Main Menu

এবার ফেসবুকে আবেদন পেয়ে সাড়া দিচ্ছেন পিরোজপুরের ডিসি

file-2

সাব্বির মোল্লা। এ বছর পিরোজপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করেছে। তার ইচ্ছা ওই কলেজেই সে অনার্স পড়বে। ইচ্ছা থাকলেও বার বার তাকে তাদের অভাবের সংসারের কথা ভাবতে হচ্ছে। কারণ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবা রিকশাচালক। তিনি কি পারবেন ছেলেকে অনার্স পড়াতে। একদিকে এসব চিন্তা, অন্যদিকে অনার্স ভর্তির সময় শেষের দিকে। সব মিলে মহাবিপাকে সাব্বির।

একপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসকের কাছে ভর্তির জন্য সহযোগিতার আবেদন করবে সে। কিন্তু জেলা প্রশাসকের অফিসে যাওয়ার সাহস হচ্ছিল না তার। তাই বুদ্ধি করে ফেসবুকের আশ্রয় নেয় সে। এরপর ডিসি পিরোজপুর ফেসবুক আইডির ইনবক্সে ভর্তির জন্য সহযোগিতার আবেদন করে সে। সেই আবেদন নজরে আনেন জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম শেখ।

এরপর সাব্বির মোল্লাকে ডাকা হয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। সেখানে তার ভর্তির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। সব প্রমাণ পাওয়ার পর গত ৭ নভেম্বর জেলা প্রশাসক তার হাতে ৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। শুধু তাই নয়, ভর্তির টাকা কম নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক কলেজ অধ্যক্ষকে ফোন করে অনুরোধ করেন। তিনিও জেলা প্রশাসককে কম নেয়ার আশ্বাস দেন।

IN

সেই টাকায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার অর্থনীতি বিভাগে অনার্সে ভর্তি হবে সাব্বির মোল্লা।

সে জানায়, ফেসবুকের মাধ্যমে আবেদন পেয়ে জেলা প্রশাসক তাকে সহযোগিতা করেছেন, এটি এখনো তার কাছে স্বপ্নের মতো। সে নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারছে না এ যুগে এটা সম্ভব।

সাব্বির জানায়, স্যার (ডিসি) যখন আমার হাতে চেকটা তুলে দিচ্ছিলেন তখনই মনে হয়েছে উনি খুব ভালো মানুষ। স্যার আমার সঙ্গে অনেকক্ষণ গল্প করেছেন। আমাকে সাহস দিয়েছেন পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার। স্যারের সাহসে আমার সাহস এবং ইচ্ছাশক্তি অনেকগুণ বেড়ে গেছে।

সাব্বির জানায়, আমার বাবা গত ৩০ বছর ধরে রিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছে। এজন্য বড় ভাই সাদ্দাম মোল্লা পড়ালেখা করতে পারেনি। সে এখন রাজমিস্ত্রির কাজ করে। অভাবের সংসারে পড়ালেখা না করতে পেরে বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে অনেক আগেই। অভাবের সংসারে ছোট ভাই আসিক মোল্লার পড়ালেখা প্রায়ই বন্ধ হচ্ছিল। তাকে সাহস দিয়েছি অভাবের মাঝেও এগিয়ে চলার। এবার সে এসএসসি পরীক্ষা দেবে।

এ ব্যাপারে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম শেখের  সঙ্গে কথা হয়। জেলার অনেক বিষয়েই কথা বললেন তিনি।

এর মাঝে সাব্বির মোল্লার বিষয়টিও ছিল। তিনি বলেন, সাব্বিরের আবেদনটি যখন ইনবক্সে দেখলাম ভাবলাম ছেলেটির ইচ্ছা আছে লেখাপড়া করার। তাকে অফিসে ডাকার ব্যবস্থা করলাম। যদিও তার সমস্যাগুলো সে তার আবেদনপত্রেই উল্লেখ করেছিল, তবুও তার পরিবারের ব্যাপারে জানতে চাইলাম। দেখলাম অভাবের সংসারেও এগিয়ে যেতে চায় সে। ভাবলাম তাকে সহযোগিতা করা উচিত। তাই সামান্য সহযোগিতা করেছি।

তিনি বলেন, যারা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে না তারা ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। ইনবক্সে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানায়। বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতাও চান অনেকে। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করি সেগুলোর সমাধান করতে।

তিনি আরও জানান, ফেসবুক এখন ডিজিটাল অভিযোগ বক্স। জেলা প্রশাসন শুধু নয়, সব উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা ফেসবুকের সঙ্গে জড়িত থাকায় অনেক তথ্য সহজেই জানতে পারছেন তারা। জনগণের খুব কাছে থাকার অন্যতম একটি মাধ্যম এখন ফেসবুক।ফেসবুককে ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

Share Button







ADVERTISEMENT

Contact Us: 8 Offtake Street, Leppington, NSW- 2569, Australia. Phone: +61 2 96183432, E-mail: editor@banglakatha.com.au , news.banglakatha@gmail.com

ADVERTISEMENT