Main Menu

পৃথিবী এবং মানুষসহ পৃথিবীর সকল প্রানী এক স্রষ্টার সৃষ্টি

মোঃ শফিকুল আলম: পৃথিবী এবং মানুষসহ পৃথিবীর সকল প্রানী এক স্রষ্টার সৃষ্টি। সুতরাং অন্য বিশ্বাসের মানুষ যারা মুসলমান নন তারা বেহেস্তে যাবেননা তা’ বলার অধিকার আমাদের একটি নির্দিষ্ট বিশ্বাসের মানুষদের নেই।

বিদেশে বিশেষ করে উন্নত পশ্চিমা দেশসমূহে বসবাসকারী মুসলমানদের মধ্যে একটি common প্রপঁচ (phenomenon) বিশেষভাবে লক্ষনীয় এবং তারই ধারাবাহিকতায় তারা কাফির হত্যার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়ে থাকে। বিভিন্ন সময় বিচ্ছিন্নভাবে পশ্চিমা সংস্কৃতিতে বিশ্বস্ত মানুষদেরকে হত্যা করে বেহেস্ত নিশ্চিত করতেও চায়। 

আমরা যারা অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করি তাদের অধিকাংশই (এমনকি যারা বাংলাদেশে থাকাকালীন হয়তো কোনোদিন মসজিদমুখী হইনি) শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ার জন্য নিকটস্থ মসজিদে যাই এবং নামাজ আদায় করি।যেখানেই থাকি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের জন্য একটি জায়গার ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। সবাই মিলে অর্থ সংগ্রহ করে মসজিদ বা ইসলামিক সেন্টার ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। পশ্চিমা দেশগুলো উদার গনতান্ত্রিক। অস্ট্রেলিয়ায় গনতন্ত্রের চর্চা অধিকতর দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। দু’শটির ওপর দেশের মানুষ এই দেশে বাস করছে। সব দেশের মানুষের স্বকীয়তা ( নিজস্ব সংস্কৃতি এবং কৃষ্টি) এখানে স্বীকৃত। কিন্তু সবাই অস্ট্রেলিয়ান। সবাই সবার স্বকীয়তার মূল্যায়ন করে এবং সম্মান করে। অন্য কথায় multi-cultural country বলা হয়। মুসলমানরা দেশের আইন অনুসরন করে জমি কিনে মসজিদ করতে কোনো সমস্যা হয়েছে বলে এমন কোনো তথ্য নেই।

একই ভাবে অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোতে বসবাসকারী বাঙ্গালীদের কাছ থেকে একই তথ্য পাওয়া যায়।

এখানে যারা থাকেন তারা নিজেদেরকে মহান আল্লাহ্ কর্তৃক blessed মনে করেন।মসজিদগুলোতে বা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় এখানে থাকতে পেরে কথায় কথায় মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।কিন্তু মসজিদে যখনই মোনাজাত হয় তখনই পশ্চিমা কালচার থেকে হেফাজত চাওয়া হয়। পক্ষান্তরে আল্লাহর কাছে এই কালচারের নিপাত চাওয়া হয়। অর্থাৎ main stream culture থেকে নিজেদেরকে isolate রাখতে চাওয়া এবং অস্ট্রেলিয়ান, আমেরিকান বা জার্মান হতে না চাওয়া। এমনকি 2nd generation কে তারা পারলে প্রাইভেট ইসলামিক স্কুলে পাঠাতে চায়। সে অনুযায়ী ইসলামিক প্রাইভেট স্কুলও কোনো কোনো জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের আইনানুযায়ী এধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করায় কোনো বাঁধা নেই।

আমি এর আগেও একটি লেখায় বলেছি যে 1st generation বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে এই সমস্ত দেশে নাগরিকত্ব qualify করেছেন। কোনো বিশেষ ধর্মের জ্ঞান এইসব দেশে নাগরিকত্ব অর্জনে সাহায্য করেনা। এদের সবার general education রয়েছে এবং তারা সবকিছু করেই ধর্ম পালন করছেন। এই উচ্চশিক্ষিত তারাই তাদের 2nd generation-কে অর্ধশিক্ষিত মাওলানাদের ওয়াজ শুনে ইসলামিক শিক্ষা দেয়ার পথ খুঁজে ফিরছেন। বাংলাদেশে থাকলে এরাই হয়তো তাদের সন্তানদেরকে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্য করে তুলতে ব্যস্ত থাকতেন। কারন তারাতো সেই education নিয়েই এই দেশে এসেছেন। উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করেই তবে নাগরিকত্ব পেয়েছেন।

একটি উন্নত দেশে থাকতে পেরে মহান আল্লাহ কর্তৃক নিজেকে blessed মনে করে তাঁর প্রতি আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞ থাকবো এবং তাঁর প্রশংসা করবো। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই দেশকে নিজের দেশ ভাবতে পারবোনা, সেই দেশের বিরুদ্ধে মোনাজাত করবো - সেটা কতটা যৌক্তিক বা ইসলাম সম্মত? এই প্রশ্নের ব্যাখ্যা যদি সেই অর্ধশিক্ষিত মাওলানার কাছ থেকে নেয়া হয় সেটা কতটা correct হবে?

পোষাকের ব্যাপারে এই বাঙ্গালীরা Arabian-দেরও ওপরে। Arabian পুরুষেরা আরবীয় পোষাক পরিধান করে অনুল্লেখ করার মতো। অধিকাংশ Arabian পুরুষ এখন পশ্চিমা পোষাক পরিধানে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। আরবীয় প্রায় সব মহিলা (শিশু কন্যাসহ) হিজাব পরিধান করে। তবে শরীরের অবশিষ্ট পোষাক শরীরের সবকিছু প্রদর্শন করে (সবার ক্ষেত্রে নয়)। অনেক ক্ষেত্রে এদেশের মেয়েদের থেকেও tight garments পরিধান করে থাকে। তবে হিজাব আছে এবং হাতে সিগারেট প্রায় সবার হাতে common। বাংলাদেশসহ ভারত উপমহাদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মহিলারা সহি-আরবীয় পোষাক পরিধান করেন। আফ্রিকান মুসলমানরা তো অধিকাংশ বোরখা পরেন।আমাদের বাঙ্গালী পুরুষগন যখন আরবের পুরুষগন আরবের পোষাক এদেশের জন্য বেমানান মনে করে পরিত্যাগ করছেন তখন সহি মুসলমান হওয়া প্রমান করতে গিয়ে আরবের মরুভূমির পোষাককে ইসলামি পোষাক মনে করে তারা একরকম নিজেদেরকে হাস্যকর করে singled out হয়ে অস্ট্রেলীয় norms and values এর বাইরে রাখায় ব্যস্ত রয়েছেন। যেনো এই পোষাক পরিধান না করলে ইসলাম ধর্ম পালিতে হবেইনা। এবাদত তাদের মতে অনেকটা অসম্পূর্ণ থাকবে।

বিষয়টি তারা এখানেই সীমাবদ্ধ রাখেননা। তারা এই ক্ষুদ্র অংশটি নিজেদের বিশ্বাসে এই বিশাল বৃহত্তম অংশকে পরিবর্তনের জন্য আল্লাহ্ কর্তৃক প্রেরিত হয়েছেন বলে মনে করেন।আগেই বলেছি এরা সবাই উচ্চ শিক্ষিত। অংক সবাই আমার থেকে ভালো জানেন।পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার 1/6 বা 16.67% মুসলমান।পশ্চিমা দেশসমূহে এমনকি 1% ও মুসলমান নেই।এখন বলুনতো, এই blessed সহি-মুসলমানরা যদি overall 83.33% অন্য বিশ্বাসের মানুষদেরকে তাদের বিশ্বাসে আনায়ন করতে চায় তা’ কতটা বাস্তব সম্মত? এর উত্তর পেতে কি অর্ধ শিক্ষিত মাওলানার ওয়াজ শোনার প্রয়োজন আছে?

এই প্রশ্ন এবং উত্তরের মাঝখানে তৈরী হয় other ways. আর তা’ হচ্ছে সন্ত্রাস।এই তখনই এই ক্ষুদ্র অংশটি জিহাদের মন্ত্রে সন্ত্রাসের পথ বেঁছে নেয়।এই সহি মুসলমানরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন মুসলমান না হয়ে যারা মৃত্যুবরণ করবেন তারা কিছুতেই বেহেস্তে যেতে পারবেননা এবং তাদেরকে মুসলমান বানিয়ে বেহেস্তে নেয়ার ব্যাপারে তাদের দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তারা এসব করছেন।

আগেই বলেছি তারা আমার থেকে অংক ভালো বোঝেন। যেটা বোঝেননা সেটা হলো 83.33% মানুষ তো তিনিই (মহান আল্লাহ সুবাহানা তায়ালা) সৃষ্টি করেছেন এবং তারা অমুসলমান হয়েই আল্লাহর হুকুমে অমুসলমানদের পরিবারে জন্মগ্রহন করেছেন এবং তাদের অধিকাংশের মুসলমানদের বিশ্বাস সম্পর্কে কোনো ধারনাই নেই। তারাও তো তাদের ধর্মের বিশ্বাসে বড় হয়েছেন।এই পর্যায়ে আমার বিশ্বাসে তারা বিশ্বস্ত হবেন? যেমন আমরা তাদের বিশ্বাস নিবোনা। আমার বিশ্বাসে যদি পরিবর্তন না হয় তা’হলে অন্যের বিশ্বাসে পরিবর্তন আমরা কিভাবে প্রত্যাশা করি?
 

মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী বেহেস্ত পাওয়ার ১ম শর্তেই কিন্তু 83.33% মানুষ competition -এ অংশগ্রহন না করেই বন্চিত! মহান আল্লাহ্ যাদের সৃষ্টি করলেন অন্য ধর্মবিশ্বাসীদের ঘরে তাদের তিনি বেহেস্ত বন্চিত করবেন কি করবেননা তার বিচারের ভার তাঁর সৃষ্ট এই ক্ষুদ্র অংশ মুসলমানদেরকে কি আল্লাহ্ দিয়েছেন? নিশ্চয়ই না। আমরা যেহেতু শেষ বিচারে বিশ্বাস করি সেহেতু এই বিচারের ভার তাঁর ওপর ছেড়ে দেই। আমরা আমাদের বিশ্বাসে দৃঢ় থেকে যে পথে পৃথিবী শান্তিতে থাকে সেই পথ অনুসরন করি। পশ্চিমা সংস্কৃতি আমার জন্য কল্যানকর নাহলে আসুন নীরবে স্বদেশে চলে যাই। অশান্তি সৃষ্টি করে আমরা যদি slogan দেই ইসলাম শান্তির ধর্ম তা’ হবে হাস্যকর!
 


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT