Main Menu

কোন মুসলিম মৃত্যু বরণ করলে তার জন্য করণীয়

কোন মুসলিম মৃত্যু বরণ করলে তার জন্য জীবিতদের কতিপয় করণীয় রয়েছে। সেগুলো সংক্ষেপে নিম্নরূপ:

১) মৃত্যুর সংবাদ শুনে “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন” পাঠ করা এবং ধৈর্য ধারণ করা।
২) মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেয়া, কাফন, জানাযা এবং দাফন সম্পন্ন করা।
৩) মৃত ব্যক্তির জন্য দুয়া করা।
৪) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান-সদকা করা।
৫) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলী হজ্জ বা উমরা আদায় করা।
৬) মানতের রোযা বাকি থাকা অবস্থায় কোন ব্যক্তি মারা গেলে তার পক্ষ থেকে তা পালন করা। আর রামাযানের রোযা বাকি থাকলে প্রত্যেক রোযার বিনিময়ে একজন মিসকিনকে খাদ্য প্রদান করা।
৭) সে যদি ঋণ রেখে মারা যায় অথবা কোন সম্পত্তি ওয়াকফ বা ওসীয়ত করে যায় তবে তা প্রাপকের কাছে বুঝিয়ে দেয়া।
৮) মহিলার জন্য স্বামী বা নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে শোক পালন করা।

নিম্নে উক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা পেশ করা হল:

১) মৃত্যুর সংবাদ শুনে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন’ পাঠ করা এবং ধৈর্য ধারণ করা:
 মৃত্যু সংবাদ শুনে `ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পাঠ করা, ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর তকদীরের উপর সন্তুষ্ট থাকা আবশ্যক। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেন:
الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّـهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ أُولَـئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ – وَأُولَـئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ
“যখন তারা বিপদে পতিত হয়,তখন বলে, “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” (নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই সান্নিধ্যে ফিরে যাবো) তারা সে সমস্ত লোক,যাদের প্রতি আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ ও রহমত রয়েছে এবং এসব লোকই হেদায়েত প্রাপ্ত। “[2]

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
« مَا مِنْ مُسْلِمٍ تُصِيبُهُ مُصِيبَةٌ فَيَقُولُ مَا أَمَرَهُ اللَّهُ إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ اللَّهُمَّ أْجُرْنِى فِى مُصِيبَتِى وَأَخْلِفْ لِى خَيْرًا مِنْهَا. إِلاَّ أَخْلَفَ اللَّهُ لَهُ خَيْرًا مِنْهَا »
“কোন মুসলিমের বিপদ হলে সে যদি বলে: “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন আল্লাহুম্মা আজুরনী ফী মুসীবাতী ওয়া আখলিফলী খাইরান মিনহা” (আমরা আল্লাহরই। আমরা তাঁর কাছেই ফিরে যাব। হে আল্লাহ, আমার বিপদে তুমি আমাকে প্রতিদান দাও। এই বিপদের বিনিময়ে এর চেয়ে উত্তম প্রতিদান দাও) তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার বিনিময়ে তাকে আরও উত্তম প্রতিদান দিবেন। “[3]

আর কোন ব্যক্তি যদি বিপদে ধৈর্য ধারণ করে এবং আল্লাহর ফয়সালার উপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তবে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য বিরাট পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছেন। যেমন হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:
إِنَّ اللَّهَ لَا يَرْضَى لِعَبْدِهِ الْمُؤْمِنِ إِذَا ذَهَبَ بِصَفِيِّهِ مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ فَصَبَرَ وَاحْتَسَبَ بِثَوَابٍ دُونَ الْجَنَّةِ
“আল্লাহ তায়ালা যখন কোন মুমিন ব্যক্তির কোন প্রিয় মানুষকে দুনিয়া থেকে নিয়ে যান তখন সে যদি সবর করে এবং আল্লাহর নিকট প্রতিদান আশা করে তবে তিনি তার জন্য জান্নাতের আদেশ ছাড়া অন্য কিছুতে সন্তুষ্ট হন না। ”[4]

২) মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেয়া, কাফন, জানাযা এবং দাফন সম্পন্ন করা:
কোন মুসলিম মৃত্যু বরণ করলে জীবিত মানুষদের উপর আবশ্যক হল, তার গোসল, কাফন, জানাযা এবং দাফন কার্য সম্পন্ন করা। এটি ফরযে কেফায়া। কিছু সংখ্যক মুসলিম এটি সম্পন্ন করলে সকলের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। এ বিষয়টি মুসলিমদের পারস্পারিক অধিকারের মধ্যে একটি এবং তা অনেক সওয়াবের কাজ। যেমন আবু হুরায়রা রা. বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
 « مَنْ شَهِدَ الْجَنَازَةَ حَتَّى يُصَلِّىَ عَلَيْهَا فَلَهُ قِيرَاطٌ ، وَمَنْ شَهِدَ حَتَّى تُدْفَنَ كَانَ لَهُ قِيرَاطَانِ » . قِيلَ وَمَا الْقِيرَاطَانِ قَالَ « مِثْلُ الْجَبَلَيْنِ الْعَظِيمَيْنِ »
“যে ব্যক্তি জানাযার নামাযে উপস্থিত হবে তার জন্য রয়েছে এক কিরাত সমপরিমাণ সওয়াব আর যে দাফনেও উপস্থিত হবে তার জন্য দু কিরাত সমপরিমাণ সওয়াব। জিজ্ঞাসা করা হল, কিরাত কী? তিনি বললেন: দুটি বড় বড় পাহাড় সমপরিমাণ। “[5]


২) মৃত ব্যক্তির জন্য দুয়া করা:
জীবিত ব্যক্তিগণ মৃত ব্যক্তির জন্য বেশি বেশি দুয়া করবে। কারণ, মানুষ মারা যাওয়ার পর তার জন্য সব চেয়ে বেশি প্রয়োজন দুয়া। তাই তার জন্য আমাদেরকে দুয়া করতে হবে আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে ক্ষমা করে দেন তার গুনাহ-খাতা মোচন করে দেন। যেমন আল্লাহ বলেন:
 وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آَمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ
“যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে,হে আমাদের প্রতিপালক,আমাদেরকে এবং আমাদের পূর্বে যারা ঈমানের সাথে (দুনিয়া থেকে) চলে গেছে তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং মুমিনদের ব্যাপারে আমাদের অন্তরে হিংসা-বিদ্বেষ রাখিও না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তো অতি মেহেরবান এবং দয়ালু।”[6]

আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ
“মানুষ মৃত্যু বরণ করলে তার আমলের সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে যায় তিনটি ব্যতীত: যদি সে সাদকায়ে জারিয়া রেখে যায়,এমন শিক্ষার ব্যবস্থা করে যায় যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হবে এবং এমন নেককার সন্তান রেখে যায় যে তার জন্য দুয়া করবে।” [7]

তবে এ দুয়া করতে হবে একাকী, নীরবে-নিভৃতে। উচ্চ আওয়াজে বা সম্মিলিতভাবে অথবা হাফেজ-কারী সাহেবদেরকে ডেকে দুয়া করিয়ে নেয়া এবং তাদেরকে পয়সা দেয়া ভিত্তিহীন এবং বিদয়াত যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

৩) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান-সদকা করা:
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান-সদকা করা হলে কবরে তার সওয়াব পৌঁছে। চাই মৃতের সন্তান, পিতা-মাতা অথবা অন্য কোন মুসলাম দান করুক না কেন। যদিও কতিপয় আলেমের মত হল, দান-সদকা শুধু সন্তানের পক্ষ থেকে হলে পিতা-মাতা কবরে সওয়াবের অধিকারী হবেন।
عَنْ عَائِشَةَ – رضى الله عنها – أَنَّ رَجُلاً قَالَ لِلنَّبِىِّ – صلى الله عليه وسلم إِنَّ أُمِّى افْتُلِتَتْ نَفْسُهَا ، وَأَظُنُّهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ ، فَهَلْ لَهَا أَجْرٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ
আয়েশা রা. হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে জিজ্ঞাসা করল যে,আমার মা হঠাৎ মৃত্যু বরণ করেছে। আমার ধারণা মৃত্যুর আগে কথা বলতে পারলে তিনি দান করতেন। এখন আমি যদি তার পক্ষ থেকে দান-সদকা করি তবে কি তিনি সওয়াব পাবেন? তিনি বলেন: হ্যাঁ।[8]

আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম কে বললেন:
أِنَّ أَبِى مَاتَ وَتَرَكَ مَالاً وَلَمْ يُوصِ فَهَلْ يُكَفِّرُ عَنْهُ أَنْ أَتَصَدَّقَ عَنْهُ قَالَ « نَعَمْ»
“আমার আব্বা মৃত্যু বরণ করেছেন। কিন্তু কোন ওসীয়ত করে যান নি। আমি তার পক্ষ থেকে দান করলে তার কি গুনাহ মোচন হবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। “[9]

এমন জিনিস দান করা উত্তম যা দীর্ঘ দিন এবং স্থায়ীভাবে মানুষের উপকারে আসে: হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَجُلاً قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّى تُوُفِّيَتْ أَفَيَنْفَعُهَا إِنْ تَصَدَّقْتُ عَنْهَا فَقَالَ نَعَمْ قَالَ فَإِنَّ لِى مَخْرَفًا وَإِنِّى أُشْهِدُكَ أَنِّى قَدْ تَصَدَّقْتُ بِهِ عَنْهَا
ইবনে আব্বাস রা. বর্ণিত। তিনি বলেন,এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমার মা মারা গেছেন। আমি যদি তার পক্ষ থেকে দান করি তবে কি তাঁর উপকারে আসবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন লোকটি বলল: আমার একটি ফলের বাগান আছে (খেজুর, আঙ্গুর ইত্যাদি)। আমি আপনাকে স্বাক্ষী রেখে বলছি, ঐ বাগানটি আমি আমার মায়ের পক্ষ থেকে দান করে দিলাম। [10]

উপকারী এবং স্থায়ী দান কয়েক প্রকার:

১) পানির ব্যবস্থা করা 
২) এতিমের প্রতিপালনের দায়িত্ব গ্রহণ করা 
৩) অসহায় মানুষের বাসস্থান তৈরি করা 
৪) গরীব তালিবে ইলমকে সাহায্য-সহযোগিতা করা 
৫) দাতব্য চিকিৎসালয় বা হাসপাতাল নির্মান 
৬) মসজিদ নির্মান ইত্যাদি।

৪) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ্জ ও উমরা সম্পাদন করা:
ক) ফরজ হজ্জ : কোন ব্যক্তি যদি এমন অবস্থায় মারা যায় যার উপর ফরজ হজ্জ বাকি আছে তাহলে তার পরিত্যাক্ত সম্পত্তি থেকে তার পক্ষ থেকে হজ্জ সম্পাদন করা আবশ্যক। তবে যে ব্যক্তি এই বদলী হজ্জ সম্পাদন করবে তার জন্য আগে নিজের হজ্জ সম্পাদন করা অপরিহার্য। চাই সে মৃত্যুর আগে তার পক্ষ থেকে হজ্জ করার জন্য অসীয়ত করুক অথবা না করুক। এর মাধ্যমে সে ব্যক্তি তার ফরজ হজ্জ থেকে অব্যহতি লাভ করবে।

খ) নফল হজ্জ ও উমরা: মানুষ যদি মারা যায় তবে তার পক্ষ থেকে যে কোন মুসলিম নফল হজ্জ ও ওমরা সম্পাদন করতে পারে। অর্থাৎ কেউ তার পক্ষ থেকে হজ্জ বা উমরা করলে ইনশাআল্লাহ সে কবরে শায়িত অবস্থায় তার সওয়াব লাভ করবে।

গ) মানতের হজ্জ: কোন ব্যক্তি যদি হজ্জের মান্নত করে কিন্তু হজ্জ সম্পাদনের আগেই মারা যায় তবে তার পরিত্যাক্ত সম্পত্তি থেকে বদলী হজ্জ সম্পাদন করা আবশ্যক।

যেমন সহীহ বুখারীতে প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত,বনী জুহাইনা সম্প্রদায়ের এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, আমার মা হজ্জের মানত করেছিলেন,কিন্তু হজ্জ করার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্জ পালন করব? তিনি বললেন,“তোমার মায়ের উপর যদি ঋণ থাকত তবে কি তুমি তা আদায় করতে না? আল্লাহর পাওনা আদায় কর। কারণ,আল্লাহ তো তাঁর পাওনা পাওয়ার বেশী হকদার।” [11]

উক্ত হাদীসে এ কথা স্পষ্ট যে, কোন ব্যক্তি যদি হজ্জ করার মানত করে কিন্তু হজ্জ করার আগেই মারা যায় তবে তার পক্ষ থেকে তার আত্মীয়গণ বদলী হজ্জ সম্পাদন করলে সে ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট হবে।

তবে এখান থেকে বুঝা যায় যে, মানতের হজ্জ যেটা আল্লাহর পক্ষ থেকে ফরজ ছিল না বরং সে নিজের জন্য ফরজ করে নিয়েছে সেটা পালন করা আবশ্যক। সুতরাং আল্লাহর পক্ষ থেকে যে হজ্জ ফরজ ছিল আরও সঙ্গতভাবে তা পালন করা আবশ্যক হবে।

আর মানতকে ঋণের সাথে তুলনা করা হয়েছে। সুতরাং ফরজ হজ্জ তো আরও বড় ঋণ যা পালন না করে মারা গেলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না যতক্ষণ না তা আদায় করা হয়।

যে ব্যক্তি বদলী হজ্জ করবে তার জন্য আগে নিজের হজ্জ সম্পাদন করা আবশ্যক:
যে ব্যক্তি বদলী হজ্জ করবে তার জন্য শর্ত হচ্ছে সে আগে নিজের ফরজ হজ্জ আদায় করবে। সে যদি আগে নিজের হজ্জ আদায় করে থাকে তবে পরবর্তীতে সে অন্যের পক্ষ থেকে হজ্জ করতে পারবে। কারণ এ ব্যাপারে হাদীসে বণির্ত হয়েছে:
عن ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- سَمِعَ رَجُلاً يَقُولُ لَبَّيْكَ عَنْ شُبْرُمَةَ. قَالَ « مَنْ شُبْرُمَةَ ». قَالَ أَخٌ لِى أَوْ قَرِيبٌ لِى. قَالَ « حَجَجْتَ عَنْ نَفْسِكَ ». قَالَ لاَ. قَالَ « حُجَّ عَنْ نَفْسِكَ ثُمَّ حُجَّ عَنْ شُبْرُمَةَ »
ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (বিদায় হজ্জে যাওয়া প্রাক্কালে এহরাম বাঁধার সময়) এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, সে বলছে: لَبَّيْكَ عَنْ شُبْرُمَةَ লাব্বাইকা আন শুবরুমা অর্থাৎ: “শুবরুমার পক্ষ থেকে উপস্থিত। “

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন: শুবরুমা কে? উত্তরে লোকটি বলল, সে আমার ভাই অথবা বলল, আমার নিকটাত্মীয়। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি নিজের হজ্জ সম্পাদন করেছ? লোকটি বলল, না। তিনি বললেন, নিজের হজ্জ আগে সম্পাদন কর পরে শুবরুমার পক্ষ থেকে করবে। ”[12]

মৃত্যু ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ্জ সম্পাদনের ক্ষেত্রে সম্পাদনকারী যদি মৃতের নিকটাত্মীয় হয় তবে তা উত্তম। তবে নিকটাত্মীয় হওয়া আবশ্যক নয়।

৫) মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে রোযা রাখা:
ক) মানতের রোযা: 
এ ব্যাপারে প্রায় সকল আলেম একমত যে, মৃত ব্যক্তির উপর যদি মানতের রোযা থাকে তবে তার ওয়ারিসগণ তা পালন করতে পারবে। কারণ এ ব্যাপারে হাদীসগুলো স্পষ্ট। যেমন:
عن ابن عباس رضي الله عنه: (أن امرأة ركبت البحر فنذرت إن الله تبارك وتعالى أنجاها أن تصوم شهرا، فأنجاها الله عز وجل، فلم تصم حتى ماتت، فجاءت قرابة لها )إما أختها أو ابنتها (إلى النبي (ص)، فذكرت ذلك له، فقال: أرأيتك لو كان عليها دين كنت تقضينه؟ قالت: نعم قال: فدين الله أحق أن يقضى
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত,এক মহিলা সাগরে সফর কালে আসন্ন বিপদ দেখে মানত করল যে আল্লাহ যদি তাকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করেন তবে একমাস রোযা রাখবে। আল্লাহ তায়ালা তাকে সেই বিপদ থেকে রক্ষা করলে সে উক্ত রোযা না রেখেই মারা যায়। তখন তার এক নিকটাত্মীয় (বোন অথবা মেয়ে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে ঘটনা বর্ণনা করল। তিনি প্রশ্ন করলে, তার উপর কোন ঋণ থাকলে তুমি কি তা পরিশোধ করতে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আল্লাহর ঋণ তো পরিশোধ করা আরও বেশি হকদার। অন্য বর্ণনায় আছে: তিনি তাকে আরও বললেন: “তুমি তার পক্ষ থেকে রোযা পালন কর। ” [13]

মৃতের পক্ষ থেকে মানতের রোযা পালন করার আরেকটি হাদীস:
أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ – رضى الله عنه – اسْتَفْتَى رَسُولَ اللَّهِ – صلى الله عليه وسلم – فَقَالَ إِنَّ أُمِّى مَاتَتْ وَعَلَيْهَا نَذْرٌ . فَقَالَ « اقْضِهِ عَنْهَا »
সাদ ইবনে উবাদা রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলেন: আমার মা মৃত্যু বরণ করেছেন কিন্তু তার উপর মানত ছিল। তিনি তাকে বললেনে: তুমি তার পক্ষ থেকে তা পূর্ণ কর। ”[14]

উপরোক্ত হাদীসগুলো থেকে মৃতের পক্ষ থেকে মানতের রোযা রাখা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।

খ) মৃতের পক্ষ থেকে রামাযানের ফরয রোযা রাখা:
মৃতের পক্ষ থেকে ফরয রোযা পালন করা যাবে কি না সে ব্যাপারে যথেষ্ট মতবিরোধ রয়েছে।

ইমাম শাফঈ, ইবনে হাযম সহ একদল মনিষী বলেন, মৃতের পক্ষ থেকে মানতের এবং রামাযানের ফরয রোযা উভয়টি পালন করা যাবে। কারণ, এক হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
« مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيُّهُ »
“যে ব্যক্তি এমন মৃত্যু বরণ করল এমন অবস্থায় যার উপর রোযা বাকি আছে তার ওলী তথা নিকটাত্মীয়গণ তার পক্ষ থেকে রোযা রাখবে। “[15] 
যেহেতু এ হাদীসে সাধারণভাবে রোযা রাখার কথা বলা হয়েছে তাই মৃতের বাকি থাকা রোযা চাই মানতের হোক বা রামাযানের কাযা হোক তার নিকটাত্মীয়গণ আদায় করতে পারে। |

ইমাম আহমদ বিন হাম্বল সহ কতিপয় আলেম বলেন, মৃতের পক্ষ থেকে মানতের রোযা ছাড়া আর কোন রোযা রাখা যাবে না। এ পক্ষের আলেমগণ উপরোক্ত হাদীসের ব্যাপারে বলেন, এটাকে মানতের রোযা হিসেবে ধরতে হবে। কারণ, অন্যান্য হাদীসগুলোর মাধ্যমে এটাই বুঝা যায় এবং তারা তাদের মতের সমর্থনে আর আয়েশা এবং ইবনে আব্বাস রা.এর সিদ্ধান্ত এবং মতমতকেও প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন। যেমন:

আয়েশা রা. এর সিদ্ধান্ত: উমরা রা. বর্ণনা করেন, তার মা মারা যান এবং তার উপর রামাযানের রোযা বকি ছিল। আয়েশা রা. কে জিজ্ঞেস করলেন: আমি কি আমার মায়ের পক্ষ থেকে উক্ত রোযাগুলো পুরা করব? তিনি বললেন: না। বরং প্রতিটি রোযার বিনিময়ে একজন মিসকিনকে অর্ধ সা (প্রায় সোয়া কেজি চাল, গম ইত্যাদি) খাদ্য দ্রব্য প্রদান কর। [16]

ইবনে আব্বাস রা. এর সিদ্ধান্ত: কোন যদি ব্যক্তি রামাযানে অসুস্থ হওয়ার কারণে রোযা রাখতে না পারে এবং এ অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে তবে তার পক্ষ থেকে খাবার দিতে হবে এবং তা আর কাযা করার প্রয়োজন নাই। কিন্তু যদি মৃতের উপর মানতের রোযা বাকি থাকে তবে তার নিকটাত্মীয়গণ তার পক্ষ থেকে তা কাযা করবে। [17]

উক্ত মত বিরোধের সমাধানে আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী রহ. এর মত:
আল্লামা মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দী আলবানী রাহ. “আহকামুল জানাইয কিতাবে উভয় পক্ষের মতামত ও প্রমাণাদী আলোচনা করার পর বলেন:

“উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. এবং উম্মতের শ্রেষ্ঠ আলেম ইবনে আব্বাস রা. যে সমাধান দিয়েছেন এবং ইমামুস সুন্নাহ ইমাম আহমদ বিন হাম্বল যে মত গ্রহণ করেছেন তার প্রতি মনের পরিতৃপ্তি আসে এবং অন্তর ধাবিত হয়। আর এ মাসআলায় এটাই সবচেয়ে ইনসাফপূর্ণ এবং মধ্যপন্থী মত। এর মাধ্যমে কোন হাদীসকেই বাদ দেয়া হয় না বরং সবগুলোর হাদীসের সঠিক অর্থ বুঝতে পারার সাথে সাথে সবগুলোর প্রতি আমল হয়। ”[18]

মোটকথা:
১) মৃত ব্যক্তির উপর যদি মানতের রোযা বাকি থাকে তবে তার অবিভাবকগণ তা পুরণ করবে।

২) মৃত ব্যক্তির উপর যদি রামাযানের রোযা বাকি থাকে তবে সব চেয়ে মধ্যমপন্থী কথা হল, তার অবিভাবকগণ তার পরিত্যাক্ত সম্পত্তি থেকে প্রতিটি রোযার বিনিময়ে একজন মিসকিনকে আধা সা বা প্রায় সোয়া এক কেজি খাদ্যদ্রব্য প্রদান করবে।

৬) মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া ঋণ পরিশোধ এবং ওসীয়ত পালন করা:
কোন ব্যক্তি যদি ঋণ রেখে মারা যায় অথবা কোন কিছু দান করার ওসিয়ত করে যায় তবে তার উত্তরাধীকারীদের জন্য আবশ্যক হল, তার পরিত্যাক্ত সম্পদ থেকে সবার আগে ঋণ পরিশোধ করা। কারণ, এটা মৃতের সম্পদে ঋণ দাতার হক। যতক্ষণ তা আদায় করা না হবে মৃত ব্যক্তি তা হতে মুক্তি পাবে না। ঋণ পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে ওসীয়ত পালন করতে হবে।

তাই তো আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারীমে বিধান দিয়েছেন যতক্ষণ না ওসিয়ত বাস্তবায়ন করা হয় অথবা ঋণ পরিশোধ করা হয় ততক্ষণ পরিত্যাক্ত সম্পত্তি উত্তরাধীকারীদের মাঝে বণ্টন করা হবে না। আল্লাহ বলেন:
مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ
“(মৃতের পরিত্যাক্ত সম্পদ বণ্টন করা হবে) ওসিয়তের পর, যা করে সে মৃত্যু বরণ করেছে কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। ”[19]

অনুরূপভাবে সহীহ বুখারীতে সালামা বিন আকওয়া রা. হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তির জানাযা পড়তে রাজি হন নি যতক্ষণ না তার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।

ওসিয়ত (বা সম্পদ উইল) করার বিধান: 
মানুষ তার সম্পত্তি থেকে সর্বোচ্চ তিন ভাগের এক ভাগ ওসীয়ত তথা আল্লাহর পথে বা জন কল্যাণকর কাজে ব্যায় করার আদেশ করতে পারে। এর চেয়ে বেশি জয়েয নাই। বরং এর চেয়ে কম করাই উত্তম। কারণ,

সা’দ বিন আবী ওয়াক্কাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বিদায় হজ্জের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লামের সাথে ছিলাম। পথিমধ্যে আমি প্রচণ্ড রোগে আক্রান্ত হলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার সেবা-শুশ্রূষা করতে এলে আমি তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমার অনেক সম্পত্তি। কিন্তু আমার ওয়ারিস হওয়ার মত কেউ নাই একজন মাত্র মেয়ে ছাড়া। আমি আমার সম্পত্তির তিন ভাগের দুই ভাগ ওসিয়ত করব? তিনি বললেন: না। আমি বললাম: অর্ধেক? তিনি বললেন: না। আমি বললাম, তবে তিন ভাগের একভাগ? তিনি বললেন: “তিন ভাগের একভাগ। তিন ভাগের একভাগই তো বেশি। সাদ, তোমার উত্তরাধিকারীদেরকে দরিদ্র অবস্থায় রেখে যাবে আর তারা মানুষের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা করে বেড়াবে এর চেয়ে তাদেরকে সম্পদশালী করে রেখে যাওয়াই উত্তম। “[20]

তবে এক তৃতীয়াংশের চেয়ে কম করা উত্তম। কেননা, ইবনে আব্বাস রা. বলেন:
لَوْ غَضَّ النَّاسُ إِلَى الرُّبْعِ ، لأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ – صلى الله عليه وسلم – قَالَ « الثُّلُثُ ، وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ أَوْ كَبِيرٌ »
“মানুষ যদি (সম্পত্তি ওসিয়ত করার ক্ষেত্রে) এক তৃতীয়াংশ থেকে এক চর্তুথাংশে নেমে আসত তবে উত্তম হত। কেননা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তিন ভাগের একভাগ। তিন ভাগের একভাগই তো বেশি। [21]

কোন ব্যক্তি যদি এক তৃতীয়াংশের বেশি ওসীয়ত করে মৃত্যু বরণ করে তবে তার ওয়ারিসগণের জন্য এক তৃতীয়াংশের বেশি দান করা আবশ্যক নয়।

৭) স্বামী বা নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে মহিলাদের শোক পালন করা:
কোন মহিলার স্বামী মারা গেলে তার জন্য শোকপালন‌ করা আবশ্যক। এর ইদ্দত (মেয়াদ) হল, চার মাস দশ দিন যদি সে গর্ভবতী না হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرً
“আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে এবং নিজেদের স্ত্রীদেরকে ছেড়ে যাবে,তখন স্ত্রীদের কর্তব্য হলো নিজেদেরকে চার মাস দশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করিয়ে রাখা। “[22]

আর গর্ভবতী হলে সন্তান ভূমিষ্ট হওয়া পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ
“গর্ভবর্তী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত। ” [23]

অনুরূপভাবে পিতা, মাতা, ভাই, বোন, সন্তান ইত্যাদি নিকটাত্মীয় মারা গেলে তার জন্য সবোর্চ্চ তিন দিন শোক পালন জায়েজ আছে কিন্তু ওয়াজিব বা আবশ্যক নয়।

আবু সালামার মেয়ে যয়নব বলেন, শাম থেকে আবু সুফিয়ান রা. এর মৃত্যু সংবাদ আসার পর তৃতীয় দিন (তাঁর মেয়ে উম্মুল মুমিনীন) উম্মে হাবীবা রা. কিছু হলুদ বা যাফরান (অন্য বর্ণনায় সুগন্ধি) আনতে বললেন। অত:পর তা আনা হলে তিনি তা তার চেহারার দুপাশে ও দুগালে এবং দুবাহুতে মাখলেন। অত:পর বলেন: এটা করার আমার কোন দরকার ছিল না। কিন্তু আমি এমনটি এজন্যই করলাম যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
« لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثٍ ، إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ ، فَإِنَّهَا تُحِدُّ عَلَيْهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا »
“যে মহিলা আল্লাহ ও পরকালের উপর বিশ্বাস রাখে তার জন্য স্বামী ছাড়া কারও মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালন করা বৈধ নয়। স্বামীর মৃত্যুতে সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। “[24] 
তবে স্বামীকে খুশি রাখতে যদি অন্য কোন মানুষের মৃত্যুতে স্ত্রী শোক পালন না করে তবে সেটাই উত্তম। কারণ, স্বামীর সুখ কামনাতেই নারীর জন্য অজস্র কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

শোকপালনের পদ্ধতি:
মৃতের প্রতি শোক প্রকাশের উদ্দেশ্যে মহিলার জন্য করণীয় হল, সে সকল প্রকার সৌন্দর্য ও সাজসজ্জা থেকে দূরে থাকবে।

– আতর-সুগন্ধি ব্যবহার করবে না। তবে তৈল, সাবান, রোগ-ব্যাধীর জন্য ঔষধ ইত্যাদি ব্যবহারে অসুবিধা নাই যদিও তাতে সুগন্ধি থাকে। কারণ এগুলো মূলত: সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহৃত হয় না। অনুরূপভাবে চুল আঁচড়াতেও কোন অসুবিধা নাই।

– সৌন্দর্য বর্ধক পোশাক পরবে না। বরং স্বামী মারা যাওয়ার আগে স্বাভাবিকভাবে যে পোশাক পরিধান করত তাই পরিধান করবে। তবে শুধু সাদা বা শুধু কালো পোষাক পরিধান করতে হবে এমন ধারণা ঠিক নয়।

– সুরমা, কাজল ইত্যাদি ব্যবহার করবে না।

– মেহেদী, খেযাব বা আলাদা রং ব্যবহার করবে না।

– কোন ধরণের অলংকার যেমন, দুল, চুরি, নাকফুল, আংটি, নুপুর ইত্যাদি ব্যবহার করবে না।

– শোক পালনের দিন শেষ পর্যন্ত নিজের বাড়িতে থাকবে। এমনকি সে সময় যদি সে তার পিতার বাড়িতেও থাকে তবে স্বামীর মৃত্যুর খবর পেলে নিজ বাড়িতে ফিরে আসবে। তবে একান্ত প্রয়োজন যেমন, বিপদের আশংকা, বাড়ি পরিবর্তন, চিকিৎসা বা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা ইত্যাদি জরুরী কাজে বাড়ির বাইরে যেতে পারবে।

মোটকথা, স্বামী মারা যাওয়ার পর স্ত্রী এমন সব আচরণ করবে না বা এমন সৌন্দর্য অলম্বন করবে না যা তাকে বিয়ের দিকে আকৃষ্ট করতে পারে। এটা এ কারণে যে, এর মাধ্যমে স্বামীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়,স্বামীর পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করা হয় এবং তাদের বেদনা বিধুর অনুভূতির প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ হয়। সর্বপরি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশের আনুগত্য করা হয়।

আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব
Abuafnan12@gmail.com
প্রকাশ কাল ১২/১/২০১৬


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT