১০ জন শিক্ষক পড়িয়েছেন ২ জন শিক্ষার্থীকে, তবুও কেউ পাস করেনি
খুলনা নগরীর আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। অথচ এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে অংশ নিয়েছিলেন মাত্র দুই শিক্ষার্থী। তাদের কেউই পাস করতে পারেননি।
একই চিত্র খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। মানবিক বিভাগ থেকে চার শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক রয়েছেন নয়জন।
এসএসসির ফল প্রকাশের পর জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যখন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস, তখন এই দুটি বিদ্যালয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার খুলনা জেলার ৩৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০ হাজার ৭৩৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে ১৪ হাজার ৪২১ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। জেলার মাত্র দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
ফল প্রকাশের পর আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ ছিল।
পরে মোবাইল ফোনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ে মোট ১৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। বিদ্যালয়টি নন-এমপিওভুক্ত হলেও শিক্ষকরা মনোযোগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ান।
তিনি বলেন, ‘এবার এসএসসি পরীক্ষায় দুজন অংশ নিয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুজনই ফেল করেছে।’
অন্যদিকে ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নের কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে চার শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম সরদার বলেন, ‘আজকাল ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করে না। এ কারণেই তারা ফেল করেছে। বিদ্যালয়ে নয়জন শিক্ষক রয়েছেন। তাদের কোনো ত্রুটি ছিল না। স্কুলে ও বাড়িতে যদি না পড়ে, তাহলে আপনি পাস করাবেন কীভাবে?’





