avertisements 2

ইরান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতায় পাকিস্তানকে ‘দালাল রাষ্ট্র’ বলল ভারত

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২:০০ এএম, ২৬ মার্চ,বৃহস্পতিবার,২০২৬ | আপডেট: ০৬:৪৬ পিএম, ২৬ মার্চ,বৃহস্পতিবার,২০২৬

Text

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলা যুদ্ধের আগুনে যখন পানি ঢালার চেষ্টা চলছে, তখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতাকে নজিরবিহীন কড়া ভাষায় তুলাধোনা করলো ভারত। বৈশ্বিক কূটনীতিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেয়ার জন্য ইসলামাবাদের প্রচেষ্টাকে রীতিমতো ব্যঙ্গ করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পাকিস্তানকে ‘দালাল রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বুধবার দিল্লিতে আয়োজিত এক সর্বদলীয় বৈঠকে জয়শঙ্কর সোজা জানিয়ে দেন, ভারত পাকিস্তানের মতো কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগী রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করবে না। বৈঠকে উপস্থিত এক সদস্যের বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, জয়শঙ্করের এই মন্তব্য ছিল সোজাসাপ্টা এবং ঝাঁঝালো।

চলমান ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তান নিজেকে শান্তিদূত হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের একটি পোস্ট শেয়ার করে শান্তি স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেন, তখন থেকেই পর্দার আড়ালে পাকিস্তানের সক্রিয়তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। তবে ভারতের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তানের এই তৎপরতা নতুন কিছু নয়; ১৯৮১ সাল থেকেই তারা আমেরিকার দূতাবাসে 'ইন্টারেস্ট সেকশন' চালুর মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তাবাহকের কাজ করে আসছে।

ভারতের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাবে মোদী সরকার জানিয়েছে, ভারত কোনো হইচই না করে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। বৈঠকে জানানো হয়, যুদ্ধকবলিত ইরান থেকে এ পর্যন্ত ৪ লাখ ২৫ হাজার ভারতীয়কে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।

আমেরিকার প্রস্তাব উড়িয়ে দিল তেহরান, যুদ্ধ বন্ধে পাঁচ শর্তআমেরিকার প্রস্তাব উড়িয়ে দিল তেহরান, যুদ্ধ বন্ধে পাঁচ শর্ত
জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে সরকার জানিয়েছে, এলপিজি সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে এবং ভারত বর্তমানে রাশিয়ার কাছ থেকে বড় একটি অংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত নিজের স্বার্থে ইরানের কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

ভারত তার ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, একদিকে আমেরিকা ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং ইসরায়েল প্রধান কৌশলগত মিত্র, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গেও দিল্লির সম্পর্ক অটুট। তবে ব্রিকস জোটে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানের কারণে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে পৌঁছানো কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও জানানো হয়।

আমেরিকা-ইরান আলোচনায় নাটকীয় মোড়ের সম্ভাবনাআমেরিকা-ইরান আলোচনায় নাটকীয় মোড়ের সম্ভাবনা
বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু জানান, বিরোধীদের সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থে সব দল এখন সরকারের পাশে ঐক্যবদ্ধ।

বিষয়:

আরও পড়ুন

avertisements 2