জোট রাজনীতিতে এনসিপি, হতাশ তরুণ ভোটাররা: মীর স্নিগ্ধ
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১০ ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,২০২৬ | আপডেট: ১০:২৭ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যদি নিজস্ব স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও আদর্শ ধরে রাখতে পারত, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলটি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিইও এবং শহীদ মীর মুগ্ধর জমজ ভাই মীর স্নিগ্ধ।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। স্নিগ্ধ লিখেছেন, গত কয়েকদিন ধরে সমসাময়িক বন্ধু, ছোট-বড় ভাইদের সঙ্গে আগামী নির্বাচন নিয়ে আলাপকালে তিনি এক কৌতূহলোদ্দীপক পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, জেনারেশন জি বা বর্তমান তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছিল। এর প্রধান কারণ ছিল পুরোনো ধারার রাজনীতির বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করার আশা এবং দলটির নিজস্ব স্বতন্ত্রতা। কিন্তু সম্প্রতি জোটবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্তের পর সেই উৎসাহে ভাটা পড়েছে।
স্নিগ্ধ লিখেছেন: “কাউকে ভোটের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে প্রায় একই উত্তর মিলছে—‘ভাবছিলাম এনসিপিকে দেব, কিন্তু এখন চিন্তা করতেছি।’ এই অনিশ্চয়তা রাজনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি।”
তিনি আরও বলেন, এনসিপির এ পর্যন্ত নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে বড় ভুল ছিল এই জোটে যাওয়ার বিষয়টি।
ক্ষমতার শর্টকাট পথ নিতে গিয়ে রাজনৈতিক বিশ্বাস হারিয়ে ফেললে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
মীর স্নিগ্ধের মতে, এনসিপি যদি এককভাবে নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখত, তবে হয়তো এই নির্বাচনে বড় জয় না পেলেও আগামীর বাংলাদেশটা ‘এনসিপিময়’ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে যোগ দিয়ে দলটি তাদের সেই স্বকীয়তা সংকটে ফেলেছে।
পোস্টের শেষ অংশে তিনি মন্তব্য করেন: “ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়ার তাড়াহুড়ো যদি ভোটারদের বিশ্বাস নষ্ট করে দেয়, তবে দীর্ঘ পথচলা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এটি কেবল আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ এবং সময়ের ব্যবধানেই এর প্রকৃত ফলাফল স্পষ্ট হবে।”
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় তরুণদের একটি বড় অংশ এনসিপির রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে আসছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই কৌশলগত পরিবর্তন নিয়ে খোদ আন্দোলন সংশ্লিষ্টদের মাঝেই এখন নানা প্রশ্ন ও দ্বিধা দেখা দিয়েছে





