুলোর পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার রুটে এই খরচ অনেক বেশি।
বিমান সংস্থাগুলো ‘এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল’ (ATF) এর মূল্য পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে, যা একটি বিমানের মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ।
একই সঙ্গে, ‘ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনস’ (FIA) বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে-যাতে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণের বিশেষ প্রক্রিয়াটি অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক-উভয় ধরনের ফ্লাইটের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভারতের বিমান শিল্প বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে টিকিটের দাম, ফ্লাইট সংখ্যা এবং সামগ্রিক যাত্রীসেবার ওপর।
এদিকে, আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ)-র প্রধান উইলি ওয়ালশ এক সতর্কবার্তায় বলেছেন, বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান জেট জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে এশিয়া।
তার মতে, উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের ভরা মৌসুমে এই জ্বালানিসংকট প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। এশিয়ার পর ইউরোপ, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকাতেও এই সংকটের ঢেউ আছড়ে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
সূত্র : আল-জাজিরা।





