Main Menu

উকিলের মার খেয়ে পুলিশের বিক্ষোভ

হাজার হাজার পুলিশ সদস্যের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। মঙ্গলবার রাজধানীর পুলিশ সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভ করেন তারা।

এ সময় পুলিশ সদস্যদের হাতে ‘রক্ষকদের রক্ষা করুন’, ‘আমরা কিল-ঘুষির বস্তা নই’, ‘পুলিশ কমিশনার সামনে আসুন’, ‘আমরা ন্যায়বিচার চাই’সহ নানা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

শনিবার নয়াদিল্লির টিস হাজারি আদালত চত্বরে এক পুলিশ সদস্যকে দুই আইনজীবী মিলে মারধর করে। কিল-ঘুষি খেয়ে উকিলদের বিচারের দাবিতে এ বিক্ষোভ শুরু করে দেশের আইনশৃঙ্খলার রক্ষক পুলিশ বাহিনী।

নয়াদিল্লির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পুলিশ সদর দফতরের সামনের ব্যস্ততম সড়ক বন্ধ করে নজিরবিহীন বিক্ষোভ দেখান তারা। একই দিন আদালত চত্বরে পুলিশের বিরুদ্ধে পাল্টা বিক্ষোভ করেন আইনজীবীরা। খবর এনডিটিভির।

বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়েছে ভারতীয় পুলিশ সংস্থা ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস)। টুইট বার্তায় তারা বলেছে, পুলিশদের চলমান বিক্ষোভে সারা দেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের সমর্থন রয়েছে। রাজপথে বিক্ষোভকারীদের শান্ত হতে সেখানে উপস্থিত হন দিল্লির পুলিশ কমিশনার আমুলিয়া পাটনায়েক।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সুশৃঙ্খল বাহিনীর মতো আচরণ করতে হবে। আমরা যেন আইন মেনে চলি। এটা সরকার এবং জনগণ আমাদের কাছে প্রত্যাশা করে। এটা আমাদের বড় দায়িত্ব। আমি আপনাদের কাজে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছি।’ বিক্ষোভকারীদের সব দাবি মেনে নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে পাটনায়েকের আহ্বানে সাড়া দেয়নি বিক্ষোভকারীরা।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশের নজিরবিহীন এ উত্তেজনা থামানোর দায়িত্ব দিয়েছে নয়াদিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বাইজালকে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি দিল্লি পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন।

বিক্ষোভরত এক পুলিশ সদস্য এনডিটিভিকে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যদি আমাদের দাবি না শোনেন, তাহলে অধঃস্তন কর্মকর্তারা অসহায়। আমার নাম আপনাকে বলতে পারব না। আমি নাইট ডিউটি শেষ করেই পোশাক পাল্টে এখানে এসেছি... আমরা ন্যায়বিচার চাই।’

তবে বিক্ষোভে কোনো কণ্ঠ স্লোগান ছিল না। ছিল না কোন চিৎকার, শুধু নীরব প্রতিবাদ। হাতে হাতে প্ল্যাকার্ড। সেই প্ল্যাকার্ডে লেখা, ‘আমরা দুঃখিত। আমরা পুলিশ। আমাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। আমাদের পরিবার নেই। আমাদের কোনো মানবিক অধিকারও নেই।’ অনেকের হাতে প্ল্যাকার্ড, ‘আমরা বিচার চাই’।

আইনজীবীরাও এদিন আদালতের মধ্যেই বিক্ষোভ দেখান। রাস্তাঘাট বন্ধ রেখে পুলিশের বিক্ষোভ করার প্রতিবাদ জানান তারা। আইনজীবীরা আদালত চত্বরে ব্যারিকেড দিয়ে রাখেন। বাইরে থেকে দুষ্কৃতিকারীরা যাতে আদালত এলাকায় ঢুকে গোলমাল বাধাতে না পারে সেজন্য কয়েকটি গেট বন্ধ করে দেয়া হয়।

গত শনিবার নয়াদিল্লি তিস হাজারি আদালত চত্বরে আইনজীবীদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ পুলিশ সদস্য ও ৮ আইনজীবী আহত হন। এছাড়া ভাংচুর করা হয় কমপক্ষে ২০টি গাড়ি। দিল্লি সাকেত জেলা আদালতে এক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে একদল আইনজীবীর সংঘর্ষের পর তিস হাজারিতে পুলিশ-আইনজীবী সংঘর্ষ বাধে।

দিল্লি বার অ্যাসোসিয়েশন তিস হাজারি আদালত চত্বরে অনাকাক্সিক্ষত ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, তদন্তে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT