বাগেরহাটে মাজারে কুমিরের মুখে কুকুর, তারকাদের তীব্র ক্ষোভ
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ১১ এপ্রিল,শনিবার,২০২৬ | আপডেট: ০৪:২৪ এএম, ১২ এপ্রিল,রবিবার,২০২৬
বাগেরহাটের হযরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে একটি কুকুরকে কুমিরের মুখের সামনে পড়ার ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কুকুরের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে নেটিজেনদের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যায়, কুমিরের মুখোমুখি থাকা কুকুরটি ঘাটে যখন অসহায় অবস্থায় ছিল সেসময়ে চারপাশে অনেক দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু কেউই কুকুরটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি। বরং দর্শনার্থীদের অনেকেই সেখানে ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন।
এই ঘটনা অমানবিকতার দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে নানা মহলের মানুষই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশের শোবিজ তারকারাও তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার কথা জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনার ভিডিও দেখে মর্মাহত প্রাণী অধিকার নিয়ে বরাবরই সোচ্চার অভিনেত্রী জয়া আহসান। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘একজনের কনটেন্ট বানানো আর মজা করার জন্য যে তাকে নির্মমভাবে মরতে হবে, এটা সে বোঝেনি-বোকা কুকুর!’
গায়ক তানজীব সারোয়ার তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘মৃত্যুর আগপর্যন্ত তাকিয়ে ছিল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ও ভেবেছিল, ওর এই বিশ্বস্ত লোকটা তাকে বাঁচাবে। কিন্তু এখানে কুমিরের দোষ নেই; কারণ, কুমিরের খিদে পেলে সে দেখামাত্রই খেয়ে ফেলে। আর এখানে নিরীহ কুকুর, এটাই কি মনুষ্যত্ব?’
অভিনেত্রী দীপা খন্দকার মন্তব্য করেন, ‘ভয়ানক।’
অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘এ দেশে মানুষের চেয়ে অমানুষের সংখ্যা বেশি। দেশ খারাপ না, মানুষেরাই খারাপ-তাই দেশ এগোয় না।’ একই সঙ্গে তিনি মানুষের মানসিকতা পরিবর্তনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম লিখেছেন, ‘লজ্জাহীন বিবেকহীন প্রতারক প্রাণীকুলে একমাত্র মানুষ ই হতে পারে! কুকুরের বিশ্বাস ও মানুষ ভেঙে ফেলেছে! তবে এর উল্টো ও আছে। সঠিক মানুষকে সম্মান না করার জন্য চারপাশে আবর্জনা বাড়ছে। মানবিক গুণের মানুষকে ভুল না বুঝে ভালবাসতে শিখুন, আর পশুরূপীদের জন্য একরাশ ঘৃণা।’
উল্লেখ্য, এ ঘটনা নিয়ে মাজারের খাদেম, নিরাপত্তাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা গণমাধ্যমে দাবি করেন, ঘটনাটি গত বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকালের।
দিঘির পাড়ে একটি অসুস্থ কুকুর শিশুসহ কয়েকজনকে কামড়ে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকজন কুকুরটিকে তাড়া করলে সেটি ঘাটের দিকে যায়। সেখানে মাজারের ফোরকান নামের এক নিরাপত্তারক্ষীকে আঁচড় দেওয়ার পর তিনি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি দীঘির পানিতে পড়ে যায়। এর পরপরই দিঘির কুমিরটি ধীর ধীরে এসে কুকুরটিকে চোয়ালে করে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।





