Main Menu

হু হু করে বাড়ছে ডলারের দাম

dollar

হঠাৎ করে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আন্তব্যাংক লেনদেনে হু হু করে বাড়ছে ডলারের দাম। কয়েক মাসের ব্যবধানে ডলারের দাম বেড়েছে প্রায় ৩ থেকে ৪ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দর অনুযায়ী গতকাল প্রতি মার্কিন ডলারের বিক্রি দর ছিল ৮২ টাকা। এক মাস আগেও দর ছিল ৭৮ থেকে ৭৯ টাকা। আমদানি ব্যয় যে হারে বাড়ছে সে হারে রপ্তানি আয় বাড়ছে না। রেমিট্যান্স প্রবাহেও চলছে ধীরগতি। ফলে ডলারের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এদিকে দাম নিয়ন্ত্রণে প্রচুর ডলার বিক্রি করেও দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের শুরু থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ২০টি ব্যাংকের কাছে ৫৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপরও প্রায় প্রতি সপ্তাহেই ডলারের দাম বাড়ছে। গত বৃহস্পতিবার প্রতি ডলারের দাম ছিল ৮১ টাকা ৬০ পয়সা। আর গতকাল তা বাংলাদেশ ব্যাংকেই বিক্রি হয়েছে ৮২ টাকা। অন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকে গতকাল প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ৮২ দশমিক ৫০ টাকায়। এ ছাড়া কার্ব মার্কেটে আরও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে ডলার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে বন্যা পরিস্থিতির কারণে যে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছিল তা মেটাতে খাদ্য আমদানি বাড়ানো হয়েছে। অন্য পণ্যের আমদানিও বেড়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। এতে সামগ্রিকভাবে আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। ফলে ডলারের দাম বেড়েই চলছে। ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি ব্যয় কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এ কথা বলা যাবে না। তিনি বলেন, তবে দাম যেহেতু অব্যাহতভাবে বাড়ছে তাই আমদানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানি আয় বাড়ানো প্রয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে এক হাজার ৮৫২ কোটি ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার এলসি খোলা হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি। এ সময়ে এলসি নিষ্পত্তি বেশি হয়েছে ২৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অথচ এ সময় রপ্তানিতে মাত্র ৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এদিকে টানা দুই অর্থবছর রেমিট্যান্স কমার পর অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ। গত অর্থবছর আমদানিতে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির বিপরীতে রপ্তানি বেড়েছিল মাত্র ১ দশমিক ৭২ শতাংশ। আর রেমিট্যান্স কমেছিল ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ফলে ডলারের দাম অব্যাহতভাবে বাড়ছে। এদিকে ডলারের বাজারে বাড়তি চাপ সামলাতে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকের চাহিদার বিপরীতে ৫৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরমধ্যে শুধু বুধবার বিক্রি করা হয় ছয় কোটি ডলার। তবে গত অর্থবছরের প্রায় পুরো সময়টাই ডলারের দর ছিল স্থিতিশীল। পুরো বছর ডলারের বাজার তেমন একটা উঠা-নামা করেনি। অথচ চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডলারের দর বাড়ছে অব্যাহতভাবে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১৫ সালের এ সময়ের তুলনায় ২০১৬ সালে ডলারের দাম ছিল নিম্নমুখী। আন্তব্যাংকে ২০১৫ সালের জুলাই মাস জুড়ে প্রতি ডলার ৭৮ টাকা ৯২ পয়সা বিক্রি হয়। পরের বছরের একই সময়ে তা কমে গিয়ে হয়েছে ৭৮ টাকা ৬৫ পয়সায়। আর ২০১৪ সালের এ সময়ে ডলার ছিল ৭৭ টাকা ৬৬ পয়সা। ফলে ২০১৫-১৬ অর্থবছর বাজার থেকে ৪১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার কিনতে হয় বাংলাদেশ ব্যাংককে। সে সময় বাজারে কোনো সংকট না থাকায় ডলার বিক্রি করতে হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা থাকতে হয়। এক্ষেত্রে সংকট হলে ডলার ছাড়বে। আর দাম পড়ে গেলে ডলার কিনে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক।

Share Button







ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT