Main Menu

রাজপালঙ্কে নয়, ফ্লোরে ঘুমাই: মাগুরার ডিসি

রাজপালঙ্কে নয়, বরং ফ্লোরেই ঘুমান বলে দাবি করেছেন মাগুরার জেলা প্রশাসক আলী আকবর। এর আগে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বের হয়, রাজা সীতারাম রায়ের স্মৃতিচিহ্ন ও ৩০০ বছরের প্রাচীন একটি পালঙ্কে ঘুমান তিনি। যা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে এ খবরকে মিথ্যা দাবি করে জেলা প্রশাসক আলী আকবর বলেছেন, তিনি রাজার পালঙ্কে নয়, বরং ফ্লোরে ঘুমান।

১৬৮৬ সালে সম্রাট আওরঙ্গজেবের কাছ থেকে রাজা উপাধি লাভ করেন সীতারাম রায়। প্রতাপশালী এই রাজার রাজত্বের সীমারেখা ছিল উত্তরে পাবনা এবং দক্ষিণে সুন্দরবন পর্যন্ত। মাগুরার মহম্মদপুরে তিনি গড়ে তোলেন নিজের রাজধানী। এখনও কীর্তি হিসেবে এখানে রয়েছে রাজপ্রাসাদ, কাচারি বাড়ি, দোলমঞ্চসহ আরও অনেক নিদর্শন। রাজত্বকালে সীতারাম রায় গড়ে তোলেন অস্ত্র তৈরির কামারশালা। প্রত্মতাত্ত্বিক অধিদপ্তর রাজপ্রাসাদ এবং দোলমঞ্চটি সংস্কার করলেও কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে মূল্যবান অনেক সামগ্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যে পালঙ্কে রাজা বিশ্রাম নিতেন সেটি দীর্ঘদিন ধরে মাগুরা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে রাখা ছিল। নতুন ভবন নির্মাণ এবং সংস্কার কাজের সুবিধার জন্যে এটি বিভিন্ন সময় ট্রেজারি থেকে রেকর্ডরুমের স্তূপে এবং জিমখানার অন্যান্য অব্যবহৃত উপকরণের পাশে জায়গা পেয়েছে।

মাগুরা জেলা প্রশাসনের নেজারত, ট্রেজারি এবং রেকর্ড রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি রাজা সীতারামের সেই পালঙ্কটি মাগুরার এনডিসি রাজিব চৌধুরীর সহায়তায় জেলা প্রশাসকের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ব্যাপারে রাজিব চৌধুরী বলেন, সীতারামের একটি মূল্যবান পালঙ্কের কথা শুনেছি। কিন্তু এখন সেটি কোথায় ও কীভাবে আছে তা আমার জানা নেই।

পালঙ্কটি ডিসির বাসায় কেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে প্রশ্নে তিনি কোনও উত্তর দেননি। তবে পালঙ্কটি দীর্ঘদিন জেলা প্রশাসনের রেকর্ড রুমে সংরক্ষিত ছিল বলে জানিয়েছেন এই বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সাবেক কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইসাহাক আলী।

রেকর্ড রুমের বর্তমান দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন, আগে রেকর্ড রুমে থাকলেও এখন পালঙ্কটি সেখানে নেই। কেন নেই সেটি জানি না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাগুরার জেলা প্রশাসক আলী আকবর বলেন, পালঙ্কটি দীর্ঘদিন ধরে জেলা প্রশাসকের বাংলোতেই রয়েছে। আমার এটি আনার প্রশ্নই ওঠে না। বরং পালঙ্কটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। তাই আমি এটিকে মেরামত ও রং করিয়েছি।

পালঙ্কটি কেন জাদুঘরে পাঠানো হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, আমার আগের জেলা প্রশাসক প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে এটি গ্রহণ করার জন্য লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তারা এটি গ্রহণ করেনি। এই মূল্যবান সম্পত্তি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ গ্রহণ না করলে, আমি কি সেটা রাস্তায় ফেলে দেবো? জেলা প্রশাসক হিসেবে সম্পদটি সযত্নে সংরক্ষণের স্বার্থেই আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি।

রাজার পালঙ্কে ঘুমানোর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই আমার ফ্লোরে ঘুমানোর অভ্যাস। এখনও আমি ফ্লোরেই ঘুমাই। রাজার পালঙ্কে ঘুমানোর প্রশ্নই ওঠে না।


ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT