জালাল উদ্দিন আহমেদ
এ ট্র্যাডিশন ভাঙবে কবে!
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১৩ জানুয়ারী,মঙ্গলবার,২০২৬ | আপডেট: ০৬:২৫ পিএম, ১৩ জানুয়ারী,মঙ্গলবার,২০২৬
এসব রাজনীতির জন্যই কি আমাদের চব্বিশের জুলাইয়ের মাসটা ছত্রিশ দিনে শেষ হয়েছিল? নাকি বিশ্বের সর্বনিকৃষ্ট মাফিয়া স্বৈরশাসকের জন্য আরও কিছু প্রাণ ও রক্তের প্রয়োজনে জুলাই মাসটাকে ছয় দিনের জয় বাড়িয়ে নিতে হয়েছিল। বড়ই দুর্ভাগা আমরা। সেই একই কাসুন্দি। নির্বাচন নামের সেই বুর্জোয়া চাল চলনের একই পথে হাঁটা। কোন ফারাক দেখা যায় কি? একই নির্বাচন কমিশন। একই স্টাইলে নির্বাচনী ফরম বিক্রি, যাঁচাই বাছাই আরো কত কিছু! হাস্যকর হিসাব নিকাশের গালভরা(সরি, পাতাভরা) আয় ইনকাম এবং স্থাবর অস্থাবরের ছড়াছড়ি। সর্বশেষ কেরানীমার্কা আমলাদের উকুন বাছার বাহারী আয়োজন নিয়ে মিডিয়ার বাহারী চটকদার প্রতিবেদন। সেই সত্তরে যা দেখেছি, তিয়াত্তরের ঘাপলা কিংবা ডিক্টেটরীয় ওপেন টু বায়িস্কোপের নির্বাচন কমিশনের সাথে এখনকার শপথ নেয়াদের কোন তফাৎ আছে কি? কোন ফারাক তো চোখে পড়ছে না। বাপ দাদারা যা করেছেন,আমরাও তাই করছি। তাহলে এই তিরিশকে ছত্রিশে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কোথায়! কেনইবা আবু সাইদ নামের সেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাস্টারস পড়ুয়া ছেলেটির বৈষম্য ভেঙ্গে সাম্যতা আনার জন্য বুক চেতিয়ে গুলি খাওয়ার এত আকুতি।
এসব ভেবেই তো আমাদের পথ চলার নির্ঘন্টটি তৈরী করা দরকার ছিল। কেন একজন সদ্য শিক্ষা সমাপ্ত করা সারজিস বা নাহিদদের যোগ্যতা উঁচু করার জন্য দেখাদেখি তথ্য উপস্থাপন করে তথাকথিতদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজের আয় ইনকামের মিথ্যা রিটার্ন বা টিন নম্বর দেখিয়ে ক্যান্ডিডেট হতে হবে! কেন একজন বিদেশে প্রতিষ্ঠা পাওয়া টগবগে রক্তের তরুন চিকিৎসক জারাকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাক্ষ্য সবুত তৈরী করে নিজেকে ভোটপ্রার্থী হওয়ার যোগ্যতায় ওই ইসি নামক গদবাঁধা যন্ত্র মানবদের সামনে কাচুমাচু করে দাঁড়াতে হবে! এসব হাজারো প্রশ্নবিদ্ধ সেকেলে নিয়মের বেড়াজালে পড়ে থাকলে কি জুলাই চেতনার ফসল ঘরে উঠানো যাবে! যে ছেলে মেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ সমাপ্ত না করে, এমন কি দেশে চলমান গদবাঁধা রাজনীতির পিছনে না ছুটে নিজেদের বুদ্ধিমত্তা ও প্রচন্ড ইচ্ছেশক্তি এবং দেশভক্তির স্বতঃস্ফুর্ততায় যুথবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে দেড় দশকের এক ‘পনের টনি’ স্বৈরশাসন থেকে দেশ ও জাতিকে ভারমুক্ত করতে পারে; অন্য কিছু ভাবার আগে তাদেরকে নিয়ে রাষ্ট্র কাঠামোর অন্তর্বর্তীদের একটু হলেও ভাবা উচিত ছিল না কি! ট্রাডিশন্যাল স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে খালি হাতে তাদেরকে এভাবে মল্লযুদ্ধে নামানো কি দেশ ও জাতির জন্য ভাল কিছু বয়ে আনবে! নাকি গদবাঁধা গড্ডালিকায় তারাও একদিন অমুক ভাই তমুক এর শ্লোগান হয়ে এ প্লাস বি হোল স্কয়ারের ফর্মুলায় দেশ ও জাতিকে পুরনো ধাঁচেই নাচাবে। লক্ষ্মন তো তাইই বলে। ইতোমধ্যেই সেই লক্ষ্মনরেখা টেনে দিয়ে তাদেরকে মাঠেও নামানো হয়েছে৷
ড. মোহাম্মদ ইউনুস একজন প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ এবং সেই সুবাদে তার কর্মফলে তিনি একজন নোবেল লরিয়েট। তবে এটাও মানতে হবে যে, অন্য আট দশটা নোবেল বিজয়ীর মত তিনি কিতাবী নোবেল লরিয়েট নন। তার কথা কাজ এবং সেসবের বাস্তবায়নযোগ্য পথ ও পন্থা উদ্ভাবন করে একজন বিশ্বনন্দিত চলমান শিক্ষক হিসাবে তিনি সমাদৃত। এটাই আমাদের সৌভাগ্যের দ্বারকে অনেকভাবে মসৃন করার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু ঘরের শত্রু বিভীষন নামক সেই পতিত এবং পলাতক মাফিয়ার দল যখন এতদিনের বন্ধু সেজে থাকা উগ্রবাদী ধর্মীয় প্রতিবেশীর ঘরে আশ্রয় নিয়ে তাদের মাধ্যমে একের পর এক শত্রুতামূলক কার্যকলাপে আমাদের দেশকে বিপর্যস্ত করে চলেছে, তখন এই অরাজনৈতিক শ্বেত শুভ্র মানুষটির একার পক্ষে কতটুকু করার থাকে। কেননা যে উচ্চাশা নিয়ে জেন-জির (Gen Z) তরুন যুবারা বাংলার অপামর জনগনকে সঙ্গে নিয়ে যাদের মাধ্যমে এই ছেঁড়া কাঁথার অন্তর্বর্তী বানালেন তারা তো বেসিক্যালি একেকজন পুঁথি পাঠের ঈশ্বর পাটনী। সুতরাং ‘ভিক্ষা চাইনা কুত্তা সামলাও’ এর দশায় ওইসকল সহকর্মী কিভাবে তাকে ঘরে বাইরে দুইদিকে সামাল দেয়ার সহযোগী হবেন সেটাই তো লাখ টাকার প্রশ্ন। তাছাড়া বাঙালীর চারিত্রিক বৈশিষ্টের ‘'বাবু সেলাম বারে বার” এর গন্ডিতে আবদ্ধ রাজনীতির চরিত্রগুলো, যারা লক্ষ্মনরেখা পার হওয়ার মুরোদ রাখেন না তাদের দিয়ে এই দেশকে কতটুকু টেনে নেয়া যায় - সেটা তো লাখ টাকা নয় বরঞ্চ কোটি টাকার প্রশ্নেই ফেলা যায়।
পাঠক লক্ষ্য করেছেন কি! যে স্যালুটটা আমাদের সোনার ছেলে সারজিস নাহিদ জারা হাদিদের পাওয়ার কথা ছিল, সেটার পরিচর্যা না করে ইতোমধ্যেই আমরা পারিবারিক পরম্পরার তৃতীয় প্রজন্মের অবজেক্টকে নিয়ে এখন থেকেই মাতামাতি শুরু করে দিয়েছি। তাছাড়া আমাদের শত্রু পালিত মিডিয়া সেন্টারগুলো সেসব খবরাখবর অতি উৎসাহ নিয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন বলে দৃশ্যমান হচ্ছে। সুতরাং অবধারিত ভাবেই গদবাঁধা পথেই “আজ্ঞে” মার্কা এই বাঙালী তল্লাট আবারো এক নতুন ডাইনেষ্টির করতলে লুটোপুটি খাবে এবং অবশেষে অতিভক্তির আতিশয্যে সৃষ্টি হওয়া কোন এক দৌর্দন্ড প্রতাপশালী স্বৈরশাসকের আবির্ভাবে বাঙালী আবারো সেই নাকাল অবস্থায় পড়বে বলে মনে করার যথেষ্ট কারন রয়েছে। আর এসব লেজুড়বৃত্তির মানসিকতার ‘ডাইনেষ্টি সৃষ্টি করে টিকে থাকার রাজনীতি’ দিয়ে আর যা কিছু হোক না কেন, অদূর ভবিষ্যতে দেশে পার্শ্ববতী প্রতিবেশীর মতই ধর্মান্ধ “আর এস এসের” আদলে “আই এস” জাতীয় কোন উগ্র ধর্মান্ধ শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।
লক্ষ্মন তো তাইই বলে। একটি গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কি এমন ঠেকা পড়লো যে তাকে পরমত সহিষ্ণুতার সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক আচরনে আবদ্ধ থেকে জঞ্জালে ভরা এই রাষ্ট্রে “বড় ভাল লোক ছিল”র সার্টিফিকেট অর্জন করতে হবে! বিশ্ব দরবারে গণতান্ত্রিক আচরনের বাহবা নিতে হবে। গত পনের বছরে স্বৈর শাসন সৃষ্ট উইপোকার ঢিপিকে নির্মুল করার পরিবর্তে সেই ঢিপিতে বসে “সব ঠিক হয়ে যাবে”র অবাস্তব অলীকে মহানবীর মদিনা সনদের দঃস্বপ্ন দেখছেন যারা তারা কেন শিক্ষা নেন না সেই ইতিহাসের, যে ইতিহাসে এই মাটির তুখোড় সন্তানটি অপামর বাঙালীর নয়নমনি হয়ে তাদেরই ঘড়ে বন্দুক রেখে দেশের পরাক্রমশালী ডিক্টেটর হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তারই ঔরষজাত কন্যা বাঙালীর ভালবাসা নিয়ে পরে জগদ্দল পাথরের মত খুনী স্বৈরাচারী হয়ে দেশ থেকে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেছেন।
তাতেও যদি বাঙালীর স্বস্তি আসতো তা কিন্তু নয়। একটি নিকৃষ্ট প্রজাতির প্রাণী আচরনে সেই পলাতক স্বৈরাচারী কন্যাটি বাংলাদেশকে নিজের বাপ-দাদার তালুক ভেবে বন্ধুর মুখোশধারী শত্রুর ঘরে বসে একের পর এক ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আমাদের এই সোনার দেশকে নরক বানানোর অপকর্মে লিপ্ত রয়েছেন। আবার সেই মহান(!) রাষ্ট্রটি নিজের দেশের বাংলা ভাষাভাষি নাগরিকদের “বাংলাদেশী ঘুষপেটিয়া” নাম দিয়ে তাদেরকে বাংলাদেশ সীমান্তে পুশব্যাক করার এক নির্লজ্জ নাটক সাজাচ্ছে। অথচ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তারা অবৈধভাবে পালিয়ে যাওয়া ধিকৃত স্বৈরশাসক হাসিনা ও তার দলবলকে নিজ দেশে মেহেমান বানিয়ে বাংলাদেশকে প্রতিনিয়ত অস্থিতিশীল করে রেখেছে। আর এদিকে বংশ পরম্পরার আবুলের দল সেসব বাস্তবায়নের স্বপ্নে দেশকে নরক বানানোর মচ্ছ্ববে নিরলস তো রয়েছেই। কাঁহাতক এই ট্র্যাডিশনাল কার্যক্রম চলতে থাকবে!
পুকুরে শিকারী মাছের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। চৈত্র মাসে গৃহস্ত পুকুর সেঁচের ব্যবস্থা নিয়েছেন। কারন সেই পুকুর এখন অল্প পানির মাছের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বোয়াল চিতল মাগুর শোলের উপদ্রবে রুই কাতলা জাতীয় সহজলভ্য ও সুস্বাদু মাছের আকাল পড়েছে। পুকুর সেঁচা হোল। বোয়াল শোল চিতল কই মাগুরের দেখাও মিলল। গৃহস্ত এবং আশেপাশের কৃষকরা তাদের জমির সার হিসাবে পুকুরের পঁচা প্যাঁক নিয়ে জমিতে ছিটিয়ে দিল। গৃহস্ত তার পুকুরে ফের পানি ঢাললো। শখ করে মেঘনা ঘাট থেকে উন্নত প্রজাতির রুই কাতলা মৃগেলের পোনা এনে পুকুরে ছাড়লো। কিন্তু ওই যে ঘরের মুরুব্বী এবং সঙ্গে ঘরওয়ালী! তারা বায়না ধরলো মাগুর কৈ জাতীয় পুষ্টিকর মাছের প্রয়োজন। ওদের পোনাও ছাড়া হোক। কিন্তু সেই কৈ মাগুরের পোনার সঙ্গে মিশে থাকা শিকারী বোয়াল চিতলের পোনাও দু’চারটা মিশে গিয়ে ফের সেই একই ফ্যাসাদে পড়লো গৃহস্ত। আমরাও পড়েছি সেই একই ফাঁপড়ে। এ ফাঁপড়ের যবনিকা নেই। ট্র্যাডিশন বলে কথা! এখনই তো ঊনিশ না একত্রিশ দফা টফার উচ্চস্বর বেজে উঠেছে। জুলাই সনদ আর গণভোট! সেতো অধ্যাদেশেই শেষ বলে মনে হচ্ছে। “কন্যা দায়গ্রস্ত অন্তর্বর্তী” ছাড়া কাউরি মুখে কি এই শব্দগুলো শোনা যায়? কোথায় সেই জুলাই জোশ! বৈষম্য বিরোধীরা তো গড্ডলিকার রাজনীতিতে সাঁতার কাটা শুরু করে দিয়েছে। হা কপাল!
এ ট্র্যাডিশন ভাঙবে কবে!
দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট
অবশেষে খুলনা-২ আসনে মঞ্জুর পক্ষে নামছেন দলের সব নেতা
খতিব ও খুতবা
অস্ট্রেলিয়া বিএনপির খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা
মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে টেকনাফে শিশু নিহত
‘আমরা আমেরিকান হতে চাই না’: হুমকির জবাবে গ্রিনল্যান্ডের রাজনীতিকরা
ইরানে হামলার ব্যাপারে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন ট্রাম্প
তাসনিম জারার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা
আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই : ট্রাম্প
২৯৫ ওষুধ অত্যাবশ্যকীয় তালিকায় মূল্য নির্ধারণ করবে সরকার
স্বেচ্ছাসেবক নেতা মুছাব্বির হত্যা: প্রধান শুটারসহ আটক ৩
মতপার্থক্য থাকলেও যেন মতবিভেদ না হয়: তারেক রহমান
মার্কিন চাপে ‘বিপুল সংখ্যক’ রাজনৈতিক বন্দি মুক্তি শুরু করলো ভেনেজুয়েলা
ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মতি
দুনিয়ার সবচেয়ে আজব সেতু বাংলাদেশে!
গাছের সঙ্গে বাঁধা সাত শিশু কাওছারের জীবন!
কারাগারে পরিকল্পনা, তিন মাসেই কোটিপতি ২ যুবক
সিডনিতে দুই বাংলাদেশীর আকস্মিক মৃত্যু
সিডনিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুনী খুন
অক্সফোর্ডের করোনার ভ্যাকসিন বিরোধীতায় অস্ট্রেলিয়ার ইমাম ও আর্চবিশপ
অস্ট্রেলিয়ার কারাগারেই আরেক বন্দিকে কোপালেন সেই বাংলাদেশি ছাত্রী সোমা
কিশোরীর সাথে যৌন সম্পর্কের চেষ্টাঃ সিডনিতে বাংলাদেশী ছাত্র গ্রেপ্তার
মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার সেরা ৪-এ বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কিশোয়ার
হুইপপুত্রের গোপন ব্যবসার বলি তরুণ ব্যাংকার
খোলা চুলে সিগারেট হাতে এবার নতুন বার্তা দিলেন পরীমণি
কুইন্সল্যান্ডে বারবিকিউ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককের আকস্মিক মৃত্যু
মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে পড়ে সিডনির দুই বাংলাদেশীর মৃত্যু
হাটে কচুর লতি বিক্রি নিয়ে মুখ খুললেন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক



