Main Menu

‘সিএনজি’ যখন ভ্রাম্যমাণ বাগান

রাজধানীর ব্যস্ত রাস্তায় হাজারো গাড়ির ভিড়ে আলাদা করে নজর কাড়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। অটোরিকশা তো নয় যেন ভ্রাম্যমাণ একটি বাগান। এর ছাদে লাগানো রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। এ ছাড়া অটোরিকশাটির ভেতরের সাজসজ্জাও অবাক করবে যে কাউকে। নানা সামগ্রী দিয়ে ভেতরে সাজিয়ে রেখেছেন চালক। কোনোটি নিরাপত্তার জন্য, আবার কোনোটি সৌন্দর্যের জন্য।

সবুজ রঙের থ্রি হুইলার অটোরিকশাটিকে আরো সবুজ করে তুলেছে এর ছাদে লাগানো ছোট ছোট গাছ। ছাদের ওপর বিশেষ ব্যবস্থায় ছোট পাত্রে গাছগুলো রেখেছেন চালক তপন চন্দ্র। বিভিন্ন প্রজাতির গাছগুলোর উচ্চতা ১০ ইঞ্চি থেকে ২ ফুট পর্যন্ত। কয়েক প্রজাতির ফুলগাছ, সৌন্দর্যবর্ধক গাছ, এমনকি মরিচগাছও আছে সেখানে। ছাদের চার পাশ ঘিরে রাখা হয়েছে সবুজ ঘাস দিয়ে, যা এই ছোট্ট বাগানটিকে এনে দিয়েছে পূর্ণতা।

অটোরিকশাটির পেছনে ও দুই পাশের দেয়ালের সাথে সেঁটে দেয়া হয়েছে কৃত্রিম ঘাস। আসল ঘাস ঝুলিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলেই এ ব্যবস্থা। পেছনে লেখা রয়েছে বৃক্ষ ও পরিবেশবান্ধব কিছু কথা।

অটোরিকশার ভেতরের সাজসজ্জা আরো চমকৎপ্রদ। একটি খাঁচায় রাখা আছে কয়েকটি বিদেশী পাখি। বাহারি রঙের পাখিগুলো রাখা চালকের আসনের পেছনে ছাদের সাথে ঝুলিয়ে। এক পাশে রাখা ছোট্ট একটি ফায়ার এক্সটিংগুইসার ও কয়েকটি পাত্রে বালু। অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে চালকের এই সাবধানী ব্যবস্থা। স্টিয়ারিংয়ের সাথেই দেখা যায় একটি মাইক্রোফোন। বাইরে ঝোলানো একটি লাউড স্পিকারের সাথে জোড়া সেটির তার। এ ছাড়া আছে যাত্রীদের মোবাইল ফোনে চার্জ দেয়ার ব্যবস্থা, বিনোদনের জন্য যাত্রী আসনের সামনে রয়েছে ছোট্ট একটি মনিটর। সেখানে বিভিন্ন বিনোদন শিক্ষামূলক ভিডিও চালানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

সিএনজি অটোরিকশাটির চালক তপন চন্দ্র ভৌমিক জানান, দেড় বছর আগে তিনি তার গাড়িটিকে এভাবে সাজাতে শুরু করেন। কারণ হিসেবে বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রতি সচেতনতা তৈরি ও বৃক্ষনিধনের কুফল সম্পর্কে যাত্রীদের ধারণা দিতেই তার এসব পদক্ষেপ। তিনি বলেন, নিয়মিত গাছ কাটার ফলে জলবায়ুর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। আমরা প্রয়োজনে গাছ কাটলেও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে গাছ লাগাতে ভুলে যাই। এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্যই আমার এ উদ্যোগ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বাড়ি তপন চন্দ্রের। অটোরিকশা চালান ১০ বছর ধরে। দুই সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে বাস করেন ঢাকার গোড়ান এলাকায়। অটোরিকশার ভেতরের অন্যান্য সাজসজ্জার বিষয়ে তিনি বলেন, মহল্লার কোনো গরিব বাসিন্দার সন্তান বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু হারিয়ে গেলে তিনি বিনা খরচে এলাকায় তার জন্য মাইকিং করেন। সে কারণেই লাউড স্পিকার রাখা হয়েছে গাড়িতে। তা ছাড়া তার এলাকার কোনো সন্তানসম্ভবা নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে তপন বিনা খরচে তাকে হাসপাতালে পৌঁছে দেন, সেটি গভীর রাতে হলেও। মনের তাগিদেই এসব কাজ করেন তপন। বলেন, ভালো লাগে আমার দ্বারা কোনো মানুষের উপকার হলে। তাই খুশি মনে এসব করি।

তার আশা, সরকার বৃক্ষনিধনের বিষয়ে আরো কঠোর হবে এবং বৃক্ষ রোপণের জন্য জনগণকে উৎসাহিত করবে। তপন বলেন, আমি নিজে নিয়মিত গাছ লাগাই। তাই অন্যদের সচেতন করার চেষ্টা করছি। আমার এই উদ্যোগ দেখে যদি একজন মানুষও গাছ লাগানোর বিষয়ে উৎসাহী হয় সেটিই হবে আমার সার্থকতা।

যেখানেই থামে গাড়িটি সেখানেই দেখতে ভিড় করে কৌতূহলী মানুষ। নানান জনের নানান প্রশ্ন। তপন একটুও বিরক্ত না হয়ে সবার কৌতূহল মেটান। অনেকেই ছবি তোলেন গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে। অনেকের সেলফির আবদার মেটাতে হয় তপনকে। এসব কিছুই করেন একটি উদ্দেশ্যে- সবাই গাছকে ভালোবাসবে, গাছ লাগাবে।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT