avertisements 2

স্ত্রী-সন্তানের কবর ছুঁয়ে অঝোরে কাঁদলেন সাদ্দাম

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৯ জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,২০২৬ | আপডেট: ০৭:৩২ এএম, ২৯ জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,২০২৬

Text

উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার দুদিন পর আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বাগেরহাটের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগনেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম। কারাগার থেকে বেরিয়ে বাড়িতে পৌঁছেই বাগেরহাটের সাবেকডাঙ্গা গ্রামে স্ত্রী-সন্তানের কবরের কাছে যান। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জুয়েল হাসান সাদ্দামের সঙ্গে তার শ্বশুর ও শ্যালকও উপস্থিত ছিলেন। স্ত্রী ও সন্তানের কবরের মাটি ছুঁয়ে অঝোরে কাঁদেন সাদ্দাম। তিনি স্ত্রী-সন্তানের রুহের মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত করেন।

সাদ্দাম বলেন, আমি এক হতভাগা স্বামী, আমি এক হতভাগা বাবা। আমি আমার সন্তানকে কোলে নিতে পারিনি। তুমি আমার স্ত্রী সন্তানকে ক্ষমা করে দাও। আমার স্ত্রী যদি হত্যার শিকার হয়ে থাকে তাহলে, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তার বিচারের ব্যবস্থা কর।

মোনাজাত শেষে শ্বশুর বাড়িতে যান সাদ্দাম। শ্বশুর বাড়িতে কিছুক্ষণ থাকার পরে তিনি চলে যান।

সাংবাদিকদেরকে সাদ্দাম বলেন, আমাকে যশোর কারাগারে দেওয়া হয়েছিল, আমার স্ত্রী মনে করেছিল আমি আর কখনই বের হতে পারব না। আমি মনে করি এটা পরিকল্পিত হত্যা। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

সাদ্দাম আরও বলেন, আমি অনেকবার জামিন চেয়েছি, জামিন হয়নি। আমি আমার ছেলেকে কোলে নিতে পারিনি, আমার স্ত্রী-সন্তানের লাশের বিনিময়ে আমাকে জামিন দেওয়া হলো। এসময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি। কারাগারের সাক্ষাতের সময় ১৫ দিনের পরিবর্তে ৭ দিন করার দাবি জানান তিনি।

এর আগে এদিন দুপুর দুইটার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান জুয়েল হাসান সাদ্দাম। গত সোমবার হাইকোর্টের একটি ডিভিশন ফৌজদারি বেঞ্চ তার ৬ মাসের জামিন দেন।

জুয়েল হাসান সাদ্দাম বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে ছিলেন তিনি।

গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্নালী (২২) ও ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরের দিন শনিবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মরদেহ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে স্বর্নালীর বাবার বাড়িতে আনা হয়। পরে বিকেল সোয়া চারটার দিকে লাশবাহী গাড়িতে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় তাদের মরদেহ। সেখানে স্ত্রী-সন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখেন সাদ্দাম। ওই দিন স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে রাত ১১টা ২০ মিনিটে তাদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্বর্নালীর বাবার বাড়ির কবর স্থানে স্বর্নালী ও শিশু সেজাদ হাসান নাজিফের পাশাপাশি দাফন সম্পন্ন হয়। স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পরে সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তি না পাওয়া নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2