Main Menu

বাড়ছে তাপমাত্রা, বরফ ছেড়ে রেবিয়ে আসছে আরো প্রাণঘাতী ভাইরাস

যুগ যুগ ধরেই মানুষ আর ভাইরাস-ব্যাক্টিরিয়া পাশাপাশি বাস করে চলেছে। মানুষ যতবারই নানারকম প্রতিষেধক আবিষ্কার করে, ওষুধ আবিষ্কার করে তাদের প্রতিহত করতে চেয়েছে, বারাবরই তারা জেনেটিক মিউটেশন ঘটিয়ে নতুন রূপে ফিরে ফিরে এসেছে।

ভাইরাস-ব্যাক্টিরিয়ার সঙ্গে মানুষের এই যুদ্ধ অপরিসীম। এখন প্রশ্ন হল যদি এমন কিছু মাইক্রোবসের সম্মুখীন আমাদের হতেই হয়, হাজার হাজার বছর আগে যাদের অস্তিত্ব এই বিশ্ব থেকে লুপ্ত হয়ে গিয়েছিল?

তাহলে কি সেই সমস্ত প্রাণঘাতী মাইক্রোবসের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হতে পারব আমরা? নাকি আরও একবার মৃত্যু-মিছিল শুরু হবে বিশ্বে?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন দিন কিন্তু আসতে চলেছে। আর বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলেই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাণঘাতী অতীতের অনেক মাইক্রোবস ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

২০১৬ সালে সাইবেরিয়ার এক ১২ বছরের শিশু অ্যান্থ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়। গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছিলেন, বহু বছর আগে ওই এলাকায় অ্যান্থ্রাক্সের কবলে প্রচুর রেনডিয়ারের মৃত্যু হয়েছিল। সেই দেহগুলো বরফের নীচে চাপা পড়েছিল।

বিশ্ব উষ্ণায়নে বরফ গলার সঙ্গে সঙ্গেই মৃতদেহে চাপা পড়ে থাকা জীবাণু বাইরে বেরিয়ে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে। কোনোভাবে পানি এবং খাবারের সঙ্গে মিশে গিয়েই ওই শিশুর সংক্রমণ ঘটায়।

শুধু এই একটা ঘটনাই নয়, গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা বরফের নীচে চাপা পড়ে থাকা একাধিক প্রাণঘাতী জীবাণুর খোঁজ পেয়েছেন। যেমন ২০০৫ সালে নাসার বিজ্ঞানীরা আলাস্কার একটি বরফ হ্রদ থেকে ৩২ হাজার বছরের পুরনো এক ব্যাক্টিরিয়ার খোঁজ পেয়েছেন।

এর দু’বছর পর ২০০৭ সালে আন্টার্কটিকার বরফে চাপা পড়ে থাকা ৮০ লক্ষ বছর পুরনো এক ব্যাক্টিরিয়ার সন্ধানও পেয়েছেন।

১৯১৮ সালে সারা বিশ্বের ত্রাস হয়ে উঠেছিল স্প্যানিস ফ্লু। প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এই সংক্রমণের জেরে। আলাস্কার তুন্দ্রায় বরফের তলার গণ কবর দেওয়া হয়েছিল মানুষদের। সেই জায়গা থেকেই স্প্যানিস ফ্লু ভাইরাসের জেনেটিক অংশ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

এমনকী একইভাবে সাইবেরিয়ায় বরফের তলা থেকে গুটি বসন্ত এবং বিউবোনিক প্লেগ-এর ভাইরাসও মিলেছে। ১৮৯০ সালে সাইবেরিয়াতে মহামারি আকার নিয়েছিল গুটি বসন্ত। ৪০ শতাংশ জনবসতি সাফ হয়ে গিয়েছিল এই রোগে।

ফ্রান্সের এইক্স-মারসেলি ইউনিভার্সিটি বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন ধরনের মাইক্রোবসের জন্য খুব ভাল সংরক্ষকের কাজ করে বরফের স্তূপ। কারণ অত্যন্ত ঠান্ডা, কোনও অক্সিজেন নেই এবং সূর্যের আলোও পৌঁছয় না। ফলে যুগ যুগ ধরে বরফের তলায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বেঁচে থাকতে পারে এরা।

পৃথিবীর দুই প্রান্তে বছরের পর বছর ধরে যে বরফের আস্তরণ জমা হয়ে রয়েছে, তাপমাত্রা বাড়ার কারণে তা প্রতিদিনই গলতে শুরু করেছে। ফলে বরফ স্তূপের গভীরে চাপা পড়ে থাকা এই সমস্ত প্রাণঘাতী ভাইরাস-ব্যাক্টিরিয়াও ফের সক্রিয় হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। আনন্দবাজার।

উৎসঃ   dailynayadiganta
 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT