যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দেয়ার হুমকি দেওয়া কে এই আলি লারিজানি
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ৩ মার্চ,মঙ্গলবার,২০২৬ | আপডেট: ০৫:০২ এএম, ৪ মার্চ,
বুধবার,২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন। বহু বছর ধরে তুলনামূলক শান্ত ও বাস্তববাদী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত এই নেতা এখন ইরানের নিরাপত্তা কৌশলের অন্যতম প্রধান মুখ।
৬৭ বছর বয়সী লারিজানি বর্তমানে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হওয়ার পর তিনি কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। খবর আল জাজিরার।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে লারিজানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শাসন ইরানি জাতির হৃদয়ে আগুন ধরিয়েছে। আমরা তাদেরও সেই আগুনের স্বাদ দেবো এবং তারা তাদের কাজের জন্য অনুতপ্ত হবে।
প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার
১৯৫৮ সালের ৩ জুন ইরাকের নাজাফ শহরে জন্মগ্রহণ করেন আলী লারিজানি। তার পরিবার ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার হিসেবে পরিচিত। তার বাবা মির্জা হাসেম আমোলি ছিলেন একজন খ্যাতনামা ধর্মীয় আলেম।
লারিজানি পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব এতটাই বেশি যে একসময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাদেরকে ‘ইরানের কেনেডি পরিবার’ বলেও উল্লেখ করেছে। তার ভাইয়েরাও ইরানের বিচার বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচয়
ধর্মীয় পটভূমির পাশাপাশি লারিজানির রয়েছে শক্তিশালী একাডেমিক পরিচয়। তিনি শরীফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ্চাত্য দর্শনে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করেছেন তিনি। তার গবেষণার বিষয় ছিল জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি প্রথমে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এ যোগ দেন। পরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
তার রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো হলো—
১৯৯৪–১৯৯৭: সংস্কৃতি মন্ত্রী
১৯৯৪–২০০৪: রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা (আইআরআইবি)-এর প্রধান
২০০৫: সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব ও প্রধান পারমাণবিক আলোচক
২০০৮–২০২০: টানা তিন মেয়াদে ইরানের পার্লামেন্ট (মাজলিস) স্পিকার
২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) অনুমোদনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
নতুন সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তাকে আবারও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন। খামেনির মৃত্যুর পর গঠিত অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব কাঠামোর সঙ্গেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে লারিজানি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর হামলা চালাতে চায় না। তবে যেসব ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাবে, সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
লারিজানি আরও জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনা করার পরিকল্পনা নেই এবং ইরান কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।





