Main Menu

বাংলাদেশে মাদক সেবনকারীদের মধ্যে বাড়ছে এইচআইভি/এইডস

Madok

মাদকসেবীদের মধ্যে মারণব্যাধি এইচআইভি-এইডস আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে। এখনই সচেতন হতে না পারলে ভয়ঙ্কর এ রোগে আক্রান্তের হার বাড়তেই থাকবে। বাংলাদেশে এমন অনেকে আছেন যারা জানেনও না যে তারা ভয়ঙ্কর এ রোগটিতে আক্রান্ত। সংক্রামক এ রোগটি অজান্তেই আক্রান্তরা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারেই, বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি ছড়াচ্ছে ০.৭ শতাংশ হারে। অন্য দিকে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে হিলি পয়েন্টে পতিতাদের মধ্যে এটা বাড়ছে ২.৭ শতাংশ হারে। পুরান ঢাকায় ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদকসেবীদের মধ্যে এইচআইভি ৬.৪ শতাংশ। এ অবস্থায় আজ (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশে পালন হবে এইডস দিবস।

এইচআইভি-এইডস আক্রান্তের সংখ্যা কম এসব কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার মতো কোনো সুযোগ নেই। শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সী প্রায় ১২ হাজার মানুষ রোগটিতে আক্রান্ত। এর মধ্যে বয়স্ক মানুষই রয়েছেন প্রায় ১১ হাজার। ১৫ বছর থেকে বেশি বয়সী নারী প্রায় চার হাজার। ১৫ বছরের বেশি বয়সী আক্রান্ত পুরুষের সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত হাজার।

রোগটি যে কেবল অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের কারণে হয়ে থাকে তা এখন আর শতভাগ সত্য নয়। রোগটি নানাভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বেশ কয়েক বছর পুরান ঢাকার মাদক ব্যবহারকারী বিশেষ করে যারা একই সিরিঞ্জের মাধ্যমে গ্রুপে বিভক্ত হয়ে রক্তনালীতে প্যাথেডিনের মতো মাদক নিয়ে থাকেন তাদের মধ্যে রোগটি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাচ্ছে। দিন যত যাচ্ছে এইচআইভি বাংলাদেশে ভীতিকর একটি রোগ হিসেবে ছড়িয়ে পড়ছে। গ্রামেও যে একেবারে নেই তাও বলা যাবে না এখন আর। তবে রোগটি নিয়ে চলছে সরকারি বা বেসরকারি সব পর্যায় থেকে কঠোর গোপনীয়তা। আক্রান্তরা কেউ কখনোই প্রকাশ করেন না যে তারা এইচআইভিতে আক্রান্ত। অবশ্য বাংলাদেশের রক্ষণশীল সমাজের কারণেই ঘটনা প্রকাশ করা হয় না। এখনো সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, অনিরাপদ অথবা অবৈধ যৌনতার কারণেই রোগটি হয়ে থাকে। ফলে আক্রান্তের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে অথবা আক্রান্ত অথবা তার পরিবার একঘরে হয়ে পড়তে পারে। অনেকেই রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন সংক্রমিতদের সাথে চললে অথবা একসাথে খেলে এমন ধারণা পোষণ করেন। এ কারণে কঠোর গোপনীয়তার মাধ্যমে এইচআইভি-এইডস রোগী অথবা তারা সমাজে নিজেদের প্রকাশ করেন না। অপর দিকে এখন এটা শুধু চিকিৎসা বিজ্ঞানের সমস্যা নয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং নৈতিক মূল্যবোধের সমস্যা হিসেবেও দেখা দিয়েছে। অথনৈতিকভাবে ব্যক্তি অথবা সমাজ পিছিয়ে পড়ছে আক্রান্তদের নিয়ে। তারা আর কর্মক্ষম থাকেন না। তদুপরি তাদের চিকিৎসার জন্য ব্যয় হয় প্রচুর। সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে থাকে চিকিৎসা ও ওষুধ।

রাষ্ট্রপতির বাণী : রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ বলেছেন, এইডসের সহজলভ্য এবং মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা প্রদানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

‘বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে গতকাল এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আজ ১ ডিসেম্বর সারা দেশে বিশ্ব এইডস দিবস পালিত হচ্ছে।

বৈষম্যহীন এবং মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান নিশ্চিতকরণের অঙ্গীকার নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এ দিবস উদযাপিত হচ্ছে জেনে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, এইডসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৮৮ সাল থেকে ‘বিশ্ব এইডস দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। ইউএন-এইডসের তথ্য মতে, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩৬৭ মিলিয়ন মানুষ এইডসে আক্রান্ত এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মানুষ এ মারণঘাতী রোগে মৃত্যুবরণ করেছে। এখনো এ মারণঘাতী রোগের কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। বর্তমানে প্রচলিত চিকিৎসা ব্যয়বহুল এবং আমৃত্যু এ চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়। এ প্রেক্ষাপটে এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্য আমার অধিকার’ সময়োপযোগী ও যথার্থ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশে সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার ০.০১ ভাগ এর নিচে, এটি একটি স্বস্তির বিষয়। তবে ভৌগোলিক অবস্থান, অসচেতনতা, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অনিয়ন্ত্রিত আচরণ ও ভ্রান্ত ধারণার জন্য এ দেশে এইডসের ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান।

তিনি বলেন, তাই সচেতনতা বৃদ্ধি, কুসংস্কার দূরীকরণ ও মানুষের আচরণ পরিবর্তনে সরকারি কার্যক্রমের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। এর পাশাপাশি দেশের প্রচলিত ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক অনুশাসনগুলো মেনে চলতে হবে।

এইডস প্রতিরোধ ও নির্মূলে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, দাতাসংস্থা, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এইডস নির্মূলে সরকারি কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও অন্য সংস্থাগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রিত জীবনব্যবস্থা, মাদক বর্জন, নৈতিকতার উন্নয়ন, ধর্মীয় অনুশাসন ও যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমেও আমরা বাংলাদেশকে এইডস থেকে ঝুঁকিমুক্ত করতে পারি।’

বিশ্ব এইডস দিবস-২০১৭ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্য আমার অধিকার’।

সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ এইডস নির্মূল করতে সক্ষম হবে আশা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) এইচআইভি-এইডস বিষয়ক লক্ষ্য অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে এইডস রোগ নির্মূল করার জন্য জাতিসঙ্ঘের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সফলতা কামনা করে শেখ হাসিনা বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার ০.০১% এর নিচে, যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি-৬) অর্জনের মধ্য দিয়ে এইডস নির্মূলে আমরা আমাদের দৃঢ়তা প্রকাশ করছি।

বাণীতে তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্বাস্থ্য খাতে রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সক্ষম হবো।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব এইডস দিবস উদযাপিত হচ্ছে জেনে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

Share Button







ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT