avertisements 2

শরণার্থী থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা ইরানকুন্ডা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১৫ জুন,সোমবার,২০২৬ | আপডেট: ১০:১৮ পিএম, ১৫ জুন,সোমবার,২০২৬

Text

    ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কের বিপক্ষে ভ্যাঙ্কুভারের গ্যালারিতে তখন ১০ হাজার সকারু সমর্থকের গগনবিদারী চিৎকার। ঠিক সেই মুহূর্তে কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে ছুটে গেলেন নেস্টোরি ইরানকুন্ডা। অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি টিম কাহিলের সেই চিরচেনা স্টাইলে কর্নার ফ্ল্যাগকে সামনে রেখে শুরু করলেন বক্সিং পাঞ্চের বিখ্যাত উদ্যাপন। অতীত আর ভবিষ্যৎ যেন এক বিন্দুতে এসে মিলল ভ্যাঙ্কুভারের এই ঐতিহাসিক রাতে। 

২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচেই তুরস্ককে ২-০ গোলে স্তব্ধ করে দিল অস্ট্রেলিয়ার একঝাঁক তরুণ তুর্কি। আর এই অবিশ্বাস্য রূপকথার প্রধান নায়ক ২০ বছর ও ১২৫ দিন বয়সী ফরোয়ার্ড নেস্টোরি ইরানকুন্ডা। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম ইতিহাসে লিখে নিলেন তিনি। 

অথচ ২০০৬ সালে তানজানিয়ার এক শরণার্থী শিবিরে বুরুন্ডিয়ান দম্পতির ঘরে জন্ম হয়েছিল এই ফুটবলারের। গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে দেশ ছাড়া সেই পরিবারটি পরে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় পায়। অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের হয়ে প্রথম দলে ১৬ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করে নজর কাড়েন ইরানকুন্ডা। ২০২৪ সালে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দিয়ে হ্যারি কেইনের সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করলেও মূল দলে খেলার সুযোগ পাননি। 

এরপর সুইজারল্যান্ডের গ্রাসহপার ক্লাবে ধারে খেলেন। কিন্তু বিশ্বকাপে খেলার নিয়মিত সুযোগ নিশ্চিত করতে বায়ার্ন ছেড়ে স্থায়ীভাবে ওয়াটফোর্ডে যোগ দেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নিজের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে গোল করার পর বিশ্বকাপে তুরস্কের বিরুদ্ধে ম্যাচের ২৭তম মিনিটে ইতিহাস গড়েছেন এই তরুণ। 

ম্যাচের শেষ দিকে যখন তুরস্ক সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে অল-আউট আক্রমণে উঠছিল, ঠিক তখনই কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় অস্ট্রেলিয়া। সকারুদের এক দুর্দান্ত পালটা আক্রমণ থেকে বল পেয়ে যান কনর মেটকাফ। ডি-বক্সের ঠিক সীমানা থেকে বাম পায়ের এক বুলেট গতির শটে তুরস্কের জাল কাঁপান তিনি। অসাধারণ এই জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের যাত্রা দুর্দান্তভাবে শুরু করলো পপোভিকের নতুন প্রজন্মের অস্ট্রেলিয়া।

আরও পড়ুন

avertisements 2