Main Menu

প্রশংসায় ভাসছে নোয়াখালীবাসী

মেয়ে আবিদা সুলতানাকে নিয়ে সুদূর বরিশালের উজিরপুর থেকে নোয়াখালী এসেছেন মাসুদা বেগম। লক্ষ্য একটাই মেয়ে যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারে। কথা হয় তার সঙ্গে। নোয়াখালীর মানুষের আতিথেয়তা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অপরিচিত একজন মানুষকেও অতি সহজেই এতটা কাছে টেনে নেওয়া যায় এটা নোয়াখালী না আসলে জানতাম না। নোয়াখালী আসার আগে দুশ্চিন্তা ছিল এতদূর যাচ্ছি পরিচিত কেউ নেই, কোথায় থাকবো, কোথায় খাবো। কিন্তু, নোয়াখালী এসে এত আন্তরিকতা দেখে দুশ্চিন্তা পুরোপুরি কেটে গিয়েছে। এত আন্তরিকতা বাথরুমে গেলেও আপা কই যাবেন, কোনকিছু লাগবে? সার্বক্ষণিক সহযোগিতা পেয়েছি আমরা। ফ্রি থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এই এলাকার মানুষ অনেক ভালো। নোয়াখালীর মানুষের আন্তরিকতায় আমি মুগ্ধ।

ভর্তিচ্ছু মেয়ে এলিনা বেগমকে নিয়ে ঢাকা থেকে নোয়াখালী আসা সালেহ আহমেদ বলেন, মানুষ কতটা আন্তরিক হতে পারে তা নোয়াখালী এসে বুঝেছি। বাংলাদেশে সহযোগিতার এমন দৃষ্টান্ত বিরল।

দুই দিনব্যাপী (১ ও ২ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় ৬৮ হাজার ৭৬০ জন ভর্তিচ্ছু ও তাদের অভিভাবকদের ফ্রি থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে সারা দেশে তাক লাগিয়ে দিয়েছে অতিথিপরায়ণ নোয়াখালীবাসী।

স্থানীয় সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী, নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব শহিদ উল্যাহ খান সোহেল, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম সামছুদ্দিন জেহান, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, রাজনৈতিক সংগঠন, জেলা ক্রিড়া সংস্থাসহ সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা বিনা খরচে আবাসন, খাওয়া, যাতায়াতের জন্য ফ্রি বাস সার্ভিস, ফ্রি প্রাথমিক চিকিৎসা, নিরাপত্তাসহ সব ধরণের সুযোগ সুবিধা পেয়েছেন গতকাল ও আজ শনিবার।

ছিলএলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক টিম, সড়কে যানজট নিরসন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবকরা রাতদিন কাজ করেছেন।

গত ৩১ অক্টোবর সকাল থেকে আজ ২ নভেম্বর পর্যন্ত ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সব ধরণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক মাঠে ছিল। চার শতাধিক নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ ছিল মাঠ। সড়ক, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, পরীক্ষা কেন্দ্র সব সর্বত্র শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছিল ব্যবস্থা। পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যরাও ছিল মাঠে।

জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে সার্বক্ষণিক মাঠে ছিল সরকারি কর্মকর্তাগণ। কোথাও কোনো অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেন তারা। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কোনো প্রকার গুজব বা বিভ্রান্তি যাতে না ছড়াতে পারে সে বিষয়ে ছিল বিশেষ নজর।

ভর্তীচ্ছুদের জন্য নোয়াখালীবাসীর নানা আয়োজনের প্রশংসা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. দিদার- উল-আলম বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য নোয়াখালীবাসীর এমন আয়োজন গোটা বিশ্বে বিরল দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ৪৯টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। কেউ এমনটা চিন্তাই করতে পারে না। আপনারা কীভাবে যে কী করছেন, এটা চিন্তাই করা যায় না। এটা সত্যিই বিষ্ময়কর, অভিভূত হওয়ার মতো ঘটনা। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে আমি নিজে গৌরব এবং অহংকার অনুভব করি।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT