avertisements 2

কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে টেনে-হিঁচড়ে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ৯ সেপ্টেম্বর, বুধবার,২০২৬ | আপডেট: ০৩:০৮ এএম, ১০ সেপ্টেম্বর,বৃহস্পতিবার,২০২৬

Text

সিলেট নগরীতে চুরির অপবাদে ১৬ বছরের এক কিশোরীর কোমরে লোহার শিকল বেঁধে সড়কে টেনে-হিঁচড়ে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- শাহজালাল উপশহরের সি ব্লকের ৪৪ নম্বর রোডের ৫১ নম্বর বাসার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে মো. জাকির হোসেন (৪৩) ও মো. মোজাক্কির হোসেন (৪০) এবং একই রোডের ৫৪ নম্বর বাসার মো. মজিবুর রহমানের ছেলে মো. বোরহান উদ্দিন (৪৫)।

শাহপরাণ থানা পুলিশ ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করে মঙ্গলবার রাতে উপশহর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে উপশহরের ডি ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার একটি দোকানের ক্যাশ বাক্স চুরির চেষ্টার অভিযোগে কয়েকজন ব্যবসায়ী ওই কিশোরীকে আটক করেন। এরপর আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে তাঁকে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর কোমরে ভারী লোহার শিকল বেঁধে প্রকাশ্যে সড়কে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরীটি কাঁদতে কাঁদতে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য আকুতি জানাচ্ছে। এ সময় আশপাশে উৎসুক মানুষের ভিড় থাকলেও তাঁকে রক্ষায় কেউ এগিয়ে আসেননি।

খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাঁকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) আইনের ৮৯ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়। তবে কিশোরীর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, চুরির অভিযোগ প্রমাণসাপেক্ষ বিষয়। কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে শারীরিকভাবে নির্যাতন বা জনসমক্ষে শিকল বেঁধে ঘোরানোর সুযোগ নেই।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হোসাইন আহমদ শিপন বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারা অনুযায়ী কোনো সাধারণ নাগরিক অপরাধীকে আটক করতে পারলেও অবিলম্বে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে হয়। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন বা জনসমক্ষে শিকল বেঁধে ঘোরানোর অধিকার কারও নেই।

মানবাধিকারকর্মী আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল হেলাল বলেন, ‘ঘটনাটি সভ্য সমাজের মুখে চুনকালি দিয়েছে। অপরাধ সংঘটিত হলেও প্রচলিত আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। একজন কিশোরীকে জনসমক্ষে এভাবে অপমান ও নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমদ বলেন, ঘটনার সময় শিকল বেঁধে কিশোরীকে ঘোরানোর বিষয়টি পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেনি। পরে ভিডিওটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ও কিশোরী নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
 

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2