Main Menu

শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে কথা

রাশেদুল ইসলাম: সম্প্রতি আমার একটা পদোন্নতি হয়েছে । একই সাথে কর্মস্থলেরও  পরিবর্তন হয়েছে ।  আমার মত চাকুরীজীবীদের জন্য  পদোন্নতি এবং বদলি অতি সাধারণ বিষয় । ব্যতিক্রম  কোন কিছু  নয় । তারপরও তথ্যপ্রযুক্তির  এই যুগে  এ ধরণের যে কোন বিষয় ফেসবুকে চলে আসে । অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাল হয় । আমার নিজের ক্ষেত্রেও অনেকটা  তাই হয়েছে । অনেক গুরুজন, সুপ্রিয় সহকর্মী, আত্মীয় এবং  ফেসবুক বন্ধু  আমার পদোন্নতি ও বদলির বিষয় উল্লেখ করে আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং  দোয়া করেছেন । তবে, আমার  পদমর্যাদা এক একজন এক এক ভাবে উল্লেখ করেছেন ।  কেউ বলেছেন সচিবের পদমর্যাদায় মহাপরিচালক, কেউ বলেছেন  সচিব, কেউ বলেছেন গ্রেড ওয়ান ইত্যাদি  ইত্যাদি । 
 আমি গ্রাম থেকে উঠে এসেছি । গ্রামের মানুষ  কারো নাম বা  পদ- পদবী নিয়ে কোন  ঘোরপ্যাঁচ রাখতে চান না । একেবারে সরল   শটকাট করতে  চান । আমাদের গ্রামের মবুভাইকে সারাজীবন মবুভাই হিসেবে জেনেছি । তিনি মারাও গেছেন ‘মবু’ নামে । কৌতূহলবসে পরে  জেনেছি তার প্রকৃত  নাম ছিল মোঃ মহব্বত হোসেন । কিন্তু জীবনে কখনও তিনি তাঁর এই সুন্দর  নামটি কাউকে বলার বা কারো মুখ থেকে শোনার সুযোগ  পাননি । তাতে গ্রামের মানুষের কোন ক্ষতিবৃদ্ধি হয়নি । যে কেউ কোন সরকারি বা বেসরকারি  কলেজে শিক্ষকতা করলেই  গ্রামের মানুষের কাছে  তিনি অধ্যাপক হয়ে যান । গ্রামের মানুষ কলেজের লেকচারার বা সহকারী অধাপক –এসব পদ বুঝতে চান না ।   ১৯৮৯ সালে আমি যখন ৩য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করি, তখন থেকেই আমাদের গ্রামের বাড়িকে মানুষ ‘ম্যাজিস্ট্রেট বাড়ি’ বলেছেন ।   আবার ১৯৯২ সালের দিকে যখন আমি মন্ত্রণালয়ে সহকারি সচিব হিসেবে যোগদান করি;  তখন থেকে আমাদের বাড়ি ‘সচিবের বাড়ি’  নামে পরিচিত হয় । যখন সিনিয়র সহকারি সচিব হয়েছি, তখন আমার গ্রামের মানুষ মাঝখানের ‘সহকারি’ বাদ দিয়ে আমাকে সিনিয়র সচিব বলেছেন । তাই এত বছর পর যখন আমার পদবি সচিব পদমর্যাদা,  না সচিব নিয়ে কথা হচ্ছে,  তখন  গ্রামের মানুষ কেমন যেন ভ্যাবাচ্যাকা খান  ।  তাঁরা  মনে করেন, তাহলে এতকাল উনি কি ছিলেন ?   
  আমি অর্থনীতির ছাত্র । অর্থনীতির ছাত্র  নিয়ে একটা কৌতুক আছে । বলা হয় অর্থনীতি বিষয়ে ৫ জন ব্যক্তি যদি একই কথা বলেন,  তাহলে ধরে নিতে হবে তাঁরা অর্থনীতির ছাত্র নয় । আর যদি   দাবি করা হয় তাঁরা অর্থনীতির ছাত্র,  তাহলে ধরে নিতে হবে তাঁরা ৫ জনই পাগল । তারমানে অর্থনীতি বিষয়ে ভিন্নমত থাকবেই । তবে, শুধু অর্থনীতি নয়,  যে কোন বিষয়েই ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক  ।  আর আমার মনে হয়,  ভিন্নমত থাকাই  একটা আলাদা  সৌন্দর্য ।  সুপ্রাচীন কাল  থেকেই কোন রেকর্ডপত্রের  প্রমানক হিসাবে মানুষের বৃদ্ধ আঙুলের ছাপ নেয়া হয় । কারণ,  পৃথিবীর অন্য কোন মানুষের আঙুলের ছাপের  সাথে এই ছাপ মিলবে না । মানুষের একটি আঙুলের  সামান্য একটি অঙ্গের সাথে অন্য একজন মানুষের অঙ্গের যদি এত অমিল থাকে, তাহলে  গোটা একজন মানুষের সাথে অন্য একজন মানুষের কত অমিল থাকার কথা  ?  তারমানে একজন মানুষের কথা ও কাজের সাথে অন্য একজন মানুষের কথা ও কাজের অমিল থাকাই স্বাভাবিক । তাই, ভিন্নমত থাকবে এটা  মেনে নেওয়াই যুক্তিসংগত । অথচ, বাস্তবে  কারো সাথে কোন বিষয়ে কথার অমিল হলে বা ভিন্নমত হলেই  আমরা উত্তেজিত হই । এটা  ন্যায়সঙ্গত  নয়।  কারণ,  এতে ভিন্নমতের যে একটি  সৌন্দর্য থাকে,  তা  নষ্ট হয় ।
এত কথা বলার কারণ  একই বিষয়ে আমার একজন ফেসবুক বন্ধুর মন্তব্য । তাঁর মন্তব্য নিম্নরূপঃ  
‘একজনের সচিব পদায়নে জাতি জানতে পারল তার কত ভাই, ভাইপো, বোন ও ভাগ্নে/ ভাগ্নি আছে’ ।
এই মন্তব্যের মধ্যে এক ধরণের  মুনশিয়ানা লক্ষণীয় । এখানে এ বিষয়ে তিরস্কার,  না প্রশংসা করা হয়েছে-  তা পরিস্কার নয় । যিনি মন্তব্য করেছেন, তিনি প্রয়োজনে এই মন্তব্যের  যে কোন দিকে  ব্যাখ্যা  করার সুযোগ রেখেছেন । আমি নিজে সবকিছুর ভাল দিক নিয়ে কথা বলি । খারাপ কিছু আলোচনা করা আমার কাজ নয়  ।  কারণ, আমাদের সমাজে  কোন কিছুর খারাপ দিক নিয়ে আলোচনা করার লোকের অভাব নেই । তাঁদের কাজ তাঁরা করবেন । আমি এই মন্তব্যের ভাল দিকটাই বলি । 
 আমরা যারা কোন না কোনভাবে সমাজের একটা উঁচু স্তরে উঠে এসেছি,  আমাদের শিকড় অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত । দুরের ও কাছের  কত না,  কতভাবে যে আমাদের আত্মীয়স্বজন  ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন ,  পদোন্নতির মত একটি সাধারণ  ঘটনায়ও  তা প্রকাশ পায় । ফেসবুকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থাকার  কারণে,  এই প্রকাশ  অনেক সহজ হয়েছে । তাই, আমার পদোন্নতির মত একটি রুটিন বিষয়েও রক্তের  সম্পর্ক ছাড়াও  বন্ধুবান্ধব, সুপ্রিয় সহকর্মী বা অন্য কোন না কোনভাবে যারা আমার আত্মীয়, তাঁরা আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ।  অনুপ্রাণিত করেছেন । এজন্য আমি কৃতজ্ঞ ।   আমার বেতন ও সুযোগ সুবিধায় তাঁরা যে ভাগ বসাবেন-  তা নয় ।  তাঁরা শুধু  চান একটা স্বীকৃতি । তাঁরা যে,  কোন না কোনভাবে  আমার  আত্মীয়, আমার দিক থেকে  সেই স্বীকৃতি  চান ।  তাঁদের পক্ষে এই ধরণের  চাওয়া কি অপরাধ ? আর আমার দিক দিক থেকে তা  স্বীকার করা কি অপরাধ ? 
আমার বদলি ও পদোন্নতি বিষয়ে আমি নিজে যেটা বুঝি, তা হল সরকার আমাকে একটি নতুন দায়িত্ব দিয়েছেন ।  আমি বেতন স্কেলের ২ নম্বর গ্রেডে চাকুরী করতাম । এই দায়িত্ব প্রদানের পাশাপাশি আমাকে   জাতীয় বেতন স্কেলের ১নং গ্রেডের আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে  । এজন্য সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি  আমি কৃতজ্ঞ ।  যে বিশ্বাস থেকে সরকার আমাকে এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছেন;   আমি যেন যথাযথভাবে সেই  দায়িত্ব পালন করতে পারি-  এটাই আমার একমাত্র চাওয়া । 
আমার  বদলি ও পদোন্নতির সংবাদ জেনে যারা আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, শুভেচ্ছা জানিয়েছেন,   তাঁদেরকে  আলাদাভাবে জবাব না দিয়ে,  এই লেখার মাধ্যমে  সকলের প্রতি আমি আমার  গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি । আমি যেন যথাযথভাবে  আমার উপর অর্পিত  দায়িত্ব পালন করতে পারি-  সেই দোয়া চাই সকলের কাছে ।
সকল প্রকার করোনাযোদ্ধাদের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা । 
মোহাম্মদপুর, ঢাকা, ৩ জুলাই, ২০২০ ।  


 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT