avertisements 2

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ফলপ্রসূ আলোচনায় কমলো জ্বালানি তেলের দাম

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২২ জুন,সোমবার,২০২৬ | আপডেট: ১১:২৪ পিএম, ২২ জুন,সোমবার,২০২৬

Text

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ফলপ্রসূ শান্তি আলোচনার পর বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম নেমে এসেছে ৮০ ডলারের নিচে। যা গেল ৩ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এদিকে, ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর থেকে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের ঘোষণায় বৈশ্বিক বাজারে তেলের ঘাটতির দীর্ঘদিনের উদ্বেগ অনেকটাই কেটে গেছে।

দীর্ঘদিন পর বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গতি ফিরতে শুরু করেছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। এর ফলে প্রায় প্রতিটি দেশেই দেখা তীব্র জ্বালানি সংকট। দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা যায় নিত্যপণ্যের বাজারেও।

অবশেষে সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের বৈঠকে শান্তি চুক্তির বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় দুই পক্ষ। যেখানে গুরুত্ব পায় হরমুজ প্রণালি সচল, ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নানা বিষয়। এসব ইস্যুতে একটি সমঝোতায় আসার খবরে সুবাতাস বইছে বিশ্ব বাণিজ্যে।

তেহরান-ওয়াশিংটনের ফলপ্রসূ শান্তি আলোচনার খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি নেমে এসেছে ৮০ ডলারের নিচে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দাম ০.৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি দাঁড়িয়েছে ৭৬ ডলারে। যা গেল মার্চ মাসের পর সর্বনিম্ন। এখন উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা মধ্যপ্রাচ্যের সাড়ে ৮ কোটি ব্যারেল তেল আবারও প্রবেশ করছে বৈশ্বিক বাজারে।

চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের জ্বালানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর থেকে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়েও ইতিবাচক সাড়া এসেছে। এরে ফলে বৈশ্বিক বাজারে দীর্ঘদিন ধরে তেলের যে বড় ধরনের ঘাটতি ছিলো, তা নিয়ে সংশয় অনেকটা কেটে গেছে। ইরানের তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে বাজারে বাড়বে তেল সরবরাহ।

ইরানের অর্থনৈতিক কমিটির সদস্য হোসেইন গুরবানজাদেহ বলেন, ‘ইরানের তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মওকুফের বিষয়ে চূড়ান্ত খসড়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই এ প্রত্যাহারের দলিল ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অব্যাহতির ঘোষণা আসবে।’


এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোও পুনরায় নিজেদের রপ্তানি কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে জারি করা সব ধরনের জরুরি বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ইরাকের তেলক্ষেত্রগুলো ফের উৎপাদন বাড়াচ্ছে।

তবে, বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে নিয়মিতভাবে জাহাজ চলাচল শুরু না হওয়া পর্যন্ত বাজার অস্থিতিশীল থাকবে। এ পথের বাণিজ্য পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে আরও কয়েক মাস।
 

আরও পড়ুন

avertisements 2