Main Menu

সনদ থাকলেও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম আসে না অজিত মধুর

agailjhara

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া, বরিশাল: পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর ডাকে ছুটেছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। সংগ্রহে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং ক্যাম্প থেকে দেওয়া পাঁচটি সনদপত্র। তবুও সরকারের তালিকাভুক্ত হতে পারেননি বরিশালের মুক্তিযোদ্ধা অজিত মধু (৬০)।

তার অভিযোগ, স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরোলেও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কতিপয় কর্মকর্তার দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় তালিকাভুক্ত হতে পারেননি তিনি। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার পশ্চিম বাগধা গ্রামের মৃত লক্ষ্মীকান্ত মধুর ছেলে মুক্তিযোদ্ধা অজিত মধু।

এই মুক্তিযোদ্ধার সংগ্রহে রয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের যুব শিবির নিয়ন্ত্রণ পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মো. ইউসুফ আলী (এমএনএ) স্বাক্ষরিত সনদ, ভারতে প্রশিক্ষণ নেওয়া হাসনাবাদের টাকি ক্যাম্পের সনদ, প্রতাপপুর টাকি ক্যাম্পে মেজর এমএ জলিল স্বাক্ষরিত সনদ, ৯নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর এমএ জলিল স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ আর্মড ফোর্সেস সনদ, একই সেক্টর কমান্ডার এমএ জলিলের রিকমান্ডেশন কার্ড।

আক্ষেপ করে অজিত মধু জানান, ‘তালিকাভুক্তির জন্য ২০ হাজার টাকা দাবি করেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কতিপয় নেতারা। তাদের দাবিকৃত টাকা দিয়ে তিনি নাম লেখাতে অস্বীকার করায় আজও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম ওঠেনি তার। তবে এজন্য কোনো আফসোস নেই জানিয়ে মধু বলেন, ‘তালিকায় কোনদিন নাম না উঠলেও টাকা দিয়ে তিনি তালিকাভুক্ত হবেন না।’

২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের ছুটিতে বাড়ি এসে ইতিহাসের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সংখ্যালঘু খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী অজিত মধু জানান যুদ্ধ দিনের স্মৃতি। তিনি জানান, ১৯৭১ সালে বরিশাল পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র অবস্থায় দেশে যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে। এরইমধ্যে জাতির জনকের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ শুনে নিজেকে আর দমিয়ে রাখতে পারেননি। স্ত্রী ও স্বজনদের কথা ভুলে দেশমাতৃকার টানে ওই বছরের আগস্ট মাসে একই বাগধা গ্রামের দেবদাস রায়, উত্তর বাগধা গ্রামের লাল মিয়া মোল্লা, সাবেক মাস্টার সুলতান আহমেদ, বর্তমান উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আইউব আলী মিয়াসহ ১১জনে প্রশিক্ষণের জন্য যশোরের গঙ্গারামপুর-মল্লিকপুর গিয়ে ক্যাম্প কমান্ডার ওয়াদুদের মাধ্যমে ভারতে যান তারা।

ভারতের হাসনাবাদের টাকি ক্যাম্পের ট্রেনিং সেন্টারে কমান্ডার কবির হোসেনের কাছে অস্ত্র প্রশিক্ষণসহ যুদ্ধের বিভিন্ন কলাকৌশল রপ্ত করেন। প্রশিক্ষণের সময় ৯নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর এমএ জলিল প্রায়ই তাদের ক্যাম্পে যাতায়াত করতেন। সেখান থেকে আরও উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য ঊড়িষ্যা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যান। সেখানে ভারতীয় বশোংদ্ভুত একজন শিখ সম্প্রদায়ের কমান্ডারের কাছে প্রশিক্ষণ নেন তারা। প্রশিক্ষণ শেষে মল্লিকপুরের ক্যাম্প কমান্ডার ওয়াদুদ তার ক্যাম্পে অজিত মধুসহ ১৩ জন প্রশিক্ষিত যোদ্ধাকে নিয়ে যান।

পরবর্তীতে মল্লিকপুর থেকে তাদের ১৩ জনকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বরিশাল সদরে। বরিশালে এসে ক্যাপ্টেন বেগ ও ক্যাপ্টেন ওমরের নেতৃত্বে প্রতাপপুর থেকে বরিশাল সদরে বর্তমান ওয়াপদা এলাকার সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তিনি। যুদ্ধ জয়ের বিজয় পতাকা নিয়ে ২৫ ডিসেম্বর বাড়িতে ফিরে আসেন।

পরবর্তীতে জীবিকার প্রয়োজনে চলে যান ঢাকায়। একসময় তিতাস গ্যাসের টেকনিশিয়ান পদে চাকরি নেন। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন সাভার কার্যালয়ে। বর্তমানে স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম চিন্তিত আর্থিক টানাপোড়েনে থাকা মধু।

সংখ্যালঘু মুক্তিযোদ্ধা অজিত মধুর স্কুল পড়ুয়া ছেলে সুমনের দাবি ‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক’ হওয়ার কারণে বঞ্চিত করা হয়েছে তাদের। অজিত মধুর স্ত্রী সুকৃতি মধু বলেন, ‘গত ১১ বছর আগে স্বামীর নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্তির জন্য স্থানীয় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের নেতাদের কাছে ঘুরে ব্যর্থ হয়েছি। গত দু’বছর আগে স্বামীর সহযোদ্ধা বর্তমান উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আইউব আলী মিয়ার কাছে একাধিকবার ধরনা দিয়েও কোনো কাজ হয়নি।’

কমান্ডের কতিপয় নেতারা নাম তালিকাভুক্তির জন্য ২০ হাজার টাকা লাগবে বলে তাদের জানিয়ে দেন। তাদের দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও আজও তার স্বামীর নাম তালিকাভুক্ত হয়নি।

নিরুপায় হয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে ছুটে যান এ দম্পতি। সমাজসেবা কর্মকর্তা সুশান্ত বালা জানান, অজিত মধুর সব কাগজপত্র দেখে তার আবেদনের সুপারিশ করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে তদবিরের অভাবে এখনও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ ব্যক্তিগত উদ্যোগেই তিনি অনলাইনে আবেদন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

অর্থ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে আগৈলঝাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আইউব আলী মিয়া বলেন, অজিত মধু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। অনলাইন আবেদনের যাচাই বাছাইয়ের পর তিনি তালিকাভুক্ত হতে পারবেন।

Share Button





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*



ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT