Main Menu

ব্যবসাবান্ধব পরিবেশে নিশ্চিত করা বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব

Business

বিভিন্ন  দেশের ব্যবসা পরিস্থিতি কতখানি ব্যবসাবান্ধব সে বিষয়ে বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। কোন দেশে  ব্যবসা করা কতটা কঠিন অথবা সহজ সে বিষয়টিই মূলত এ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনের ১০টি মূল সূচক হলো, ব্যবসা শুরু, অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতি, বিদ্যুতের প্রাপ্যতা, সম্পত্তি নিবন্ধন, ঋণের প্রাপ্যতা, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, কর পরিশোধ, বৈদেশিক বাণিজ্য, চুক্তির বাস্তবায়ন ও অসচ্ছলতা দূরীকরণ। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১০টি সূচকের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রাপ্যতায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। বিদ্যুৎ প্রাপ্যতা সূচকে বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৭। গত বছরও বাংলাদেশের অবস্থান এ সূচকে একই ছিল। বাংলাদেশে শিল্প স্থাপনে বিদ্যুতের সংযোগ পেতে গড়ে সময় লাগে ৪২৮ দিন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যবসা করার পরিবেশের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। এ তালিকায় বাংলাদেশের চেয়ে ভুটানও এগিয়ে, তার অবস্থান ১০৩। অন্যান্য দেশের মধ্যে নেপাল ১০৭, শ্রীলঙ্কা ১১০, ভারত ১৩০, মালদ্বীপ ১৩৫, পাকিস্তান ১৪৪তম স্থানে রয়েছে। ব্যবসা করা সহজ করতে চলতি বছর এ অঞ্চলে সর্বোচ্চ তিনটি সংস্কার কার্যক্রম শেষ করেছে পাকিস্তান। ভারত এ বছর দুটি সংস্কার কাজ শেষ করলেও বাংলাদেশ নতুন করে কোনো সংস্কার কাজ করতে পারেনি। যে ১০টি সূচকের ভিত্তিতে দেশগুলোর র‌্যাঙ্কিং নির্ধারণ করা হয়েছে তার অন্যতম হলো কর পরিশোধ। এই ব্যাপারে বাংলাদেশের অবস্থা সবগুলো দেশের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। এই রিপোর্টটি পড়ার পর অনেক প্রশ্নের উদয় হয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির প্রধান শর্ত। এই শর্তটি বাংলাদেশে বিগত প্রায় ২ বছর হলো পূর্ণ মাত্রায় পূরণ হয়েছে। বাংলাদেশে বিগত ২ বছর হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পূর্ণ মাত্রায় বিরাজ করছে। যে দেশে কোনো মিটিং নাই, মিছিল নাই, সভা-সমিতি নাই, এমন কি সরকার বিরোধী কোনো রকম তৎপরতা নাই, সে দেশের চেয়ে ভালো ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ আর কোথায় হতে পারে? দাবী করা হচ্ছে যে, নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের স্ট্যাটাসকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে, রফতানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ সর্বকালের রেকর্ড ভেঙ্গেছে, সেখানে বাংলাদেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ থাকবে না কেন? ঋণের প্রাপ্যতা সূচকে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে কেন? অথচ ব্যাংকগুলোতে লক্ষ কোটি টাকারও বেশী নগদ অর্থ অলস পড়ে আছে। পুঁজি পাচারের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে, সেগুলো ব্যবসা-বাণিজ্যে না খাটিয়ে  অন্তত ৭০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই বিষয়গুলো সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশে তলানি থেকে বাংলােশকে  ওপরে উঠে আসতে হবে। তাহলেই প্রবাসী সহ অন্যরা বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহী হবে। এরফলে বাংলাদেশ,  এশিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্রেবিন্দুতে পরিণত হবে। যা প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে দ্রুততার সঙ্গে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে বাংলাদেশকে সাহায্য করবে।

Share Button







ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT